Advertisement
E-Paper

দিনভর মোবাইলে স্ক্রল করতেই মন চায়, কী ভাবে এই নেশা কাটাবেন? ছোটদের জন্যও রইল কিছু উপায়

মোবাইলে একটানা স্ক্রল করার অভ্যাস নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। কি ভাবে তা কাটিয়ে উঠবেন? রইল কিছু পরামর্শ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৩
Alternatives to mobile scrolling involve some mindful and creative activities

মোবাইল স্ক্রল করার নেশা কাটাবেন কী উপায়ে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মোবাইলে আটকে চোখ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে স্ক্রল করা চলছে। মোবাইলেই মগ্ন এখনকার প্রজন্ম। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হোক, খেতে বসে বা সফরের সময়ে হোক, ‘রিল’ বা ভিডিয়ো দেখায় বিরাম নেই। ছোটরাও তার বাইরে নয়। আর এই অভ্যাসের হাত ধরেই ঘনাচ্ছে বিপদ। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সারা ক্ষণ মোবাইলে স্ক্রল করে ‘রিল’ দেখার অভ্যাস বা ডুম-স্ক্রলিংয়ের নেশা সর্বনাশা হয়ে দেখা দিচ্ছে। তা যেমন একদিকে হাইপারটেনশনের কারণ হয়ে উঠছে, তেমনই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ দিকে, স্ক্রল করার নেশা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না কিছুতেই। সামান্য বিরতি পেলেই মন স্ক্রল করতে চায়। কী ভাবে এই অভ্যাস থেকে অব্যাহতি পাবেন?

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ‘আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিয়োলজি’ –র তথ্য বলছে, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটানা মোবাইলে স্ক্রল করতে থাকলে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়বে। এতে মেলাটোনিন নামক হরমোনের তারতম্য দেখা দেয়। এই হরমোনই ‘স্লিপ সাইকেল’ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে মস্তিষ্কে। ছোটদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস বুদ্ধির বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেবে। পাশাপাশি, অবসাদও বাড়তে থাকবে।

স্ক্রলিং-এর বিকল্প কী হতে পারে?

শুরুতে সম্ভব হবে না। ধীরে ধীরে এই নেশার কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। বাড়ির ছোটদেরও সেই মতোই অভ্যাস করাতে হবে।

ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। সমাজমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন মনে উত্তেজনা তৈরি করে। তখন বার বার মোবাইল দেখতে ইচ্ছে হবে। আর সমাজমাধ্যমের পাতা খোলা মানেই আপনি ‘রিল’ অপশনে যাবেনই।

খাওয়ার আগে অথবা ঘুমোনোর এক ঘণ্টা আগে ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখুন। সম্ভব হলে বন্ধ করে দিন। অনেক সময়ে পেশার খাতিরে তা করা যায় না ঠিকই, তবু জরুরি কাজ ছাড়া ফোন দেখবেন না। ছোটদের ক্ষেত্রে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে ফোন হাত থেকে নিয়ে নিতে হবে।

ফোনের সেটিংসে গিয়ে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে প্রতি দিনের জন্য ৩০ মিনিটের লিমিট সেট করে দিন। এর বেশি সেখানে সময় কাটাবেন না।

লেখার অভ্যাস করুন। যে সময়টাতে মোবাইল স্ক্রল করছেন, সে সময়টাতে সারা দিন কী কী করলেন তা লিখে ফেলুন। আগামী দিনে আপনার পরিকল্পনা কী, সেটিও লিখে রাখুন।

জ়ুম্বা ডান্স খুবই ভাল শরীরচর্চার অভ্যাস। মোবাইলে স্ক্রল না করে, বরং পছন্দের গান চালিয়ে দিন। তার তালে তালে নাচার চেষ্টা করুন। ল্যাটিন আমেরিকার সালসা ও অ্যারোবিকের যুগলবন্দিতে হয় জ়ুম্বা। পদ্ধতি কোনও প্রশিক্ষকের থেকে শিখে নিলে ভাল। না হলে ইন্টারনেটে খুঁজলেও কিছু পদ্ধতি পেয়ে যাবেন। এই নাচ করলে আপনার একই সঙ্গে সারা শরীরের ব্যায়াম করা হয়। শরীরের প্রতিটি পেশির স্ট্রেচিং হবে। এতে মোবাইল দেখার নেশাও কমবে, পাশাপাশি শরীরচর্চাও হয়ে যাবে।

যে শিশু ইতিমধ্যেই ফোনে ডুবে আছে, তার কাছ থেকে এক ঝটকায় ফোন কেড়ে নিয়ে মূলস্রোতে ফেরানোর চেষ্টা না করাই ভাল। হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই শিশুর দৈনিক ফোন ব্যবহারের সময়ে লাগাম টানুন।

গল্পের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলুন। আপনি নিজেই পড়ে শোনান। এতে সন্তানেরও ভাল লাগবে, আপনারও বই পড়ার পুরনো অভ্যাস ফিরে আসবে।

ক্লে মডেলিং, ব্রেনভিটা, দাবা, সুদোকুতে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। এই ধরনের খেলায় স্মৃতিশক্তি, মেধা বাড়ে। আপনিও রিল না দেখে, বরং ব্রেন-গেম খেলার চেষ্টা করুন।

ছবি আঁকার অভ্যাস তৈরি করুন। নিজের জন্য ও ছোটদের জন্য। শুরুতে হয়তো মন বসবে না। ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। নানা রকম রঙের ব্যবহার করুন। ইন্টারনেটে এখন নানা রকম হাতের কাজের ভিডিয়ো পাওয়া যায়। সেগুলি দেখে অভ্যাস করুন। তখন দেখবেন, সে কাজটিই করতে ইচ্ছে করবে। মোবাইল দেখার ইচ্ছা কমে যাবে।

Smartphone Parenting Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy