শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে মা-বাবারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক সময়ে গলায় আঙুল ঢুকিয়ে খাবার বার করার চেষ্টা করেন। এতে কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। আবার সদ্যোজাত শিশুকে কোলে শুইয়ে ঝিনুক বা চামচ দিয়ে দুধ খাওয়ানোর সময়ে বেকায়দায় তাদের নাকে দুধ ঢুকে যায় বা গলায় আটকে যায়। তা থেকে হয় চরম বিপদ। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত উদ্বেগে এমন কিছু করা ঠিক নয়, যা বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে।
গলায় খাবার আটকে যাওয়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের। তাড়াহুড়ো করে খাবার খেতে গিয়ে বা খাওয়ার সময় কথা বলতে গিয়ে দম আটকে খুব কষ্টকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। খাবার শুকনো ও শক্ত হলে গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই ছোট ছোট গ্রাসে শিশুকে খাবার খাওয়াতে হবে। এই বিষয়ে শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, চোকিং বা শ্বাসনালিতে তরল খাবার আটকে গেলে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা হয়। খুব ছোট শিশু দুধ বা তরল খাবার খেতে গিয়ে দম আটকে গেলে তাকে মাথা কিছুটা নিচু করে উপুড় করে শুইয়ে পিঠে চাপড় মারলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে। কিন্তু শিশু যদি খুব কাশতে থাকে এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কী কী করবেন?
১)‘ব্যাক ব্লো’ খুব কার্যকরী পদ্ধতি। শিশুকে উপুড় করে শুইয়ে দিন। ১ বছর বা তার কম বয়স হলে আপনার হাতের উপরেই উপুড় করে শুইয়ে দিন। মাথা যেন নীচে থাকে। এ বার হাত দিয়ে শিশুর দুই কাঁধের মাঝখানে ৫ বার হালকা কিন্তু জোরালো চাপ দিন।
২) ‘চেস্ট থ্রাস্ট’ আরও একটি পদ্ধতি। যদি উপুড় করে শুইয়ে খাবার বার না হয়, তা হলে সাবধানে শিশুকে চিত করে শুইয়ে দিন। আপনার দুই আঙুল শিশুর বুকের মাঝখানে রেখে ৫ বার আল্তো চাপ দিন। যত ক্ষণ না আটকে থাকা খাবারটি বার হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে চালিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
৩) শিশুর বয়স যদি ১ বছরের বেশি হয়, তা হলে আরও একটি পদ্ধতি আছে। শিশুর পিছনে হাঁটু মুড়ে বসুন। দুই হাত দিয়ে শিশুর পাঁজরের নীচে ও নাভির ঠিক উপরে চেপে ধরুন। এ বার ভিতরের ও উপরের দিকে জোরালো ভাবে চাপ দিন। এটি খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। একে বলে হেইমলিচ ম্যানিউভার। ইউটিউব বা ইন্টারনেটে খুঁজলে এমন ভিডিয়ো পাওয়া যায়। যা থেকে সহজেই শিখে নেওয়া যেতে পারে এই পদ্ধতি। তবে না পারলে চেষ্টা করবেন না। অতি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে শিশুকে।
৪) শিশু যদি কাশতে পারে, তবে তাকে জোরে কাশতে বলুন। কাশির মাধ্যমে অনেক সময় আটকে থাকা খাবার বেরিয়ে আসে।
কী কী করবেন না?
১) শিশুর গলায় আঙুল ঢুকিয়ে খাবার বার করার চেষ্টা করবেন না। এতে খাবারটি আরও গভীরে চলে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
২) শিশু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার পিঠে জোরে চাপড় মারবেন না। এতে খাবার আরও নীচে নেমে যাবে।
৩) খাবার আটকে থাকা অবস্থায় কখনওই জল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এতে জল ফুসফুসে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
৪) শিশুকে সব সময়ে বসিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। শোয়া অবস্থায় বা দৌড়োদৌড়ি করার সময়ে খাবার মুখে দেবেন না।
৫) বাদাম, আঙুর, পপকর্ন বা শক্ত লজেন্স খাওয়ার সময় নজর রাখুন।
৬) শিশু যদি নিজের হাতে খেতে পারে তা হলে ছোট চামচ দিন, যাতে অল্প খাবার মুখে তুলতে পারে। ছোটরা নিজে হাতে খেতে শিখলেও একজন অভিভাবকের পাশে বসে নজর রাখা জরুরি।