সিরিজে আরও একবার প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে ভারতকে প্রবল চাপে ফেলে দিল অস্ট্রেলিয়া। যার মানে, টেস্টের শেষ তিন দিন ম্যাচে টিকে থাকতেও প্রাণপণ লড়াই চালাতে হবে ভারতকে।
স্টিভ স্মিথের টস জেতাটা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালেই পিচ আর পরিবেশ দেখে আমার মনে হয়েছিল, এখানে যারা প্রথম ব্যাট করবে বিশাল সুবিধা পাবে। সেটাই হল। অস্ট্রেলিয়া টস জেতার সুযোগটা দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করে গেল। আলাদা করে উল্লেখ করতে চাই ডেভিড ওয়ার্নারের। প্রথম দিন কী ব্যাটিংটাই না করল! ওর দাপট দেখে আমার সেরা ফর্মের সহবাগকে মনে পড়ছিল। দু’জনেরই পা খুব বেশি নড়াচড়া করে না। কিন্তু হাত আর চোখের সমন্বয় অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। সঙ্গে কোন বলটা কী ভাবে মারবে, সেই শট নির্বাচনের ব্যাপারে মাথাটা একদম পরিষ্কার। এই দু’টো ব্যাপার মিলে ওরা এত বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান।
গত এক বছরে ওয়ার্নার আর স্টিভ স্মিথের উত্থানটা অবাক করা। দু’জনে এতটাই উন্নতি করেছে যে ক্রিকেট-বিশ্ব ওদের আলাদা করে সমীহ করছে আজকাল। দু’জনেই শুরু করেছিল টি-টোয়েন্টি প্লেয়ার হিসাবে। কিন্তু দ্রুত সব ধরনের ফরম্যাটে মানিয়ে নিয়েছে। ওয়ার্নাররা দেখিয়ে দিয়েছে, নিষ্ঠা থাকলে, পরিশ্রম করার ইচ্ছে থাকলে আর ঠিকঠাক প্র্যাকটিস করলে ক্রিকেটের সব ধরনের ফরম্যাটেই মানিয়ে নেওয়া যায়। ক্রিকেটে একটা কথা খুব শোনা যায়, কেরিয়ারের শুরুতে বেশি টি-টোয়েন্টি না খেলাই ভাল। তাতে নাকি টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্কিলগুলো সে ভাবে তৈরি হতে পারে না। ওয়ার্নার আর স্মিথ কিন্তু নিজেদের ব্যাটিং দিয়ে সেই চালু ধারণাটা ভেঙে দিয়েছে।
ভারতের জন্য আবার সিডনি টেস্টের তৃতীয় দিনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আজ ভারত কী ভাবে ব্যাটিং করে সেটাই বলে দেবে এই টেস্টে ওরা লড়াইয়ে থাকবে কি না। ভারতীয় বোলাররা আরও একবার দলকে ডোবাল। সিরিজে এই নিয়ে চারবার অস্ট্রেলিয়াকে বোর্ডে পাঁচশোর বেশি রান তুলতে দিল ওরা। এই বোলিং ব্যর্থতা কিন্তু বারবার ব্যাটিং বিভাগকে মারাত্মক চাপে ফেলে দিয়ে ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন করে দিচ্ছে। এই টেস্ট শুরুর আগেই কথাটা লিখেছিলাম। গত দু’দিন ভারতীয় বোলারদের দেখার পর তো একদম নিঃসন্দেহ হয়ে গিয়েছি, বিদেশের মাঠে উইকেটে ঘাস না থাকলে ভারতের উচিত দু’জন স্পিনার খেলানো। বিরাট কোহলিকে ভবিষ্যতে এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন বিরাটের ক্যাপ্টেন্সি আমার অসাধারণ লাগল। ওকে একটু সময় দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে ও সব ধরনের ক্রিকেটেই খুব ভাল নেতা হয়ে উঠবে। তবে ওর হাতে এই মুহূর্তে যে স্পিনাররা আছে তাদের ঘরের মাঠের বাইরে উন্নতি করা দরকার। বিদেশের পিচ আর পরিবেশে স্পিনারদের আরও ধারালো করে তোলার একটা রাস্তা বিরাটকে খুঁজে বের করতে হবে। সেটা না পারলে কিন্তু কপালে দুঃখ আছে। যে কোনও প্রথম সারির টেস্ট দলের দিকে তাকালে দেখবেন, সেরা সময়ে টিমে সর্বদা এক জন বা তার বেশি বড়মাপের স্পিনার খেলেছে।
বিরাটকেও বিষয়টা মাথায় রেখে এগোতে হবে। তার জন্য ওকে অশ্বিনকে বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে ফেলতে বাধ্য করাতে হবে। তা হলে অশ্বিন ম্যাচ উইনার হয়ে উঠতে পারবে, যার উপর ক্যাপ্টেন নিশ্চিন্তে ভরসা রাখতে পারে।
সিডনির স্কোর
অস্ট্রেলিয়া
প্রথম ইনিংস
(আগের দিন ৩৪৮-২-এর পর)
ওয়াটসন ক অশ্বিন বো শামি ৮১
স্মিথ ক ঋদ্ধিমান বো উমেশ ১১৭
মার্শ ক ঋদ্ধিমান বো শামি ৭৩
বার্নস ক রাহুল বো শামি ৫৮
হাডিন ন আ ৯
হ্যারিস ক অশ্বিন বো শামি ২৫
অতিরিক্ত ১৩
মোট ৫৭২-৭ (ডিক্লেয়ার)।
পতন: ২০০, ২০৪, ৪০০, ৪১৫, ৫২৯, ৫৪৬, ৫৭২।
বোলিং: ভুবনেশ্বর ৩৪-৫-১২২-০, উমেশ ২৭-৫-১৩৭-১,
শামি ২৮.৩-৩-১১২-৫, অশ্বিন ৪৭-৮-১৪২-১, রায়না ১৬-৩-৫৩-০।
ভারত
প্রথম ইনিংস
মুরলী ক হাডিন বো স্টার্ক ০
রাহুল ন আ ৩১
রোহিত ন আ ৪০
অতিরিক্ত ০
মোট ৭১-১।
পতন: ০।
বোলিং: স্টার্ক ৬-২-১৭-১, হ্যারিস ৭-১-১৭-০,
হ্যাজলউড ৪-১-১০-০, লিয়ঁ ৮-১-২৭-০।
ডনকে ছুঁলেন স্মিথ
বুধবার সিডনিতে একই সিরিজে পরপর চারটি টেস্টে সেঞ্চুরির রেকর্ড করলেন স্টিভ স্মিথ। ছুঁলেন স্যর ডন ব্র্যাডম্যান ও জাক কালিসকে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই তিনজনই এই রেকর্ডের অধিকারী। ব্র্যাডম্যান করেছিলেন ১৯৩১-’৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ও কালিস তাঁকে ছুঁয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০০৩-’০৪-এ। চলতি টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ফের ব্যাট করতে নামলে এই দু’জনকে টপকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে স্মিথের সামনে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করলে রিকি পন্টিংকেও টপকানোর হাতছানি স্মিথের সামনে। চার টেস্টের সিরিজে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত রানের দিক থেকে স্মিথ দ্বিতীয়। প্রথম পন্টিংয়ের (৭০৬) চেয়ে মাত্র ন’রান দূরে তিনি। ২০০৩-০৪-এ পন্টিং যা করেছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে।