সারদা তদন্তে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসা তথ্যকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সারদা তদন্তে সিবিআইয়ের করা আদালত অবমাননার মামলার শুনানির সময় মঙ্গলবার ওই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। এ দিন শিলংয়ে রাজীব কুমারকে সারদা মামলায় প্রশ্ন করে কী পাওয়া গিয়েছে তার একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট মুখ বন্ধ খামে আদালতে জমা দেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। সেই রিপোর্ট দেখেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘ওই রিপোর্টে এমন কিছু রয়েছে যা অত্যন্ত গুরুতর।”

এ দিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ তদন্তকারী সংস্থাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্টে উল্লেখ করা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা কী পদক্ষেপ করতে চান তা নিয়ে আবেদন জানাতে বলেছে। অন্য দিকে রাজীব কুমারকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার। তিন বিচারপতির বেঞ্চের অন্যতম সদস্য সঞ্জীব খন্না বলেন, ‘‘অন্য পক্ষের বক্তব্য না শুনে মুখবন্ধ খামে জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনও রায় দিতে পারে না আদালত।’’ তবে এ দিন তিন বিচারপতির বেঞ্চ  আদালত অবমাননা মামলার অন্য দুই পক্ষ— রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) এবং মুখ্য সচিবকে এখনই এই মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।

এর আগে রাজ্য সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অভিযোগ করে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশের তাদের সহযোগিতা না করা আদালত অবমাননার সমান।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ওই মামলাতেই সিবিআইয়ের দুই পুলিশ সুপার হলফনামা দিয়ে আদালতে জানিয়েছিলেন কী ভাবে রাজ্য পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর অন্যতম প্রধান আধিকারিক হিসাবে রাজীব কুমার তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। তারা অভিযোগ তোলে, রাজীব কুমার শুধু অসহযোগিতা করাই নয়, তথ্য প্রমাণও নষ্ট এবং বিকৃত করেছেন।

আরও পড়ুন: দায়িত্বে রত্না, ভোটের কাজ থেকে অপসারিত শোভন মুখ ঢেকেছেন ঔদাসীন্যে

গত ২৭ ফেব্রুয়ারির শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সিবিআই প্রধানকে একটি হলফনামা পেশ করতে নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী সিবিআই অধিকর্তা ১৫ পাতার যে হলফনামা পেশ করেন সেখানেও সারদা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন এবং তাঁর সহকারি দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের মোবাইলের কল রেকর্ড বিকৃত করার প্রসঙ্গ এসেছে।

আরও পড়ুন: ফেসবুকে ভাব হওয়া ‘বন্ধু’র সৌজন্যে ৯০ লাখ টাকা খোয়ালেন কলকাতার মহিলা

এ দিন শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সিবিআইয়ের কৌঁশুলির কাছে জানতে চান, শিলংয়ে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনারের সঙ্গে তাঁরা প্রায় পাঁচ দিন কথা বলে কী জানতে পারলেন? সেই প্রশ্নের উত্তরেই স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতির করা ওই মন্তব্য ফের অস্বস্তি বাড়াল রাজীব কুমার এবং রাজ্য পুলিশের।

(পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেবাংলায় খবরজানতে পড়ুন আমাদেররাজ্যবিভাগ।)