শেষ পর্যন্ত দলের বিধায়ক ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দলত্যাগের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শোভনের চলে যাওয়ায় তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া অন্য বিধায়কদের ক্ষেত্রে শাসক দল যা পদক্ষেপ করেছে, তাঁর ক্ষেত্রেও তা-ই করা হতে পারে। তৃণমূল নেতৃত্ব যে শোভনের দলত্যাগকে কোনও গুরুত্ব দিতে চাইছেন না, পার্থবাবুর মন্তব্যে সেই মনোভাব স্পষ্ট।

বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে বুধবার ছিল সর্বদল এবং কার্য উপদেষ্টা (বিএ) কমিটির বৈঠক। তার পরে নিজের ধরে শোভন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পার্থবাবু বলেন, ‘‘উনি তো আগেই চলে গিয়েছেন। মানে দলে থাকলেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন।’’ শোভনের দলত্যাগে কতটা ক্ষতি হল বলে মনে করেন? পার্থবাবুর জবাব, ‘‘কোনও ক্ষতিই হল না! আমি চলে গেলেও কোনও ক্ষতি হবে না! ক্ষতি হবে সে দিন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় থাকবেন না। মমতা যখন সক্রিয় আছেন, তখন আশেপাশে লতা-পাতা ওঁকে জড়িয়েই থাকতে হবে। ছেড়ে গিয়ে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। কত জনই তো গেল!’’ তবে শোভন যাতে সুস্থ থাকেন, সেই কামনাও করেছেন পাশের কেন্দ্রের বিধায়ক পার্থবাবু।

তৃণমূল বিধায়ক শোভনের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? পার্থবাবুর মতে, ‘‘দল ছেড়ে যাওয়া অন্য বিধায়কদের ক্ষেত্রে যা করা হয়েছে, এখানেও তা-ই হতে পারে। পরিষদীয় দলে আলোচনা করে ঠিক হবে।’’ এর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েক জন বিধায়কের পদ খারিজ করার জন্য তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের চিঠি দিয়েছেন স্পিকার।

বিজেপি ঠিক করেছে, তাদের প্রতীকে জয়ী ৬ জন এবং অন্যান্য দল থেকে আসা বিধায়কদেরও এ বার অধিবেশনে হাজির থাকতে বলা হবে। বিধানসভার দো’তলায় বিজেপির এখনকার পরিষদীয় ঘর ছোট। বড় ঘর দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির পরিষদীয় নেতা মনোজ টিগ্গা।