নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা শুক্রবার পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে সিবিআই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন— শুক্রবার সিবিআই দফতরে এসে শুভেন্দু দাবি করেছেন, সে টাকা তিনি নির্বাচনের কাজে খরচ করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ন’টায় শুভেন্দু পিছনের দরজা দিয়ে সিবিআই দফতরে হাজির হওয়ার পরে তাঁকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেরা করা হয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ তিনি বেরিয়ে আসেন। সিবিআইয়ের দাবি— শুভেন্দু বলেছেন, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে নাম গোপন করে কোনও এক জন তাঁকে চাঁদা দিয়েছিলেন। সেই টাকা তিনি নির্বাচনী কাজে খরচ করেছেন। এর মধ্যে আর কোনও জটিলতা নেই। সে বার তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন শুভেন্দু এবং জিতে সাংসদ হয়েছিলেন।

এর আগে তৃণমূলের অন্য মন্ত্রী-সাংসদরা সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার পরে প্রায় গোটা দিন ধরে তাঁদের জেরা করা হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু এ দিন দুপুরেই বেরিয়ে আসেন। এর আগেও লোকচক্ষুর আড়ালে জেরা পর্ব সেরে নিতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। ১১ সেপ্টেম্বর ইডি-র অফিসে তাই সকাল সাড়ে আটটায় হাজির হয়ে যান তিনি। কিন্তু বেরনোর সময় সাংবাদিকদের সামনে পড়ে যান। সিবিআই জানিয়েছে, এ দিনও সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ তিনি পিছনের গেট দিয়ে তাদের দফতরে পৌঁছন। বেরিয়েও যান পিছনের গেট দিয়ে। এর আগে দু’বার ডেকে পাঠানোর পরেও আসেননি শুভেন্দু।

লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যে এসে স্টিং অপারেশন চালান ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথু। সিবিআই সূত্রের খবর, শুভেন্দুর সঙ্গে ম্যাথুর যোগসূত্র ছিলেন ইকবাল। কলকাতা থেকে দলের এক যুবনেতার সঙ্গে গাড়িতে করে হলদিয়ায় গিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করে ম্যাথু তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা দেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। সিবিআই জানিয়েছে, অসম্পাদিত ফুটেজে ওই যুবনেতার ছবিও রয়েছে।

সিবিআইয়ের দাবি, ওই টাকা নিয়ে ম্যাথুকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ সবই ম্যাথুর তুলে রাখা সম্পাদিত এবং অসম্পাদিত ফুটেজে রয়েছে। শুক্রবার শুভেন্দুকে এই সব ফুটেজ দেখানো হয় বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর কাছ থেকে সেই সময়ের আয়কর নথি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা খরচের হিসেব চাওয়া হয়েছে।