মৃণালদা নেই, খবরটা পেয়েছি। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই।

কত কথা মনে পড়ছে! ১৯৫৮ সাল। মৃণালদা ডাকলেন, একটা ছবির জন্য। ওঁর ফ্ল্যাটে গিয়েছি। মুখোমুখি বসে । জানলেন আমি কী কী কাজ করেছি। অভিনয়ের কথার পরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ঘর ঝাঁট দিতে পারো? ঘর মুছতে?’’ আমি বললাম, পারি।  এর পরের প্রশ্ন, ‘‘ঘুঁটে দিতে?’’ প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেলাম। আমার অবস্থা দেখে ওঁর স্ত্রী গীতাদি এগিয়ে এসে বললেন ‘‘ঘুঁটে দেওয়া, ও আর এমন কী ব্যাপার!’’ পরে শুনেছিলাম, ওঁদের বাড়ির পরিচারক চা দিতে এসে আমাকে দেখে গীতাদিকে বলেছিল, ‘‘মা, বাবুকে বলুন না ওকে নিতে। ওকে দেখে বড় ময়া (মায়া) হয়!’’ শিবরামের দৌলতে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এ সুযোগ পেয়ে গেলাম। আমার আগে নাম ছিল মাধুরী। এই ছবির সময়ে নাম বদলে দিলেন। হয়ে গেলাম মাধবী।

একটা ব্যাপারে মানিকদার  (সত্যজিৎ রায়) সঙ্গে ওঁর খুব মিল। দু’জনেই সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন, আগে আমাদের জায়গায় এসো, তার পর সমালোচনা। এখন এ সব অতীত!

অনুলিখন: ঊর্মি নাথ