“কারা ওরা?/ চেনেন না ওদের?/ওরা বিরাট এক নৈরাজ্যের-এক নেই রাজ্যের বাসিন্দে। /ওদের কিছু নেই/ভিটে নেই, ভিত নেই, রীতি নেই, নীতি নেই, /আইন নেই কানুন নেই বিনয় নেই ভদ্রতা নেই/ শ্লীলতা-শালীনতা নেই/ ঘেঁষবেন না ওদের কাছে। (ছন্নছাড়া)। আবার এই কবিতারই পরের দিকে, রাস্তার বখাটে ছেলেরা একজন গাড়ি চাপা পড়া ভিখিরিকে নিয়ে কবির ট্যাক্সিতে উঠে পড়তেই, অচিন্ত্যকুমার বলে ওঠেন, “ রক্তে মাখামাখি সেই দলা-পাকানো ভিখিরিকে/ ওরা পাঁজাকোলা করে ট্যাক্সির মধ্যে তুলে নিল। চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে-আনন্দে ঝংকৃত হয়ে-/প্রাণ আছে, এখনো প্রাণ আছে/…তারপর সহসা শহরের সমস্ত কর্কশে-কঠিনে/ সিমেন্টে-কংক্রিটে।/ ইটে-কাঠে-পিচে-পাথরে-দেয়ালে-দেয়ালে/বেজে উঠল এক দুর্বার উচ্চারণ/ এক প্রত্যয়ের তপ্ত শঙ্খধ্বনি-/ প্রাণ আছে, এখনো প্রাণ আছে,/ প্রাণ থাকলেই স্থান আছে, মান আছে/ সমস্ত বাধা-নিষেধের বাইরেও/ আছে অস্তিত্বের অধিকার। …শুধু প্রাণই আশ্চর্য সম্পদ/ এক ক্ষয়হীন আশা/ এক মৃত্যুহীন মর্যাদা।” আবার “মানুষ ঈশ্বর হবে” কবিতায় দেখছি, “যিশু হঠাৎ আর্তনাদ করে উঠলেন:/ ‘হে ঈশ্বর, আমাকে তুমি কেন ত্যাগ করলে?/ এ কান্না তো আমাদের কান্না, আমাদের নালিশ,/ যিশু যদি যন্ত্রণার মধ্যে প্রসন্ন হাসিমুখে বিদায় নিতেন নীরবে/ আমাদের মনে হত তিনি বুঝি আমাদের নন/ ঈশ্বর হয়ে তিনিও ছেড়ে গিয়েছেন আমাদের।/ তিনি আর্তনাদ না করলে আমাদের কান্নায় তার কাঁদা হত না/ আমাদের রক্তে ঝরত না তাঁর বুকের রক্ত।/ … মানুষ ঈশ্বরকে হত্যা করল, মানুষকে বাঁচিয়ে দিলেন ঈশ্বর। / মানুষ ঈশ্বরকে দিল নশ্বরতা,ঈশ্বর মানুষকে দিলেন অমরত্ব।/ ঈশ্বর মানুষ হলেন, মানুষ এবার ঈশ্বর হবে।’ 

জীবন এবং মৃত্যু, ড্রয়িং-রুম ও ফুটপাথ, বৈভব ও দারিদ্র্য, জাগতিক কামনা-বাসনা এবং বৈরাগ্য সব কিছুকেই এক কলমে ধরার হিম্মত বাংলা সাহিত্যে যাঁরা দেখাতে পেরেছেন, তাঁদের অন্যতম অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। একেবারে ভিন্ন দুই জগৎ, দু’রকম ভাবনা, নিজের লেখার ভিতরে ধারণ করতে পারতেন তিনি। আর এই দুর্লভ গুণই তাঁকে করে তুলেছিল স্বতন্ত্র। তা নইলে, রবীন্দ্রনাথ যাঁকে একটি চিঠিতে লিখছেন, “তোমার কল্পনার প্রশস্ত ক্ষেত্র ও অজস্র বৈচিত্র্য দেখে আমি মনে মনে তোমার প্রশংসা করেছি । সেই কারণেই দুঃখবোধ করেছি যে, কোনো কোনো বিষয়ে তোমার পৌনপুন্য আছে, বুঝতে পারি সেইখানে তোমার মনের বন্ধন। সে হচ্ছে মিথুন প্রবৃত্তি।”,  তাঁকেই আবার আমবাঙালি চিনবে ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের মহাজীবনের আখ্যানকার হিসেবে। চালু হয়ে যাবে একটি লব্জ “ঠাকুর তোমায় কে চিনত যদি না চেনাত অচিন্ত্য”।  তাই বলাই যায়, একইসঙ্গে ধর্ম এবং কাম, পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্য, কবিতা এবং গদ্যে নিজেকে প্রকাশ করার বিরল ক্ষমতাই অচিন্ত্যকুমারকে স্মরণীয় করে রেখেছে। 

 

একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর ও আইনের পড়াশোনা

১৯০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নোয়াখালির (বর্তমান বাংলাদেশে) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অচিন্ত্যকুমার। তাঁর বাবা পেশায় উকিল ছিলেন, কিন্তু মাত্র তেরো বছর বয়সে পিতৃহারা অচিন্ত্যকুমার বড়দাদা জিতেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের হাত ধরে কলকাতায় চলে আসেন। জিতেন্দ্রকুমার কলকাতায় ওকালতি করছিলেন বলে তাঁর সমস্ত পরিবারকেই নোয়াখালি থেকে এ শহরে স্থানান্তরিত করেন ভবানীপুরের বকুলবাগান রোডে। কলকাতায় এসে অচিন্ত্যকুমার সাউথ সাবআর্বান স্কুলে ভর্তি হন। ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পরে একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর ও আইনের পড়াশোনা শুরু করেন ১৯২৯ সালে। অসাধারণ ফল করে দুটিতেই উত্তীর্ণ হন। স্কুলে তাঁর সহপাঠী ছিলেন আর একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র। তাঁদের এই বন্ধুত্ব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল। সাবআর্বান কলেজে (বর্তমানে যা আশুতোষ কলেজ নামে পরিচিত) পড়াকালীন দুজনেই একসঙ্গে সাহিত্যচর্চা করতেন। প্রেম, জীবন ও মানুষ ছিল দুই বন্ধুরই লেখালিখির কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। অচিন্ত্যকুমার সেই সময় তাঁর লেখা ‘প্রবাসী’তে পাঠান। কিন্তু বারংবার লেখাগুলি নাকচ হয়ে যেতে থাকে। অনবরত প্রত্যাখানের পরে অচিন্ত্যকুমার এবং তাঁর বন্ধু সুবোধ দাশগুপ্ত একটি মজার কাজ করেন। ঠিক করে নেন, কোনও মেয়ের নামে কবিতা পাঠাবেন। এইভাবেই সুবোধবাবু নিজের নাম রাখলেন ‘শেফালিকা’  আর অচিন্ত্যকুমার রাখলেন ‘নীহারিকা’। এর পরে তাঁর ‘প্রভাতে’ কবিতাটিকে আবার পত্রিকায় পাঠালেন ‘নীহারিকা’ ছদ্মনামে। আশ্চর্যজনক ভাবে এইবার তাঁর কবিতাটি ফেরত এল না। বরং পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় (১৯২১) প্রকাশিত হল। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হল ‘প্রবাসী’তে, তাও আবার এক মহিলা কবির ছদ্মনামে। অচিন্ত্যকুমারের ভ্রাতুষ্পুত্র মজা করেই বলেছিলেন একটি প্রতিবেদনে, “আশ্চর্য লাগে যে ১৯৩০ সালে কাকাবাবু যখন বিয়ে করলেন তখন তাঁর স্ত্রীর নাম নীহারকণা।” এ-ও এক সমাপতন! কলেজে পড়ার সময়ে অচিন্ত্যকুমার, প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং তাঁদের অনান্য বন্ধুরা খুব নিষ্ঠার সঙ্গে সাহিত্যসৃষ্টির কাজটাকে নিয়েছিলেন। কবিতার পাশাপাশি তাঁরা নাটক, ছোট গল্প, উপন্যাস রচনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। অচিন্ত্যকুমার ও প্রেমেন্দ্র মিত্র, বিনয় চক্রবর্তী ও শিশির ঘোষকে নিয়ে জোটবদ্ধ ভাবে একটি সাহিত্যসভা গঠন করলেন, ‘অভ্যুদায়িক সংঘ’ নাম দিয়ে। সেই সময়টা অচিন্ত্যকুমার কবিতা লিখছেন নিজের সবটুকু একাগ্রতা দিয়ে। একই সঙ্গে বিশ্বের কবিতা আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত হতেও  শুরু করেছিলেন তিনি। অনুভব করেছিলেন যে, নতুন লেখার জন্য নতুন একটা ভঙ্গি তৈরি করে নিতে হবে কবিকেই। পুরনো আঙ্গিকে নতুন কবিতা লেখা যাবে না। কিন্তু ভাবনার রূপায়ণ সব সময়ে সৃষ্টির ভিতরে মেলে না। অচিন্ত্যকুমারের চারটি কাব্যগ্রন্থ অমাবস্যা (১৯৩০), আমরা (১৯৩৩), প্রিয়া ও পৃথিবী (১৯৩৬), নীল আকাশ (১৯৫০)। এর প্রকাশ ও বিষয়বস্তুতে নতুন কোনও ভাষা বা প্রকাশভঙ্গি পাওয়া যায় না। আবেগ-উত্তপ্ত উচ্ছ্বাস, প্রগতি ইত্যাদি ভাবালুতার ব্যাপার বাদ দিলে কাব্যক্ষেত্রে তাঁর আধুনিকতা খুব স্পষ্ট হয়তো নয়। তবু তাঁর অনেক কবিতাই জনপ্রিয়, এ কথা বলাই যায়। 

আইনি ডিগ্রি লাভ করে অচিন্ত্যকুমার আইন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হন ১৯৩১ সালে। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি আইন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথমে মুনসিফ , তার পরে সাবজজ হিসেবে। অবসর নেওয়ার সময় কলকাতার আলিপুর আদালতের জেলা জজ ছিলেন অচিন্ত্যকুমার। কর্মসূত্রে তাঁকে বাংলার বহু জায়গায় ঘুরতে হয়েছে। শহরের কানাগলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথে অতিবাহিত সেই সময়ে খুব কাছ থেকে প্রকৃতি ও মানুষের সংস্পর্শ লাভ করে লেখকের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। তাঁর দৃষ্টি ও মনন এই সমস্ত সাধারণ মানুষের জীবনকথাকে ছোটগল্প আর উপন্যাসে জায়গা দিয়েছে বারবার। জীবনের থেকে সাহিত্যকে আলাদা কোনও গজদন্ত মিনারে রাখতে চাননি বলেই অচিন্ত্যকুমারের গল্পে অসংখ্য চরিত্রের ভিড়। মুদি দোকান চালানো বিহারি মেয়ে গুড়িয়া, চাষি আমানত আলি, গায়িকা শেফালি, হাঁপানি রুগি অমর, পেশাদার সাক্ষী দুর্লভ— প্রত্যেকেই নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যে ভাস্বর। অচিন্ত্যকুমারের কবিমানসকে আমরা তাঁর ছোটগল্পেও আবিষ্কার করি। সেই স্বত্বা, বিদ্রোহ আর উন্মাদনাকে একই সঙ্গে মেলে ধরতে জানে। দুই বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী হতাশা, আদর্শের অভাব প্রভৃতি যুগলক্ষণ তাঁর গল্পের পরতে পরতে মিশে রয়েছে। অক্ষরে-অক্ষরে উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত জীবনের অর্থনৈতিক সংকটের তাওয়া-গরম বর্ণনা। গ্রাম আর শহর সেখানে সমান্তরাল ভাবে  চলতে চলতে কখনও মিলিত হয়েছে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে এসে।  

লেখার ফাঁকে

 

আগে চাই ছোটগল্পের শেষ

ছোটগল্প সম্পর্কে অচিন্ত্যকুমার বলেছিলেন, “ছোটগল্প লেখবার আগে চাই ছোটগল্পের শেষ। কোথায় সে বাঁক নেবে কোন কোণে ... শেষ না পেলে ছোটগল্পে আমি বসতেই পারব না। শুধু ঘটনা যথেষ্ট নয়, শুধু চরিত্র যথেষ্ট নয়। চাই সমাপ্তির সম্পূর্ণতা…’

লেখকের এই ভাবনা তাঁর গল্পের মধ্যেও লক্ষ করা যায়। গল্পের উপস্থাপনা ও অগ্রগতির পাশাপাশি এমন শিল্পসম্মত সমাপ্তি খুব বেশি চোখে পড়ে না। এই গুণের জন্যই হয়তো অচিন্ত্যকুমারকে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিষ্ণু দে। কোনও কোনও পাঠকের মতে, অচিন্ত্যকুমার সারা জীবনই একটু বাঁকা চোখে দেখতে চেয়েছেন সমাজ, সময়কে। ‘বাঁকা লেখা’ উপন্যাসটি তিনি একসঙ্গে লিখেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে। এর পরে অচিন্ত্য, প্রেমেন্দ্র এবং বুদ্ধদেব বসু একসঙ্গে আরও দু’টি উপন্যাস লেখেন, ‘বিসর্পিল’ এবং ‘বনশ্রী’। এই দুই উপন্যাসই ’৩৪ সালে প্রকাশিত হয়। এর পরে ’৭৬-এ মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মোট তেতাল্লিশটি উপন্যাস লিখেছেন অচিন্ত্যকুমার। আবেগ আর নগ্ন আত্মিক অনুভূতির চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা যায় তাঁর যে উপন্যাসগুলিতে তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘বিবাহের চেয়ে বড়’, ‘প্রাচীর ও প্রান্তর’, এবং ‘কাকজ্যোৎস্না’। এখানে এই তিনটি উপন্যাসের সঙ্গে বুদ্ধদেব বসুর ‘এরা ওরা এবং আরও অনেকে’, প্রবোধকুমার সান্যালের ‘যাযাবর’ ও ‘দুইয়ে দুইয়ে চার’ উপন্যাসগুলিও অভিযুক্ত  হয়েছিল অশ্লীলতার দায়ে। শোনা যায় যে, কলকাতা পুলিশ নাকি এই উপন্যাসগুলি বাজেয়াপ্ত করে লালবাজারের সামনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। 

‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদক সজনীকান্ত দাশ তখন তাঁর পত্রিকার কারণে বিশেষ জনপ্রিয়। তিনি লিখেছিলেন, ‘Buddhabeb and Achintya have given up making waves in the water (জলকল্লোল) and have taken up creating sexually charged waves instead’. (বুদ্ধদেব আর অচিন্ত্য জলকল্লোলের বদলে যৌনকল্লোল তৈরিতে ব্যস্ত)। 

সেখানেই না থেমে সজনীকান্ত তখনও অবিবাহিত প্রবোধ, বুদ্ধদেব ও অচিন্ত্যকুমারের উপন্যাসগুলির নামের প্যারডি করেন, ‘যাযাবর’কে ‘যা যা বর’, ‘বেদে’ কে ‘বেয়ে দে’ ইত্যাদি শ্লেষাত্মক কথা বলে। 

 

পরমহংসের বাণী আর দর্শনের গভীরে অবগাহন

এহেন অচিন্ত্যকুমারের জীবনের মোড় ঘুরে যায় একদিন সন্ধেবেলা স্ত্রী নীহারকণার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে। তখন চাকরিসূত্রে আসানসোলে ছিলেন তিনি। বেহুলা আর লখিন্দরের বাসরঘরে যে ভাবে ঢুকে পড়েছিল সাপ, অচিন্ত্যকুমার আর নীহারকণার দাম্পত্যেও সে ভাবে ঢুকে আসে একটি সাপ। ঘাসের ভিতর থেকে এসে সে ছোবল দিয়ে যায় নীহারকণাকে। প্রায় জনশূন্য এলাকায় স্ত্রীকে কী ভাবে বাঁচাবেন ভেবে, পাগলপারা অচিন্ত্যকুমার একটি গাড়ি দেখতে পান। সাহায্যের জন্য গাড়ির চালককে অনুরোধ করলে তিনি এগিয়ে আসেন এবং নীহারকণাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। দ্রুত সুচিকিৎসা পেয়ে নীহারকণা জীবন ফিরে পান। কৃতজ্ঞ অচিন্ত্যকুমার যখন গাড়ির চালককে ধন্যবাদ জানাতে যান, তখন সেই চালক অচিন্ত্যকুমারকে উপহার দেন  ‘শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ’র দুটি খণ্ড। 

এই ঘটনার পর থেকেই আধ্যাত্মিকতাকে অন্তরে অনুভব করতে শুরু করেন অচিন্ত্যকুমার। যে লেখক যৌনতাকে জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ ভাবতেন, সেই অচিন্ত্যকুমারই রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাণী আর দর্শনের গভীরে অবগাহন  শুরু করেন। তারই ফলস্বরূপ তুমুল জনপ্রিয় ‘পরমপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ’। এর পরে ‘পরমা প্রকৃতি শ্রী শ্রী সারদামণি ’, ‘বীরেশ্বর বিবেকানন্দ’, ‘অখণ্ড অমিয় শ্রীচৈতন্য’, ‘রত্নাকর গিরিশ্চন্দ্র’ ইত্যাদি অনেক বই অচিন্ত্যকুমার লিখেছেন, যা ধর্মচেতনার উপরেই আধারিত।  

শিশু সাহিত্যিক হিসেবে অচিন্ত্যকুমারের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল ‘ডাকাতের হাতে’, ‘দুই ভাই’ এবং ‘ঘোরপ্যাঁচ’। বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রেও অচিন্ত্যকুমার পিছিয়ে থাকেননি। ন্যুট হ্যামসুন, হেলেন কেলার কিংবা বরিস পাস্তারনাকের রচনা বাংলায় প্রাণ পেয়েছে অচিন্ত্যকুমারের হাত ধরেই। 

 তাঁর ‘নতুন তারা’ নাটকটিও ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, তিনি ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কলকাতার একটি সংবাদপত্রে কাজও করেছেন। অল ইন্ডিয়া রেডিয়োয় অচিন্ত্যকুমার কমেন্ট্রি করতেন, প্রতিবেদনও লিখতেন। ক্রিকেটের উপরে একটি বইও আছে তাঁর, ‘মৃগ নেই মৃগয়া’। 

 

কল্লোলের সময়কাল ও অভিজ্ঞতা

অচিন্ত্যকুমারের সৃষ্টি এবং জীবনের কথা বলতে গেলে যার কথা ফিরে ফিরে আসে সে কেবলমাত্র একটি পত্রিকা নয়, সে এক আন্দোলন। তার নাম, ‘কল্লোল’। জীবনের শত দুঃখের মধ্যে প্রাণের সাড়া জাগিয়ে তোলার আদর্শ বাংলাদেশে প্রচার করতে চেয়েছিল কল্লোল গোষ্ঠী। কল্লোলের পদযাত্রা শুরু হয় গল্প-মাসিক হিসেবে। প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যায় একটি ঘোষণা ছিল – ‘কল্লোল মাসিক গল্প সাহিত্য’। কল্লোলের পাতায় আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল অসংখ্য সাহিত্যিকের। তাঁদের ভিতরে যাঁরা অগ্রগণ্য, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন অচিন্ত্যকুমার। একই সঙ্গে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ সব কিছুই তিনি লিখছিলেন কল্লোলের পাতায়। একটা সময় অচিন্ত্যকুমার, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু বললেই বোঝাত কল্লোলের ত্রিমূর্তি। কল্লোলের সময়কাল ও অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তী কালে অচিন্ত্যকুমার ‘কল্লোলযুগ’ নামে একটি বইও লেখেন। বাংলা সাহিত্যপ্রেমী ও বাংলা সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অপরিহার্য সেই বই। 

সময়ের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে ছিলেন অচিন্ত্যকুমার। বিংশ শতাব্দীর বাংলায় তাঁর এক-একটা লেখা এমনই সাহসী যে, মনে হয় যেন ইউরোপিয়ান কোনও সাহিত্যিকের লেখা পড়ছি। জীবনের ঘেরাটোপ ভেঙে ফেলে তিনি নতুন ভাবে জীবনকে দেখতে চেয়েছেন, যৌনতা যার বিরাট একটা অংশ। ‘কল্লোলযুগ’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন, ‘উদ্ধত যৌবনের ফেনিল উদ্দামতা সমস্ত বাধাবন্ধের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বিদ্রোহ। স্থবির সমাজের পচা বিধিকে উৎখাত করার আন্দোলন’। এটাই কল্লোলের দৃষ্টিভঙ্গি। অচিন্ত্যকুমারকে লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ, ‘মিথুন প্রবৃত্তির আধিক্য’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সত্ত্বেও অচিন্ত্যকুমার নিজের স্বাভাবিক ঝোঁক বদলাননি এতটুকু। উলটে কল্লোলের পাতায় লিখেছিলেন...  

‘এ মোর অত্যুক্তি নয়, এ মোর যথার্থ অহংকার,

যদি পাই দীর্ঘ আয়ু, হাতে যদি থাকে এ লেখনী,

কারেও ডরি না কভু,......

সম্মুখে থাকুন বসে পথ রুধি রবীন্দ্রঠাকুর,

আপন চক্ষের থেকে জ্বালিব যে তীব্র তীক্ষ্ণ আলো,

যুগসূর্য ম্লান তার কাছে’। (আবিষ্কার)

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অচিন্ত্যকুমারের আরও যে কবিতা পাওয়া যায়, তা পড়লেই বোঝা যায়, আধুনিক কবিতার ধারায় অনেকের সঙ্গে ক্যান্টিন ভাগ করে নিলেও, তাঁর টিফিন ছিল একেবারেই নিজস্ব। সমালোচকের ভাষায়, ‘দলবদ্ধ ঐকত্রিকতার পথে চলতে চলতেও অচিন্ত্যকুমার আন্তরিক ভাবে একক’। কালের হাওয়ার ধাক্কা পৌঁছেছে তাঁর অনুভবে। কিন্তু রবীন্দ্র-বিরোধিতার প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কিংবা পরবর্তী কালে রবীন্দ্রবরণের আগ্রহেও তাঁর স্বরগ্রাম একান্তই তাঁর নিজস্ব। “তাই শেষে একদিন রাশি রাশি শব্দের লহরে অন্যত্রের বার্তা আনে বিদ্যুৎ বলাকা, নদীর এপারে আসে ধান্যভরা ক্ষুদ্র স্বর্ণতরী”। 

 

ছন্দ-স্পন্দ সৃষ্টিতেও অচিন্ত্যকুমার বাংলা কবিতারই ঐতিহ্যবাহী

‘অমাবস্যা’ অচিন্ত্যকুমারের প্রথম প্রকাশিত কাব্য। প্রমথনাথ বিশী এই বইটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছিলেন যে, প্রেমের কবিতা সংকলনের নাম ‘অমাবস্যা’ দেখে প্রথমে তিনি চমকিত হয়েছিলেন। পরে দেখা গেল, আসলে ওই অমাবস্যা কালচেতনার নিরেট অন্ধকারে ছাওয়া যৌবন- প্রেমমিলন- উৎসুকতার উপরেও যা দীর্ঘ ছায়া ফেলে। “মিলনের রাতে উঠানের কোণে জ্বলিছে বিরহবাতি, জ্যৈষ্ঠের রোদে কপাল কুটিছে অমাবস্যার রাতি”। (মিলনের রাত)

হরপ্রসাদ মিত্র বলেছিলেন, “তাঁকে বুঝতে হলে তাঁর কালের সেন্টিমেন্ট উপেক্ষা করা চলবে না”। অন্য ভাবে বললে, বলতে হয়, কালের হাওয়ায় বিচলিত অচিন্ত্যকুমারের নিজস্ব সেন্টিমেন্টই তাঁকে কালস্রোতে ভাসিয়ে নিয়েও শেষ পর্যন্ত মিশে যেতে দেয়নি। শব্দ সংগ্রহ, শব্দ নির্মাণ কিংবা বাক্যবন্ধ গঠনেই নয়, ছন্দ-স্পন্দ সৃষ্টিতেও অচিন্ত্যকুমার বাংলা কবিতারই ঐতিহ্যবাহী। বিশেষ করে প্রকাশে প্রকরণে, ধ্বনি মুখরিত শব্দের চয়ন ও বিন্যাসে, প্রথম দিকে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বাগভঙ্গি ছায়া ফেলেছিল তাঁর কবিতায়। সেই প্রবণতাকে আত্মস্থ করেই অচিন্ত্যকুমার নিজের একটি ধারা নির্মাণে সচেষ্ট হয়েছিলেন যেখানে, পূর্ব আর পশ্চিম, অপূর্ব আর সুলতানা, গঙ্গা আর শীতলক্ষ্যা, ঈশ্বর এবং মানুষ, ক্রুশ এবং পুনর্জাগরণ, আহত প্রাণ আর অনন্ত মৃত্যুর মধ্যে একটা দেওয়া-নেওয়া, একটা লেনদেন চলে, চলতেই থাকে...  

সামাজিক ভাঙন আর অবক্ষয়ের পটভূমিতে নতুন সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল কল্লোল গোষ্ঠী, তার পুরোভাগে ছিলেন অচিন্ত্যকুমার। তাই হামসুনের ‘পান’ অনুবাদের পরে এর বিষয় নিয়ে এতটাই উদ্বুদ্ধ হলেন যে, পান –প্রভাবিত ‘বেদে’ লিখে ফেললেন। ‘বেদে’ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবির কলমে লেখা উপন্যাস ‘বেদে’ প্রকাশিত হওয়ার পরে সাহিত্যজগতে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। উপন্যাসটি ছ’টি খণ্ডে বিভক্ত এবং প্রত্যেকটি খণ্ডে একজন করে নায়িকার কথা আছে। তারা সকলেই বীরনায়কের প্রতিরূপ। এই ছয় নায়িকার মধ্যে অচিন্ত্যকুমার ছ’টি রসানুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আর সেই ছ’টি রস হল— অম্ল, মধুর, কষায়, লবণাক্ত, কটু ও তিক্ত। রবীন্দ্রনাথকে ‘বেদে’র এক কপি পাঠানো হয়েছিল তাঁর মতামতের জন্য। তিনি লিখেছিলেন, “আমি তোমার প্রতিভাকে উপলব্ধি করেছি।” 

‘বেদে’র পরবর্তী উপন্যাস ‘আকস্মিক’ (১৯৩০)। গণিকা জীবনই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। উপন্যাসটি পাতায় পাতায় অসম্ভব বাস্তব হয়ে ওঠে। কাব্যধর্মী উপন্যাস হিসেবে ‘প্রচ্ছদপট’ উপন্যাসটি উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের প্রথম অংশে শ্রীপর্ণা ও নিরঞ্জনের পূর্বরাগ প্রেম ও বিয়েতে পরিণতির কাব্যোচ্ছ্বাস বর্ণিত হয়েছে। সাংকেতিকতার অতিরিক্ত ব্যবহার অবশ্য এই উপন্যাসটির একটি দুর্বলতা। সে দিক থেকে ‘ঊর্ণনাভ’ (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) উপন্যাসটির পরিকল্পনা অভিনব। এক তরুণ কবি দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কীভাবে স্নেহপরায়ণ অভিভাবকের নিশ্চিন্ত নীড়ে আশ্রয় নিয়েছে, তারই কাহিনি ব্যক্ত হয়েছে এই টানটান উপন্যাসে। অচিন্ত্যকুমারের ‘আসমুদ্র’ (১৩৪১) উপন্যাসটিও পাঠক এবং সমালোচকের দ্বারা আদৃত।  তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আরও আছে, ‘ছিনিমিনি’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘তৃতীয় নয়ন’, ‘তুমি আর আমি’। 

 

দারিদ্র্য, ব্যাধি ও মৃত্যু কবলিত জীবনের অমর কাহিনি

উপন্যাসের চেয়েও ছোটগল্পে কথাসাহিত্যিক অচিন্ত্যকুমারের সিদ্ধি আরও অনেক বেশি। দেশ এবং কালে প্রসারিত তাঁর অভিজ্ঞতার বিচিত্র পশরা তাঁর অনেক গল্পকে জীবন্ত করে তুলেছে। এক দিকে বিশ্বযুদ্ধের সংকটময় পরিস্থিতি, সামাজিক অবক্ষয়, অন্য দিকে কর্মসূত্রে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা যেমন তাঁর রচনামানসে প্রভাব ফেলেছিল, তেমনই প্রভাব ফেলেছিল কর্মসূত্রে বিভিন্ন স্থান ও মানুষের সঙ্গে একাত্মতা। উপন্যাসে যেমন ‘বেদে’, ছোটগল্পে তেমনই ‘দুইবার রাজা’ অচিন্ত্যকুমারের প্রথম সাফল্যের সোপান। গল্পের নায়কের নাম অমর। দারিদ্র্য, ব্যাধি ও মৃত্যু কবলিত জীবনের অমর কাহিনিই বটে এই গল্প। সমস্ত প্রতিকূলতা অস্বীকার করে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা আর পদে পদে ব্যর্থতার হতাশা সত্ত্বেও জীবনের প্রতি গভীর আসক্তি নদীর ভিতর থেকে চড়ার মতো জেগে উঠেছে এই গল্পে। 

‘অরণ্য’ গল্পটি একান্নবর্তী ও আত্ম-স্বাতন্ত্র্যপ্রিয় নরনারীর মানস বিশ্লেষণ। পরস্পর বিচ্ছিন্ন কতকগুলি মানুষের একমাত্র যোগসূত্র শিশুটির মৃত্যু হলে আকস্মিক শোকের আঘাতে একই উপলব্ধির সমতলে এসে মিলিত হয় সবাই। গল্পের ভিতরকার অনবদ্য টানাপড়েনে আমরা দেখতে পাই মানুষের স্নেহবন্ধন কত ভঙ্গুর, মানুষের আশা কত ক্ষীণায়ু , মানুষের প্রতীক্ষা কী বিশ্বাসঘাতক!  গল্পটির উপসংহার জীবনের ব্যর্থতা ও নৈরাশ্যবোধের মধ্যে এবং তার ভিতরে কল্লোলেরই স্বাক্ষর। 

 ফ্রয়েডীয় অবচেতনবাদের ভিত্তিতে কুয়াশাচ্ছন্ন জীবনরহস্যের জটিল গ্রন্থিমোচন করলে দেখা যাবে যে, কন্যা সম্পর্কে জননীর কোনও অপরাধবোধ তার অবচেতনলোকে থাকলে সন্তানের মৃত্যুকে অস্বীকার করার জন্য জননীর সজ্ঞান মনে নানা উৎকণ্ঠা দেখা যায়। সন্তান বাৎসল্য যে আত্মরতিরই নামান্তর, ‘অমর কবিতা’ গল্প তাই নিয়েই। ‘হরেন্দ্র’ ও ‘ছুরি’ গল্পে মফস্‌সলের বড়সাহেব, ছোটসাহেবদের পরিচয় আভাসে ইঙ্গিতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে ‘অকারণ’ গল্পে। শুধু সাহেবরাই নয়, তাদের মেমরাও আছে। ঈর্ষা, দলাদলি আর পারস্পরিক স্তরপর্যায়ের আপেক্ষিক আভিজাত্য বোধের জটিলতা নিয়ে এদের বিচিত্র জীবন। আধুনিক কথাসাহিত্যে এই সব চরিত্রচিত্রণে অচিন্ত্যকুমার অনবদ্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। ‘সাক্ষী’ গল্পের মিথ্যে সাক্ষী দুর্লভের মধ্য দিয়ে অচিন্ত্যকুমার আদালতের রোজকার কাহিনিকে চিরদিনের ভাষায় গ্রথিত করে গিয়েছেন। ‘বৃত্তশেষ’ গল্পে মফস্‌সল জীবনের মাৎস্যন্যায় পূর্ণাঙ্গতা পেয়েছে। ‘কালনাগ’, ‘বস্ত্র’, ‘বাঁশবাজি’তে মন্বন্তরের পটভূমি ও প্রভাব প্রত্যক্ষ। ‘বস্ত্র’ গল্পটির সঙ্গে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘দুঃশাসন’ গল্পটির তুলনা করা চলে। ‘জনমত’, ‘দাঙ্গা’ আর ‘নূরবানু’ গল্পের সুর আলাদা। জীবনের নাটকীয় মুহূর্তে মনের গতিপ্রকৃতি কী ভাবে পালটায়, তার রূপরেখাই এই তিনটি গল্পকে স্বাতন্ত্র্য দান করেছে।

 কী কবিতায়, কী গল্পে অচিন্ত্যকুমারের কলম সমাজের নানা স্তরকে কেবল স্পর্শই করেনি, নতুন আলোয় আলোকিত করেছে। তিনি যখন লেখালিখি শুরু করেছেন, তার পরপরই কল্লোল যুগের বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল, যা  ‘শুধু ভাবের দেউলে নয়, ভাষারও নাটমন্দিরে’ একটা সামগ্রিক পরিবর্তন সূচিত করেছিল। আর সেই পরিবর্তনকে নিজের রচনাশৈলীর ভিতর দিয়ে বিদ্রোহের রূপ দিয়েছেন অচিন্ত্যকুমার। রবীন্দ্রনাথকে যিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন যৌবনে, রামকৃষ্ণে যিনি সমর্পিত হয়েছেন পরিণত বয়সে, সেই অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত নিজের লেখায় রক থেকে রতিক্রিয়া, রাস্তা থেকে রাজনীতি সবটাই তুলে এনেছেন অবলীলায়। সময়ের সম্পাদ্য কষতে কষতেই পেরিয়ে গিয়েছেন সময়কে। সমকালীন থেকে চিরকালীন হয়ে উঠেছেন।