সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বুদ্ধ-প্রত্যয়

কবি, সমালোচক, অধ্যাপক, সম্পাদক, অনুবাদক— নানা পরিচয়ে ধরা যায় বুদ্ধদেব বসুকে। এ সব কিছুর মধ্যেই এক নিজস্ব প্রত্যয় তথা স্বর খুঁজেছেন তিনি। তাঁর সেই ব্যক্তি-প্রত্যয় সন্ধানের চেষ্টায় অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

budhhadeva bose
বুদ্ধদেব বসু।

কলকাতা। আশুতোষ মুখার্জি রোডের পাঁচতলার এক আবাসন। ঢাকার এক তরুণী সেখানেই এসেছেন, মামাবাড়িতে। উল্টো দিকের রমেশ মিত্র রোডের ডেরা থেকে বছর পঁচিশের এক ছেলে সেই ফ্ল্যাটে এলেন একদিন। তার পরের দিনও। তারও পরে...। দুপুরের অল্প নিরিবিলিতে দেখা হয় দু’জনের। আসাটা যেন অভ্যেস হয়ে দাঁড়াল। কীসের আশায় এত আসা? ‘আমি প্রতিটি দিনকে নিংড়ে দিতে চাই’, স্বীকারোক্তি ছেলেটির।

দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে ক্রমে। ঢাকা থেকে হাজির তরুণীর বাবা, মা। মামা-মামিমা, দাদা, বাবা-মায়ের কী যেন গোপন শলা-পরামর্শ চলে! যাঁর কারণে দুর্যোগ, সেই ছেলে আবার আসেন না ক’দিন। কিন্তু ব্যবধানটা দীর্ঘ হল না— ফের গুটিগুটি পায়ে হাজির ছেলেটি। তরুণীর বাবা-মা’কে দেখে সটান বললেন, ‘আপনারা অনুমতি দিলে এ বাড়িতে একটা বিয়ে হতে পারে।’ অবশ্যই তাতে যদি মত দেন সেই তরুণী।

কিন্তু তরুণীর মামা জানালেন, ছেলেটার চালচুলো নেই। চাকরি নেই। চেহারাটি সুশ্রী। তবে পৌরুষের যা গড়পরতা ধারণা বাঙালির, তার নিরিখে মোটেও সুপুরুষ বলা চলে না। সঙ্গে নাকি সিগারেট, মদেও বিস্তর খরচ। যদিও যুবকটি নাকি মদস্পর্শ করেন না, অন্তত তরুণীটির দাবি তেমনই। তবে চেহারা, সঙ্গতি যা-ই হোক, লেখালেখির জগতে ছেলেটির কিঞ্চিৎ নামডাক শোনা যাচ্ছে। গুমোট পরিবেশ কাটতে শুরু করল মেয়ের বাবার বক্তব্যে, ‘আমার কোনো অমত নেই। যার আত্মপ্রত্যয় আছে, তার সব আছে।’

পাত্র, বুদ্ধদেব বসু। পাত্রী, সুগায়িকা, সাহিত্যিক রানু সোম ওরফে প্রতিভা বসু। রানুকে ‘এনগেজমেন্ট রিং’ পরানোর দিনেই বুদ্ধদেব টেলিগ্রামটা পেলেন, রিপন কলেজে মাস্টারির।

তবে প্রতিভার আগেও  বুদ্ধ-জীবনে একটি  ভাল-লাগার গল্প আছে। ঢাকার পুরানা পল্টনের ‘একটি সদ্যযৌবনা প্রতিবেশিনীকে’ মনে-মনে ভালবেসেছিলেন বুদ্ধদেব। সে ভাল-লাগায় বাক্যালাপ ছিল না, ছিল ‘শুধু রাস্তার এপারে-ওপারে চোখের দেখা’। পরে ‘কঙ্কাবতী’-র দু’-একটি কবিতায় আর ‘ইচ্ছাপূরণকারী’ একাঙ্ক নাটক ‘একটি মেয়ের জন্য’-য় সেই প্রতিবেশিনীকে বাঁচিয়ে রাখলেন বুদ্ধদেব। ঘটনাচক্রে নাটকটি যে দিন লেখা হচ্ছে, সে দিনই প্রতিবেশিনীটির বাড়িতে কনে দেখানোর আয়োজন চলছে!

প্রতিভাদেবীর বাবা, বুদ্ধদেবের শ্বশুরমশাই জামাই সম্পর্কে ‘আত্মপ্রত্যয়’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই একটি শব্দের আধারেই বোধহয় বুদ্ধ-চরিতের নানা পর্বে ঢুঁ দেওয়া যেতে পারে—

‘বিকশিত উন্মুখ’

তৎকালীন কুমিল্লায় বুদ্ধদেবের বেড়ে ওঠার কথা ছিল যাঁর কাছে, সেই মা বিনয়কুমারী সন্তানের জন্মের (৩০ নভেম্বর ১৯০৮) চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ধনুষ্টঙ্কারে মারা যান। বাবা ভূদেবচন্দ্র মৃত স্ত্রীকে নিয়ে একটা ছবি তুললেন। দিদিমা স্বর্ণলতা খুব যত্ন করে ছবিটি রাখলেও পরে তা হারিয়ে যায়। ছবিটি প্রসঙ্গে বুদ্ধদেবের মনে হয়, তাঁকে ‘জন্ম দেবার পরিশ্রমে যে-মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিলো, তার কিছু প্রাপ্য ছিল...’। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে ভূদেবচন্দ্র ‘পরিব্রজ্যা’ গ্রহণ করলেন।

বুদ্ধদেব নোয়াখালিতে বেড়ে উঠলেন ‘মা’ স্বর্ণলতা ও দাদু চিন্তাহরণ সিংহের কাছে। কিন্তু সেখানে মেঘনা বড় হতশ্রী— জল নিতে আসেন না বধূরাও। এমন শ্রী-হীন দেশে ‘দা’ চিন্তাহরণের হাত ধরে শীত-ভোরে ব্যাকরণবর্জিত ইংরেজি-শিক্ষা শুরু হল নাতির। তাতে লেগে রয় লর্ড টেনিসনের অনুরণন। রোদ-সেঁকা দুপুরের ঘোরতর বাস্তবেও তুষার ঝড়ে হারিয়ে যাওয়া ‘লুসি গ্রে’র কথা ভেবে উদাসী হয় শিশুমন। চলে সংস্কৃত শিক্ষাও।

পাশাপাশি, ‘সন্দেশ’, ‘মৌচাক’ পড়া, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ (‘পতাকা’ ১৯২৩ এবং ‘ক্ষণিকা’ ১৯২৬), লেখালেখি— চলতে থাকে সবই। কৈশোরে পড়লেন বুদ্ধদেব। অসহযোগ আন্দোলনের উন্মাদনায় ‘কুলির রক্ত’ চা খাওয়া ছাড়লেন। খাদি পরে ভরদুপুরে গলদঘর্ম হলেন। মুগ্ধবোধ জুড়ে তখন কাজী সাহেব নজরুল ইসলাম।

এ সবের মধ্যেই এক ফাঁকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান পেলেন বুদ্ধদেব। তত দিনে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মর্ম্মবাণী’। শুধু মাঝখান থেকে যাঁর জামার বার্মা চুরুটের গন্ধটা পর্যন্ত ভাল লাগত, সেই প্রিয় দাদু কর্কট-আঘাতে হারিয়ে গেলেন (এই রোগ-যন্ত্রণার ছায়া দেখা যায় ‘অন্য কোনখানে’, ‘পাতাল থেকে আলাপ’ উপন্যাসে)। কিন্তু তরুণ মন ক্রমে পরিণতির দিকে তখন। তাই দা’য়ের বিচ্ছেদকেও যেন ছাপিয়ে যায় চার্লস ডিকেন্সের ‘লিটল নেলে’র মৃত্যু-বিবরণ।

অনুভূতির এই বৃক্ষে নতুন পাতা এল ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে। দিদিমা আর নাতি, দু’জনের সংসার তখন ৪৭ নম্বর পুরানা পল্টনে, একচিলতে টিনের বাড়িতে। ও পাড়া তখন নেই রাজ্য— নেই পাকা রাস্তা, নেই বিদ্যুৎ। বাড়িও হাতে গোনা। জল আনতে যেতে হয় সেই রাস্তার মোড়ের কলে।

কিন্তু এ সব ‘নেই’-এর মধ্যেই যেন প্রাপ্তিযোগ তৈরি করল ‘প্রগতি’ পত্রিকা (যুগ্ম সম্পাদক, অজিতকুমার দত্ত)। ক্রমে সময় গড়ায়। কলেজের প্রথম বর্ষের শেষে বুদ্ধদেব এলেন কলকাতায় ‘কল্লোল’ পত্রিকার অফিসে। সম্মুখীন হতে হল জীবনের প্রথম সাহিত্যিক-বিতর্কের। সৌজন্যে, বুদ্ধদেবের ‘রজনী হ’লো উতলা’ গল্পটি। অভিযোগ, তা অশ্লীল এবং চোরাই!

বিতর্কে ঘি ঢালল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠি, ‘আধুনিক সাহিত্য আমার চোখে পড়ে না। দৈবাৎ কখনো যেটুকু দেখি, দেখতে পাই, হঠাৎ কলমের আব্রু ঘুচে গেছে। আমি সেটাকে সুশ্রী বলি এমন ভুল করো না।’— কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সহমত না হয়ে বেশ কড়া চিঠি লিখলেন বুদ্ধদেবও। সময়টা ১৯২৬। দ্বিগ্বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের কথার উপরে কথা বললেন আঠারোর বুদ্ধদেব!

অশ্লীলতা-বিতর্ক বুদ্ধদেবের ‘সাড়া’ উপন্যাসটিকেও বিদ্ধ করল। ‘এরা আর ওরা এবং আরো অনেকে’ সম্পর্কেও একই অভিযোগ আদালত, পুলিশ পর্যন্ত গড়াল। এর তীব্র প্রতিবাদে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখল: ‘...উপন্যাসের নর-নারীরা কিভাবে প্রেম নিবেদন বা হৃদয় বিনিময় করিবে, তাহার ‘হুদ্দা’ যদি পুলিশ-নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহা হইলে বাঙলা সাহিত্যের অতি শোচনীয় দুর্দিন সমাগত হইয়াছে বুঝিতে হইবে।’

আসলে ‘শ্লীল’ সাহিত্যকর্মীরা বোধহয় বুঝতেও পারেননি, তত দিনে বুদ্ধদেব ‘শাপভ্রষ্ট দেবশিশু’ হয়ে উঠছেন। সোচ্চারে বলতে পারছেন, ‘...তবু কাব্য রচিলাম। এই গর্ব বিদ্রোহ আমার।’ এই দ্রোহ নতুন কিছুর সন্ধানের।

‘সব-পেয়েছির দেশে’

কিন্তু বুদ্ধদেবের এই সন্ধানের ইচ্ছে আদতে রবীন্দ্র-দ্রোহ, তা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগল নানা পত্রিকা। নবীন কবি তবে রবি-ভক্তই। তাতে উথলে ওঠা গদগদ ভক্তিরস নেই, আছে ঠাকুরকে যুক্তি-জ্ঞানে গ্রহণের ঈপ্সা। তাই প্রায় প্রৌঢ়ত্বে ‘বায়োডেটা’ লেখার সময়ে ‘ফেভারিট অথরস’-এর জায়গায় বুদ্ধদেব ‘পারমানেন্ট ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করেন রবীন্দ্রনাথকেই।

এই ফ্যাক্টরের সঙ্গে বুদ্ধদেবের সম্পর্ক কী ভাবে তৈরি হয়, তা কয়েকটা ঘটনার সাহায্যে বলা যেতে পারে—

বিয়ের কিছু দিন পরে বুদ্ধদেব-প্রতিভা গেলেন জোড়াসাঁকোয়, আশীর্বাদ নিতে। প্রণামপর্বের পরে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেবকে বললেন, ‘মেয়েটিকে তো আমি চিনি গো। তা হলে এই গাইয়ে কন্যাটিকেই তুমি বিবাহ করেছো?’

রবীন্দ্রনাথ-প্রতিভা পরস্পরের পরিচিত, এটা জানা ছিল না তো নতুন বরটির! প্রতিভা স্বামীকে বললেন, ‘কী প্রসঙ্গে বলব? তুমি তো জিজ্ঞাসা করোনি।’ এ বার যেন আরও বিস্মিত বুদ্ধদেব: ‘এর জন্য প্রসঙ্গ দরকার হয়? জিজ্ঞাসা করার প্রশ্ন ওঠে? রবীন্দ্রনাথকে দেখা শোনা পরিচয় থাকা সবই তো একটা ঘটনা, একটা বলবার বিষয়।’

 কিন্তু এমন ‘বিষয়’ রবীন্দ্রনাথ সম্পাদিত ‘বাংলা কাব্য-পরিচয়’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেও দু’বার ভাবেন না বুদ্ধদেব। বরং পাল্টা পরিকল্পনায় এবং আবু সয়ীদ আইয়ুব, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ উৎসর্গও করা হল রবীন্দ্রনাথকেই! দৈনিক পত্রিকায় বুদ্ধদেবের প্রবন্ধ, করিমগঞ্জের ‘পল্লীবাণী’তে বক্তব্য খানিকটা অন্যায় ভাবেই উসকে দিল রবীন্দ্র-বিরোধিতা।

বুদ্ধদেবও অবশ্য সোচ্চারে জানাতে পারেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক আদর্শ বর্তমান সময়ে সার্থক নয়। পাশাপাশি, এও বললেন, ‘আমাদের মাতৃভাষাই তাঁর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি।... চিরকালের বাঙালি লেখক এই অর্থে রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকারী’। রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বক্তৃতা দেওয়া, অজস্র প্রবন্ধ লেখা, ‘কবিতা’ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা— রবীন্দ্র-অনুরাগেরই পরিচায়ক।

আসলে বুদ্ধদেবের রবীন্দ্রনাথ বড়ই ব্যক্তিগত। ধীরে ধীরে বার্ধক্য গ্রাস করছে রবীন্দ্রনাথকে। দেখা করতে গিয়েছেন বুদ্ধদেব। দেখলেন, দক্ষিণের ঢাকা বারান্দায় হলদে কাপড় আর গায়ে ‘শাদা’ জামা দিয়ে বসে কবি। পাশে থালায় সাজানো বেলফুল। আগুনের মতো গায়ের রং কিঞ্চিৎ ফিকে। এক ঘণ্টার উপরে কথা বললেন কবি। এ সব ঘরোয়া আড্ডাতেও রবীন্দ্র-কথন ‘যেন বর্ণাঢ্য গীতিনিঃস্বন, যেন গীতধ্বনিত ইন্দ্রধনু।’ এই এক-একটি সাক্ষাতে প্রতিবারই জীবন ধন্য হয় বুদ্ধদেবের।

এমন মানুষটি চলে গেলেন ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে। সে দিনের কলকাতার বর্ণনা দিলেন বুদ্ধদেব, ‘তিথিডোর’ উপন্যাসে। ব্যক্তিগত ভাবে সেই দিনটা, সেই সময়টার কথা (‌‌‌‌বেলা ১২টা ১০ মিনিট) বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বাঙালিকে ধিক্কারও জানিয়েছেন। তিনি জানাচ্ছেন, ঘরে শায়িত রবীন্দ্রনাথ। আবৃত দেহ। দেখা যাচ্ছে শুধু পা দু’টি। সবাই  প্রণাম, প্রদক্ষিণ করছেন।  এক ‘কবিতাপ্রয়াসী সুবর্ণবণিক’ যুবক ফিসফিস করে বুদ্ধদেবকে বললেন, ‘আমার বিয়ের পরে এক বছর কাটেনি, আমি মড়া ছোঁবো না— কিছু মনে করলেন না তো?’

আসলে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এই অনুরাগ, অভিমান, ক্ষোভ বা অভিযোগ— সবেতেই যেন পরবর্তী প্রজন্মের লেখক বুদ্ধদেবের নিজস্ব স্বর খোঁজার চেষ্টা লেগে থাকে।

সাহিত্য-দায়

সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা বুদ্ধদেবকে এই স্বরের সুরকার করে তুলল। দায়বদ্ধতার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে—

আইএ পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়ে কুড়ি টাকা বৃত্তি পান বুদ্ধদেব। তা দিয়েই ছাপায় প্রকাশিত হল সাধের ‘প্রগতি’। এই পত্রিকা বাংলা সাহিত্যের জন্য একটি বড় কাজ করল। এই প্রথম ‘প্রকাশ্যে, একক কণ্ঠে, সোচ্চার ঘোষণায়’ সংবর্ধনা জানাল জীবনানন্দ দাশকে। কিন্তু যে জীবনানন্দকে সংবর্ধনা, সেই কবিরই ‘মহাপৃথিবী’ সম্পর্কে বুদ্ধদেবের প্রতিক্রিয়া, ‘‘...যা ছিলো ভঙ্গি, তা হয়েছে মুদ্রাদোষ, যা ছিল অনন্যতা তা হয়েছে কেন্দ্রচ্যুতি।’’

আদতে ওই দায়বদ্ধতা থেকেই বুদ্ধদেবের এই মন্তব্য। এই দায়বদ্ধতা আরও প্রকট হল আর্থিক সঙ্কটের কালে। তাঁর ‘কবিতা’ পত্রিকা তেরো বছর পূর্ণ করেছে। সম্পাদকীয়তে বুদ্ধদেব জানালেন, বিজ্ঞাপন কমেছে দ্বিগুণ। অথচ খরচ বেড়েছে চার গুণ। দেশবাসীর কাছে সাংসারিক বিচারে বই বিলাসপণ্য। তাই জনসাধারণের ‘বছরে চার টাকা বাঁচাবার প্রলোভন’ বুদ্ধদেবকে ক্ষুব্ধ করল। কিন্তু তার পরেও 

বুদ্ধ-প্রত্যয়: এ দেশেই নিশ্চিত কেউ কেউ আছেন, এমন পত্রিকা যাঁদের কাছে ‘প্রয়োজন’। ‘আপাতত তাঁদের সংখ্যা যত কম, আসলে তার বেশি...’, বিশ্বাস বুদ্ধদেবের। কিন্তু মানুষের উপরে সব সময়ে বিশ্বাস রাখাও যে পাপ! অর্থ-সঙ্কট বেড়েই চলল।

শুধু পত্রিকা চালানোর ক্ষেত্রে নয়, বুদ্ধদেবের দায়বদ্ধতা নতুন কবি, সাহিত্যিকদের প্রতিও।

সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর লেখক সোমেন চন্দের খুনের ঘটনাতেও বুদ্ধদেব লিখলেন ‘প্রতিবাদ’ কবিতাটি। আবার এক তরুণ কবি ‘কবিতা’য় দু’টি কবিতা পাঠালে তা মনোনীত হয়। পাশাপাশি, কবিটির কাছে সম্পাদকের অনুরোধ, একটু যেন দেখা করেন। দেখা করতেই কবিতার শব্দ ধরে ধরে বিশ্লেষণ। তরুণ কবিটি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তবে রাজনীতির কারণে দু’জনের সম্পর্কের তাল কাটল। সুভাষ মাঠে, কল-কারখানায় ঘুরে বেড়িয়ে, রাজনৈতিক মিছিল থেকে শব্দ খুঁজে খুঁজে কবিতার ইমারত তৈরি করেন। কিন্তু এর ফলে, ‘পার্টির খপ্পরে পড়ে লেখাটা নষ্ট হচ্ছে’ সুভাষের, মনে করলেন বুদ্ধদেব।

মতান্তর সপ্তমে পৌঁছল একবার মার্চে। শান্তিনিকেতনে সাহিত্যমেলায়। সুভাষ তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার পরবর্তী পাঁচ বছরের কবিতার আলোচনায় ‘সমাজ-বাস্তববাদী’ কবিদের কথাই শুধু বললেন। কারও তোয়াক্কা না করে মঞ্চে লাফ দিয়ে উঠলেন বুদ্ধদেব। বললেন, সুভাষের বলা কবিতাই যদি ‘বাংলা কবিতার ছবি, তবে তার নিতান্তই দুর্দশা ঘটেছে...’ 

শান্তিনিকেতনের ওই দিনটির কথা শুনিয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। কিন্তু তার পরেও বুদ্ধদেবই বলতে পারেন, ‘শুনেছি, ফরাসী দেশে রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও আরাগঁ আর মরিয়াক না কি পরস্পরের লেখা শ্রদ্ধার সঙ্গে পড়তেন।’

বুদ্ধদেব প্রসঙ্গে তাঁর ব্যক্তি-অভিজ্ঞতার কথাও শুনিয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। ‘কবিতা’ পত্রিকায় শঙ্খ ঘোষের ‘পাথেয়’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সম্পাদনার গুণে শঙ্খর মনে হল, এ যেন অন্য কারও লেখা। ‘কবিতা’য় আর লেখেননি তিনি। না, লেখা নিয়ে তাঁর আক্ষেপ নেই। তবে একটা আক্ষেপ রয়েছে তাঁর— ‘নির্বোধের মতো বুদ্ধদেবের সান্নিধ্য থেকে অকারণে নিজেকে বঞ্চিত করেছি।’

আসলে রবীন্দ্রনাথের কাব্য-আদর্শের সঙ্গে যেমন বুদ্ধদেব নিজেকে মেলাতে পারেননি, হয়তো খানিকটা সে ভাবেই নবীন কবিদের স্বর অপরিচিত ঠেকল বুদ্ধদেবের কাছে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 

কাছে তাই তিনি বললেন, ‘তোমাদের লেখা আমি একদম বুঝতে 

পারছি না।’ যদিও এই পর্বেরই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর ‘বিবৃতি’ কবিতাটি নিয়ে ছাপার আগে কী ভাবে সম্পাদক বুদ্ধদেব ‘শিক্ষকের কাজ করেছেন।’

তবে সুনীল-শক্তি-শঙ্খর খানিকটা আগের পর্বে সমর সেনের সঙ্গে কাব্য এবং ব্যক্তিগত, দু’টি ক্ষেত্রেই বেশ হৃদ্যতা ছিল বুদ্ধদেবের। নিতান্ত অনুরাগবশত ‘বন্দির বন্দনা’র কিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ করলেন আঠারো বছরের সমর। বুদ্ধদেবের বাড়ি ঢুকেই বললেন, ‘আপনার ‘শাপভ্রষ্ট’ কবিতার একটা ইংরেজি করেছি— আপনি দেখবেন?’ তর্জমা পড়ে বুদ্ধদেব চমকে গেলেন। এই বয়সে এমন কাব্যবোধ, ইংরেজিতেই বা কী দখল!

ঘর-পরিবারে

এই সমরই একদিন প্রতিভা-বুদ্ধদেবের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বালিগঞ্জ প্লেস থেকে ট্রামলাইনের দিকে আসছেন। আচমকা প্রতিভা দেখলেন, ‘টু লেট’। তখন বাসা নিয়ে এই সাহিত্যিক দম্পতি বেশ ভাবিত। জন্ম নিল নতুন বাসা, ‘২০২ রাসবিহারী এভিনিউ, বালিগঞ্জে’ কবিতাভবনের। বাংলা সাহিত্যের এই অন্যতম তীর্থক্ষেত্রটি তিলে তিলে তৈরি করলেন বুদ্ধদেব। সঙ্গ দিলেন স্ত্রী প্রতিভা, দুই কন্যা মীনাক্ষী, দময়ন্তী, ছেলে শুদ্ধশীল ও বন্ধুরা।

কিন্তু এই যাপনেও অর্থসঙ্কট পিছু ছাড়ে না! বুদ্ধদেব সে সব অবশ্য সামাল দেন স্ব-ভঙ্গিতে। দময়ন্তী (রুমি) তখন ছয়। মেয়ের জন্মদিনে উপহার কিনে দেওয়ার সাধ্য নেই বুদ্ধদেবের। কিন্তু মেয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বালিশের তলায় চকলেট আর এক কবিতা। কবিতায় এক বাবা বলছেন: ‘ও রুমি, ও রুমি, আমায় চিনবে না কো তুমি, আমি তোমার পরি-মা!’

সন্তানদের জন্য সব সময়ে এমনই নানা চিন্তা করেন বাবা। জ্যেষ্ঠ কন্যা মীনাক্ষী (মিমি) মাকে জানিয়েছেন, এক বছরের ছোট, বছর উনিশের জ্যোতির্ময় দত্তকে বিয়ে করবেন। কিন্তু অর্থ বা স্বাস্থ্য, কিছুরই দরাজ শংসা নেই পাত্রটির। বুদ্ধদেব আমেরিকা থেকে ফিরে সব শুনে অগ্নিশর্মা। নাস্তিক বুদ্ধদেব বললেন, ‘হিন্দু বিয়ে করতে হবে।’

প্রতিভা বাবা ও মেয়েকে রীতিমতো কূটনীতিবিদের মতো পরিস্থিতির সামাল দিতে থাকলেন। শেষমেশ বোধহয় বিয়েতে নিমরাজি হয়ে মত দিলেন বুদ্ধদেব। কিন্তু, রেজিস্ট্রি বিয়ে হলেও কিছু টাকা তো দরকার। স্ত্রী টাকার কথা তুলতেই বুদ্ধদেবের প্রতিক্রিয়া, ‘টাকা! টাকা লাগবে কেন? রেজিস্ট্রি হয়ে গেল বাসভাড়া দিয়ে দিও, চলে যাবে।’

অগত্যা প্রতিভা নিজেই জোগাড় শুরু করলেন। তাঁর ‘বিবাহিতা স্ত্রী’ উপন্যাসটি এক প্রযোজক কিনলেন বেশ মোটা টাকায়। তা দিয়েই বিয়ে হবে। স্ত্রীর তোড়জোড় দেখে যেন সংবিৎ ফিরল বুদ্ধদেবের, ‘এত করছ, আর এদিকে নিমন্ত্রণপত্রটাই লিখছ না। এসো, কী লিখতে চাও বলো।’

বিয়ের আগের দিন। মেয়ের মাথায় বাবার হাত। বললেন, ‘তা হলে তুই সত্যি চলে যাবি এখান থেকে?’ চোখের জল বাঁধ মানল না বসু পরিবারে।

চূড়ান্ত শোকের মুহূর্তে এ ভাবেই বুদ্ধদেব আঁকড়ে ধরেন পরিবারকে। দিনটার কথা বলেন ছাত্র সমীর সেনগুপ্ত। ২৫ জুন, ১৯৬০। বুদ্ধদেবের ‘শেষ’ ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রয়াত। ‘কবিতাভবন’ বিশৃঙ্খল। সিঁড়িতে বসে কাঁদছেন অনেকেই। আর বুদ্ধদেব যেন উদভ্রান্ত!

পরের দিনই ছিল রুমির বিএ পরীক্ষার শেষ দিন। বিছানায় মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠছেন রুমি। এক বার উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন। মেয়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে আচমকা স্বভাববিরুদ্ধ ভাবে চড়া গলায় বুদ্ধদেব বললেন, ‘রুমি আয় তোকে পড়াই। কাল তোর পরীক্ষা— নিয়ে আয়, কী পড়তে চাস নিয়ে আয়।’ ছেলে পাপ্পার পড়াশোনার দিকেও এমনই খেয়াল ছিল বুদ্ধদেবের।

বিশ্বজোড়া পাঠশালায়

আসলে পড়ানোর প্রতি বুদ্ধদেবের একটা আগ্রহ ছিলই, তা সে স্বভাবগত বা আর্থিক, যে কোনও কারণেই। কিন্তু তা বলে কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নয়। রিপন কলেজের সহকর্মী, অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত জানিয়েছেন, বুদ্ধদেবকে সবচেয়ে বাজে ক্লাসগুলি পড়াতে দেওয়া হত। পাশাপাশি, তাঁকে কলেজের নতুন শাখা দিনাজপুরে পাঠানোর তোড়জোড়ও শুরু হল। বুদ্ধদেব কাজে ইস্তফা দিলেন। সেই সময়ে অবশ্য একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘কলাম’ লিখে ভালই উপার্জন হচ্ছিল। কিন্তু তাতেও যে সাহিত্যের ক্ষতি। অতএব তা-ও ছাড়লেন।

এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর সহযোগিতায় বুদ্ধদেব ‘ইউনেস্কো’র বয়স্ক শিক্ষণ-প্রকল্পে ছ’মাসের একটা কাজ পেলেন। এর পরে বুদ্ধদেব চললেন আমেরিকায়, পিটার্সবার্গের পেনসিলভানিয়ার ‘কলেজ ফর উইমেন’-এ এক বছরের অধ্যাপনার কাজে।

কিন্তু কলেজ, পড়ুয়াদের মান ও শহর, কোনওটাই পছন্দ হল না। ‘সাহিত্যের হাওয়া তেমনভাবে বয় না’ যে সেখানে। তবে এই পর্বে সাক্ষাৎ হল প্রিয় কবি এজ়রা পাউন্ডের সঙ্গে। ‘জাহাজের কাপ্তেনের মতো দেখতে’ পাউন্ডের সঙ্গে সে সাক্ষাৎও বুদ্ধদেবের কাছে মনোহর হল না। পাশাপাশি, একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু লাভও হল, হেনরি মিলার। ছ’মাস পরে কলেজে পড়ানো ছেড়ে মার্কিন মুলুকেই ফের কর্মসন্ধান শুরু।

তখনই এল গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি। হুমায়ুনের মধ্যস্থতায় ত্রিগুণা সেনের আহ্বান, বুদ্ধদেব যেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তাতে সায় নেই। শেষমেশ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৬ সালের ১ অগস্ট বুদ্ধদেব তুলানামূলক সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন। ক্লাসে তিনি বেশ কড়া। সঙ্গে স্নেহপ্রবণও। প্রথম যুগের ছাত্র দিব্যেন্দু পালিত জানিয়েছেন, খাতা দেখে বুদ্ধদেব বকাবকি করতে শুরু করলেন: ‘তোমরা সাহিত্যের ছাত্র অথচ সামান্যতম ভাষাজ্ঞান হয়নি এখনো। এটা খুবই লজ্জার কথা।’ আবার দিব্যেন্দুবাবুকে নিজের খরচে চোখের ডাক্তার দেখানো, কোনও ছাত্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফি’ ভরা, সবই করেন শিক্ষক বুদ্ধদেব।

বিভাগটির বুদ্ধ-ঐতিহ্যের গল্প শুনিয়েছেন ছাত্রী নবনীতা দেবসেনও। বিভাগের প্রিয় ‘ভবানীদা’। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিওন। যাদবপুরে এই দাদা-দিদিদের জোর প্রবল। সেই জোরে আবদার, বকুনি, স্নেহ, সবই থাকে সম-মাত্রায়। তত দিনে নবনীতা ওই বিভাগেরই প্রবীণ শিক্ষিকা। একটা ঘরও পেয়েছেন। সেখানে বসেই কী একটা বলেছিলেন যেন! কথাটা পছন্দ হয়নি ভবানীদার। বললেন, ‘কে একসময়ে এই মেঝেয় বসতেন, আর আজ দেখো কে বসে আছে!’ নবনীতার হাসি পেল। ভবানীদা’দের বকার অধিকারটাই হয়তো তৈরি করেছিলেন ঘরটির পূর্ব মালিক, শিক্ষক বুদ্ধদেব!

কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ও ধরে রাখতে পারল না বুদ্ধদেবকে। এক শ্রেণির মানুষের ‘কাঁকড়া-স্বভাবের’ কারণে প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকেও ইস্তফা দিতে হল তাঁকে (১৯৬৩)। তবে এর পরেও বুদ্ধদেব পড়িয়েছেন আমেরিকার নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ক্ষণে ক্ষণেই অভিমান ঝরে পড়ে: ‘যে-যাদবপুরকে এত ভালোবেসেছিলাম...’

‘শেষ নাহি যে’

ভালবাসা, তার থেকে আঘাত, বন্ধুবিচ্ছেদ-সহ নানা কারণে নিজেকে যেন খোলসের মধ্যে ঢুকিয়ে নিচ্ছিলেন বুদ্ধদেব। চোখের সামনে দেখছেন অসুস্থ স্ত্রীকে। চিকিৎসার জন্য টাকা রোজগারের চেষ্টা, তা-ও করতে হচ্ছে। চোখে ছানি পড়ল। জড়িয়ে এল মুক্তাক্ষরের মতো হাতের লেখা। আর চিঠিপত্রে আসতে থাকল ঢাকা, পুরানা পল্টন, গোয়ালন্দ...।

যে বিদ্যাসাগরী চটির ফটফট আওয়াজ বুঝিয়ে দিত ছাদে হাঁটছেন বুদ্ধদেব, তা-ও একদিন থেমে গেল। স্ত্রী দেখলেন, চুপ-কথার বুদ্ধদেবকে। দাঁড়িয়ে রয়েছেন— অপলক চেয়ে দেখছেন জ্যোৎস্নার পূর্ণ চাঁদ।

ক্রমে এগিয়ে এল ১৮ মার্চের সন্ধ্যা, ১৯৭৪। শৌচাগারে ঢুকলেন বুদ্ধদেব। খানিক বাদে ছিটকিনি খুলতে চাওয়ার ‘খটর খটর...’ শব্দ। শুনছেন ছেলে শুদ্ধশীল-সহ গোটা পরিবার।                         

এক সময়ে দরজা খুললও। শৌচাগারের বাঁ পাশের দেওয়ালে বইয়ের তাক। হেলান দিয়ে আছেন বুদ্ধদেব। সটান চোখ দু’টি খোলা, অপলক। সেরিব্রাল অ্যাটাক। ঘুমিয়ে পড়লেন বুদ্ধদেব, রাত ৩টেয়।

হয়তো বা হাঁটা দিলেন অতীতের দিকে। তখনও তাঁর লেখার টেবিলে পড়ে রয়েছে একটি                 অসমাপ্ত লেখা!

বুদ্ধ-চরিত চিরকালই ‘অসমাপ্ত’ রইল। শুধু শেষযাত্রায় ভেসে আসতে লাগল ফাদার আঁতোয়ানের কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে...’ — রবি ঠাকুরেই যে বুদ্ধ-প্রত্যয়ের আশ্রয়।

 ঋণ: ‘জীবনের জলছবি’: প্রতিভা বসু, ‘বুদ্ধদেব বসুর জীবন’: সমীর সেনগুপ্ত,‘বুদ্ধদেব বসু’: সুদক্ষিণা ঘোষ, ‘দেশ’, ‘কলকাতা’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ এবং বুদ্ধদেব বসুর বিভিন্ন বই

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন