কম্পিউটার-মোবাইল ফোনে আর চিন বা তাইওয়ানের চিপ নয়। ২০২৬ সাল থেকে ধীরে ধীরে ঘরের মাটিতে তৈরি মাইক্রোপ্রসেসার ব্যবহার করবে ভারত। কারণ, ইতিমধ্যেই সেই কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেছে নয়াদিল্লি। কিছু দিন আগেই দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের নকশায় ২৮ ন্যানোমিটারের চিপ বা মাইক্রোপ্রসেসার তৈরি করে কেন্দ্র। নয়াদিল্লির এই সাফল্যকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ‘বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করেছেন গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে ল্যাপটপ-কম্পিউটার থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন বা বৈদ্যুতিন গাড়িতে (ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি) বহুল পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে ৩ ন্যানোমিটারের চিপ। ফলে ২৮ ন্যানোমিটারের মাইক্রোপ্রসেসার নির্মাণকে দুর্দান্ত কোনও সাফল্য বলে মানতে নারাজ অনেক সমালোচক। যদিও এর উল্টো যুক্তিও রয়েছে। গ্যাজেট বিশেষজ্ঞদের কথায়, ৩ ন্যানোমিটারে পৌঁছোনোর প্রথম ধাপ হল ২৮ ন্যানোমিটার। সেখানে সাফল্য এলে খুব অল্প দিনের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত তিন ন্যানোমিটারে পৌঁছে যেতে পারবে নয়াদিল্লি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে অতীতে সেই ছবি দেখতে পাওয়া গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের নিজস্ব চিপ তৈরির অন্য গুরুত্ব রয়েছে। আজকের দিনে মাইক্রোপ্রসেসারের জন্য চিন, তাইওয়ান বা আমেরিকার মতো দেশগুলির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে আছে নয়াদিল্লি। নিজেদের স্বার্থে তারা এই পণ্যটির উপর চাপাতে পারে নিষেধাজ্ঞা। অন্য কোনও ব্ল্যাকমেল করার তাসও থাকবে তাদের হাতে। নিজস্ব চিপ ব্যবহার হলে সেই ধরনের কোনও কিছুই চিন্তা করতে হবে না কেন্দ্রকে।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ২৮ ন্যানোমিটারের যে চিপটি ঘরের মাটিতে তৈরি হয়েছে, তার নাম ‘ধ্রুব-৬৪’। এটি এক গিগাহার্ৎজ়ের মাইক্রোপ্রসেসার। আগামী দিনে কোনও বিদেশি শক্তির অনুমতি ছাড়াই এর উন্নত সংস্করণ বানাতে পারবে ভারত। ইচ্ছামতো আনতে পারবে নকশায় অদলবদল। তা ছাড়া এই সাফল্য দেশের অর্থ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হওয়া মাইক্রোপ্রসেসারের ২০ শতাংশই চলে আসে ভারতে। এর জন্য আজকের দিনে খরচ হচ্ছে ২,৪০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যেটা প্রায় ২.১৬ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে চিপের পিছনে খরচ আরও বেড়ে ১৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তখন দেশীয় প্রযুক্তির সস্তা চিপ সরকার ও আমজনতাকে স্বস্তি দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩২-বিট মাইক্রোপ্রসেসর ‘বিক্রম ৩২০১’ প্রকাশ্যে আনে কেন্দ্র। দিল্লিতে হওয়া ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট চিপটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। চণ্ডীগড়ের সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরির সহযোগিতায় তা বানিয়েছে এ দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। মূলত রকেট বা কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য এটিকে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।