আইফোন বনাম অ্যান্ড্রয়েড। কোন অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন বেশি ভাল? এই নিয়ে দুনিয়া জুড়ে বিতর্ক আছে বিস্তর। দুই ধরনের ফোনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার জন্য প্রযুক্তিক্ষেত্রে আছে বিশেষ একটি বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি, যার পোশাকি নাম ‘আনটুটু’। যদিও এই পরিমাপ পদ্ধতি পুরোপুরি নির্ভুল এবং নিরপেক্ষ নয় বলেই মনে করেন গ্যাজেট বিশ্লেষকদের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, আনটুটু বেঞ্চমার্কে আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনা টানা একেবারেই অনুচিত। কারণ, সংশ্লিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে একাধিক ফাঁকফোকর। উদাহরণ হিসাবে প্রথমে আইফোনের কথা বলা যেতে পারে। এর রেটিং ঠিক করতে ব্যাক হ্যান্ডে মেটাল এপিআই ব্যবহার করে আনটুটু বেঞ্চমার্ক। অন্য দিকে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে ব্যাক হ্যান্ডে থাকে ভলক্যান এপিআই। এর জেরে যে ফলাফল হাতে পাওয়া যায়, সেটা পুরোপুরি আলাদা। আর তাই আলাদা আলাদা নিয়মে দুই অপারেটিং সিস্টেমের ফোনের রেটিং ঠিক করা অর্থহীন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার আরও একটি সমস্যা রয়েছে। আনটুটু বেঞ্চমার্কের ফলাফল যে বাস্তব জীবনে খুব একটা কাজে লাগে এমনটা নয়। শুধু তা-ই নয়, এই বেঞ্চমার্ক পরীক্ষার জন্য গুগ্লের প্লেস্টোরে আলাদা করে কোনও অ্যাপ পাওয়া যায় না। ফলে এর ফলাফলগুলি কতটা যুক্তিগ্রাহ্য তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৭ সিরিজ়ের আইফোনকে ভারতের বাজারে আনে অ্যাপ্ল। কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই এর দাম এক ঝটকায় সাত হাজার টাকা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নির্মাণকারী মার্কিন টেক জায়ান্ট। শুধু অ্যাপ্লই নয়, একই ভাবে ফোনের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংও। পাইকারি বাজারে ফোনের যন্ত্রাংশ ও হার্ডঅয়্যারের দাম বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
আরও পড়ুন:
অতীতে যন্ত্রাংশের দাম বাড়লেও ফোনের দাম বাড়ায়নি এই দুই বহুজাতিক সংস্থা। কিন্তু, ২০২৬ সালে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসতে চলেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এ বছর তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল লগ্নি করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। কারণ, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে বিভিন্ন টেক জায়ান্ট সংস্থা। এর জন্য দুনিয়া জুড়েই বেড়েছে র্যাম ও রমের চাহিদা। আর তার জন্যই মহার্ঘ হচ্ছে ফোনের যন্ত্রাংশ। ফলে লভ্যাংশ ঠিক রাখতে দাম বৃদ্ধির পথেই অ্যাপ্ল ও স্যামসাং হাঁটবে বলে মনে করা হচ্ছে।