Advertisement
E-Paper

এক ডলারের দাম ৯২ টাকা! ভারতীয় মুদ্রার পতনে সর্বকালীন নজির, কী কী কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা?

সোমবারও বাজার বন্ধের সময়ে ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময়মূল্য ছিল ৯১.৪৯ টাকা। ওই দিনও ডলারের তুলনায় টাকার দাম ধসেছিল ৪১ পয়সা। বুধবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় ফের ধস নামল টাকার দামে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৪
টাকার দামে পতন।

টাকার দামে পতন। — প্রতীকী চিত্র।

আরও পড়ল টাকার দাম। বুধবার ডলারের সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রার বিনিময়মূল্য ৯২ টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে। বুধবার সকালে বাজার খোলার সময়ে এক লাফে ৬৯ পয়সা বেড়ে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৯২.১৮ টাকা। সাম্প্রতিক অতীতে ডলারের তুলনায় টাকার দামে এতটা পতন দেখা যায়নি।

টাকার দামে ধারাবাহিক পতন চলছিল। কখনও ২৪ পয়সা, কখনও ১৭ পয়সা, কোনও কোনও দিন ৫, ৬ বা ৭ পয়সা করে বাড়ছিল বিনিময়মূল্য। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আগে থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় এই পতনের ধারা চলছিল। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই পতনে আরও জোরালো ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা।

সোমবারও বাজার বন্ধের সময়ে ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময়মূল্য ছিল ৯১.৪৯ টাকা। ওই দিনও ডলারের তুলনায় টাকার দাম ধসেছিল ৪১ পয়সা। মঙ্গলবার বাজার বন্ধ ছিল। তার পরে বুধবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় ফের ধস নামল টাকার দামে। বস্তুত, গত শনিবার থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার পরে রবিবার বাজার বন্ধ ছিল। সোমবার বাজার খুলতেই ২৪ পয়সা পতন হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রার দরে। বাজার বন্ধ হওয়ার সময়ে ধস আরও বাড়ে।

সাম্প্রতিক অতীতে ভারতীয় মুদ্রার দামে এতটা পতন দেখা যায়নি। গত জানুয়ারিতে ডলার-টাকার বিনিময়মূল্য সবচেয়ে খারাপ পতন হয়েছিল (বিনিময়মূল্য ৯১.৯৮ টাকা)। সে দিক থেকে বুধবারের পতনই সর্বকালীন নজির বলে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই এই ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় মুদ্রার দাম। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। অশোধিত তেলের উর্ধ্বমুখী দামই টাকার দরের পতন ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মাঝে ব্রেন্ট অশোধিত তেলের দাম গত দু’দিনে প্রায় ১২-১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যারেলপিছু তেলের দাম ৮২ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছে, যা ২০২০ সালের পর থেকে সর্বাধিক।

ভারতে যত অপরিশোধিত তেলের চাহিদা রয়েছে, তার বেশির ভাগই আসে অন্য দেশ থেকে। প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমদানি খরচও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দেশীয় মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হয়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অশোধিত তেলের দাম ১ ডলার বৃদ্ধি পেলে ভারতের আমদানি খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তা ভারতীয় মুদ্রার দরের উপরে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

Rupee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy