পাহাড়-নদী-জঙ্গল-সমুদ্রের এক রামধনু মিশেল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরের হিমালয় থেকে দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর— প্রকৃতি তার ভাণ্ডার উজাড় করে দিয়েছে এখানে। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া এই রাজ্যের নানা প্রান্তের হালহদিস কয়েকটি পর্বে। প্রথম পর্বে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে জঙ্গলযাত্রা।

গরুমারা:

উত্তরবঙ্গের অতিপরিচিত জঙ্গল মহল। জাতীয় উদ্যান। চারপাশে সবুজ অরণ্যের চাঁদোয়া। ৭৯.৪৯ বর্গকিমির গহন জঙ্গলে চারটি বিট, দু’টি নজরমিনার। জঙ্গলের পাড় ছুঁয়ে গিয়েছে মূর্তি, জলঢাকা, গরাতি, ইংডং নদীর বহতা। গরুমারা ছাড়াও রয়েছে মেদলা, চুকচুকি, খুনিয়ার জঙ্গলমহল। লাটাগুড়ির ঘন অরণ্যের বুকচেরা ৬ কিমি রাস্তা পেরিয়ে বাঁ দিকে বন দফতরের কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে জঙ্গলে ঢোকার অনুমতিপত্র জোগাড় করতে হয়। এর পর বন দফতরের জিপে গরুমারার গহীনে।

স্থানীয় হাটে চলছে বিকিকিনি

ঢুকতেই চা বাগান পেরিয়ে নানা বৃক্ষবৈচিত্রের সমাবেশ। শিরিষ, শিমূল, বহেরা, শালের ঘন জঙ্গল। গাউর, চিতল হরিণ, সম্বর, হাতির দল যে কোনও মুহূর্তে মুখোমুখি হতে পারেন। ইনডং নদীপাড়ের বনবাংলো পেরিয়ে চলে আসুন ‘রাইনো পয়েন্ট’-এ। অনেক নীচে বয়ে চলা ইনডং নদীর তীরে রয়েছে সল্টলিক। এখানেই নুন চাটতে আসে বিখ্যাত একশৃঙ্গ গন্ডার আর বাইসনের দল। বেশ কিছু ক্ষণ কাটিয়ে চলে আসুন শাল, সেগুন, শিশুর জঙ্গলমোড়া আরও এক নজরমিনার যাত্রাপ্রসাদ। কপাল ভাল থাকলে তবেই বন্যজন্তুদের দেখা মিলতে পারে। গরুমারার দক্ষিণপ্রান্তে চুকচুকি নজরমিনার। লাটাগুড়ি থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে ময়নাগুড়ি থেকে বাঁ দিকের রেললাইন পেরিয়ে শাল, সেগুন, পলাশ, শিরিষ, বহেরার ঘন জঙ্গলমহলের ঘেরাটোপে চুকচুকি নজরমিনার। মূলত নানা পাখি দেখার স্বর্গরাজ্য হলেও হাতি, হরিণ, গাউরদের আনাগোনা অবিরাম। বিকেলে মেদলা ওয়াচ টাওয়ারে চলে আসতে পারেন।

লাটাগুড়ি থেকে ১০ কিমি দূরের রামসাই হয়ে কালীপুর ইকো ক্যাম্পে চলে আসতে পারেন। টিকিট কেটে মোষের গাড়ি চেপে চা বাগানের পাশ দিয়ে চলে আসুন মূর্তি, জলঢাকা ও ডায়না নদীর পাড় ছোঁয়া মেদলা নজরমিনারে। অসাধারণ প্রাকৃতিক লাবণ্যমাখা। নদীপাড় জুড়ে এলিফান্টা গ্রাস ভেদ করে মাঝে মাঝেই একশৃঙ্গ গণ্ডার, গাউরদের আনাগোনা। বিকেলে সাফারিতে বুধুরাম ও চটোয়াবস্তিতে ধামসা-মাদল আর আদিবাসী নৃত্যের তালে তালে মেতে উঠুন। এর জন্য আলাদা কোনও চার্জ লাগে না।

চাপড়ামারি:

ডুয়ার্সের আরও এক জঙ্গলমহল। লাটাগুড়ি থেকে মাত্র ২৫ কিমি দূরে ৯৯২ একরের আরও এক গহিন অভয়ারণ্যে। লাটাগুড়ি-মূর্তি ব্রিজ পেরিয়ে খুনিয়ার জঙ্গল পেরিয়ে লেভেল ক্রশিং পেরিয়ে  আকাশছোঁয়া শাল-সেগুনের ছায়ামাখা ঝালংগামী রাস্তার বাঁ দিকে চাপড়ামারি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির প্রবেশপথ। পারমিট দেখিয়ে তবেই প্রবেশ করা যায়। ঘন জঙ্গলের প্রান্তে নজরমিনার। কিছুটা দূরেই ছোট্ট জলা, সল্টলিক। এখানেই নুন চাটতে আসে বন্যজন্তুরা। বিকেলের দিকে হাতি, গাউরের দেখা পাবার সম্ভাবনা থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি চাপড়ামারির বনবাংলোয় রোমাঞ্চকর একটা রাত কাটানো যায়।

চাপড়ামারি জঙ্গলে প্রবেশের পথ

ধনেশপাখি দেখার সেরা ঠিকানা চাপড়ামারির জঙ্গলমহল। মূর্তি নদীর পাড়ে চাপড়ামারি জঙ্গলঘেঁসা আরও এক বনঠিকানা পানঝোরা ওয়াইল্ডানেস ক্যাম্প। এক দিকে নীলমাখা ভুটান পাহাড়ের শোভা, ঠিক তার পায়ের কাছে মখমলি সবুজমাখা চা বাগান আর নদীর পাড়ে নানা বন্যজন্তুর জলপানের দৃশ্যে মুগ্ধ হতে হয়।

কী ভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে, পরদিন সকাল সাড়ে ৯ টায় নিউ মাল জংশনে নেমে গাড়িতে লাটাগুড়ি ২০ কিমি। লাটাগুড়ি থেকে গরুমারা ৭ কিমি। লাটাগুড়ি থেকে চাপড়ামারির দূরত্ব ৩০ কিমি।

চিলাপাতা:

কোচ রাজাদের প্রাচীন মৃগয়াক্ষেত্র। কোচরাজার সেনাপতি ছিলেন চিল্লা। তিনি চিলের মতো ছোঁ মেরে শত্রু নিধন করতেন, সেই থেকে এই অরণ্যমহল্লার নাম হয় চিলাপাতা। গহন, গভীর, আদিম আরণ্যক আবহে মোড়া। চুলের সিঁথির মতো নির্জন বনপথ রোমাঞ্চে ভরপুর। মথুরাপুর চা বাগান পেরিয়ে পৌঁছে যান চিলাপাতা। রেঞ্জ অফিস থেকে পারমিট নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করতে হয়।

দিনে ২ বার সাফারি হয়। ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত, দুপুর ২.৩০-বিকেল ৫.০০টা।

শান্ত নদীটি, পটে আঁকা ছবিটি

সবুজ অরণ্যের গভীর থেকে যে কোনও মুহূর্তে মুখোমুখি হতে পারেন গণ্ডার, হাতি, গাউরের। তোর্সা নদীর বহতায় পুষ্ট চিলাপাতার জঙ্গলমহল। কালাচিনি, বুড়িবসরা ও বেনিয়া নদী চিলাপাতার বুক চিরেছে। গাইড সঙ্গে নিয়ে রোমাঞ্চকর, গা ছমছমে যাত্রাপথে গভীর অরণ্যের মাঝে নানা কিংবদন্তিতে মুখর পাঁচ শতকের নলরাজার গড় ঘুরে নিতে পারেন। এই জঙ্গলেই রয়েছে বিখ্যাত রামগুয়া গাছ, যে গাছে আঘাত করলে রক্তের ধারা বেয়ে আসে। দুর্মূল্য রামগুয়া গাছ চোরাচালানের ফলে আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এখানকার রাভা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলি ঘুরে দেখে নিতে পারেন। ডুয়ার্সের অন্যান্য জঙ্গলের তুলনায় চিলাপাতা আজও আদিম মাদকতায় ভরপুর। কোচবিহার থেকে চিলাপাতা বেড়িয়ে নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

দুলকি চালে জঙ্গলের পথে

কী ভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে হাসিমারায় নেমে ১৮ কিমি দূরে চিলাপাতা। আলিপুরদুয়ার থেকে চিলাপাতার দূরত্ব ২২ কিমি। কোচবিহার থেকে ৪০ কিমি।

জলদাপাড়া:

দূরে নীলচে ভুটান পাহাড় আকাশ ছুঁয়েছে। ঠিক তার পায়ের কাছে গহীন অরণ্যের ঠাসবুনোট। ২১৭ বর্গকিমির জঙ্গলের বুক চিরে বয়ে চলেছে নানা পাহাড়ি নদী। ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারদের নিশ্চিন্ত আবাস। অসমের কাজিরাঙার পর জলদাপাড়ায় একশৃঙ্গ গন্ডারদের দেখা মেলে। এলিফ্যান্ট ও জিপ সাফারি— এই দুই সাফারিতে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য ঘুরে আসা যায়। জঙ্গলের গভীরে বুড়ি তোরসা, তোরসা, মালঙ্গি, হলং, কালিঝোরা নদীর চারপাশে শাল, শিশু, গামার, খয়ের আর নলখাগড়ার জঙ্গলের ঠাসবুনটের মাঝে আরণ্যক নিস্তবতাকে ভেদ করে সামনে দাঁড়াতে পারে চিতল হরিণ, গাউর, শম্বর, হাতির দল। নলখাগড়ার ঘাসজমিনে একশৃঙ্গ গণ্ডারদের দেখা মিলতে পারে।

জলদাপাড়ার বনবাংলো সংলগ্ন পার্ক

নানা পাখির মধ্যে নীলকণ্ঠ পাখিরও দেখা মেলে। হলং নদীপাড়ের বনবাংলোর সামনে জলাশয়ের ধারের সল্টলিকে নুন খেতে আসে বন্যজন্তুরা। মাদারিহাটে জলদাপাড়া ও হলং, এই দুই জায়গায় রয়েছে বনবাংলো।এর মধ্য হলং বনবাংলোটি বেশ রোমাঞ্চকর। যাঁরা হলং বনবাংলোতে থাকবেন তাঁরা এলিফান্ট রাইডের সুযোগ পাবেন সবার আগে। তার পর সুযোগ আসে মাদারিহাটের জলদাপাড়ার বনবাংলোতে থাকা ট্যুরিস্টদের। প্রতি দিন ভোর ৬টায় হলং বনবাংলো থেকে হাতি সাফারি বড়ই রোমাঞ্চকর। এই সাফারিতে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। মাদারিহাটের জলদাপাড়া থেকে জিপসিতে জঙ্গলভ্রমণের সুযোগ আছে।

হলং: 

এক অসাধারণ জঙ্গলমহল। ২১৭ বর্গকিমির জলদাপাড়া জঙ্গলের হলং এক বিস্ময়। যে জঙ্গলের পদে পদে শুধুই রোমাঞ্চ। মূল সড়ক থেকে কাঁটাতার ঘেরা নুড়ি পথ বেয়ে গাড়ি করে ঢুকলেই গা ছমছমে পরিবেশ। প্রায় এক কিমি চলার পর বাঁয়ে সেই বিখ্যাত হলং বাংলোর দেখা মিলবে। বাংলোর সামনেই কিছুটা গেলেই বাঁধানো ঘাট। সামনে কুলুকুলু বয়ে চলেছে, হলং নদী। নদীর ও পারে সল্টলিক বা নুনি। বিকেলের দিকে এখানেই নুন চাটতে আসে নানা জন্তু ও গাউরের দল। সন্ধ্যা ঘনাতেই সেই জঙ্গলমহল চলে যায় বনচরদের দখলে।

পাহাড়ে ঘেরা হলং বাংলো

মালঙ্গি: হাসিমারা থেকে খুব কাছেই বরদাবাড়ি। এখানেই মালঙ্গি বনবাংলো। হাতির পিঠে চেপে হাতিদর্শনের নতুন ঠিকানা। সুন্দর কেয়ারি করা ফুলের বাগানের মাঝে মালঙ্গি বনবাংলোর ঠিক পিছনেই এলিফ্যান্ট রাইডিং পয়েন্ট। হাতি দুলকি চালে শাল, সেগুন, গামারের জঙ্গল ফুঁড়ে এগিয়ে চলে। মালঙ্গি নদীর দিকের ঘন ঘাসজমিনের আড়াল থেকে হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে একশৃঙ্গ গণ্ডার। এ ছাড়াও গাউর, চিতল হরিণ, সম্বর আর নানা পাখির মধ্যে পাহাড়ি ময়না, নীলকণ্ঠ ও কাঠঠোকরাদের দেখা মেলে।

মনের সুখে জলকেলি

বলে রাখা ভাল, যাঁরা হলং বনবাংলোতে থাকবেন এলিফান্ট রাইডিং-এর সুযোগ তাঁরা পাবেন সবার আগে। এর পর সুযোগ পাবেন মাদারিহাটের পর্যটকরা। সে ক্ষেত্রে জলদাপাড়ার ২ নং বিটের বরদাবাড়ি মালঙ্গি বনবাংলোর এলিফান্ট রাইডিং বহু দিন মনে থাকবে। এখানে বন্যজন্তু দেখার সুযোগও অনেক বেশি। এখান থেকে কুঞ্জনগর ইকো পার্ক, চিলাপাতা,দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ঘুরে নিতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন: হাসিমারা থেকে বরদাবাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ কিমি। মাদারিহাট ১২ কিমি। গাড়িতে চলে আসতে পারেন। হলংয়ে প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও সাফারি করা যায়।

কোথায় থাকবেন: গরুমারায় থাকার জন্য রয়েছে অরণ্য গরুমারা জাঙ্গল রিসর্ট (০৩৫৬১-২২৭১৮৫) ভাড়া ১,৫০০- ৩,০০০ টাকা। আকর্ষণ বনবাংলো (২২৬৫৬১) ভাড়া ৯০০- ১,৮০০ টাকা। ড্রিমল্যান্ড হোটেল (২০৩৩০৩) ভাড়া ২,২০০-৩,০০০ টাকা। গ্রিন লেগুন (৯৪৩৪০-১৯৩৪২) ভাড়া ১,৬০০-৩,০০০ টাকা। ইউনিক ইন (০৩৫৩-২৪৩৩৭০২) ভাড়া ১,৫০০- ৩,০০০ টাকা।

মূর্তিতে থাকতে হলে: বন উন্নয়ন নিগমের বনানী (০৩৫৬১-২৮২১৯০) ভাড়া ১,৪০০- ৩,০০০ টাকা। রাজ্য পর্যটন দফতরের মূর্তি ট্যুরিস্ট লজ (০৩৩-২২৪৮-৮২৭১, ২২৩৭-০০৬০, ৬১/০৩৫৩-২৫১১৯৭৮/৯৭৯) ভাড়া ১,৫০০-৩,০০০ টাকা।

চাপড়ামারিতে থাকার জন্য: বন দফতরের সুন্দর বনবাংলো (০৩৫৬১-২২০০১৭, ২২৪৯০৭) ভাড়া ১,৭০০ টাকা। রয়েছে পানঝোরা ওয়াইল্ডনেস ক্যাম্প (০৫৩৬১-২২০০১৭/২২৪৯০৭) ভাড়া ২,৫০০ টাকা।

চিলাপাতায় রয়েছে চিলাপাতা বাম্বু ভিলেজ ফার্ম হাউস (৯০০৭০০৫৯৫৯/৯০০৭০০২৮১৭) ২,২০০-৩,০০০ টাকা। চিলাপাতা জাঙ্গল ক্যাম্প (৯৪৭৪৩৮২৪৪২) ভাড়া ১,২০০-১,৫০০ টাকা।

মালঙ্গিতে রয়েছে বন দফতরের বনবাংলো। www.wbfdc.com। ভাড়া ১,৪০০- ২,২২০ টাকা।

জলদাপাড়ায় থাকার জন্য রয়েছে: পর্যটন দফতরের জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজ (০৩৫৬৩-২৬২২৩০) ভাড়া ১,৬০০-৩,২০০ টাকা। জলদাপাড়া ওয়াইল্ড হাট রিট্রিট (০৩৫৬৩-২৬২৭১২) ভাড়া ১,৫০০-২,২২০ টাকা। রিসর্ট হেভেন ইন (২৬২৩৫৭) ভাড়া ১,২০০-৩,০০০ টাকা।

হলং ট্যুরিস্ট লজ (২৬২২২৮) ভাড়া ২,৫০০ টাকা। জলদাপাড়া ক্যাম্প (২৬২২৯২) ভাড়া ১,২০০-১,৫০০ টাকা।

 

(লেখক পরিচিতি: ক্লাস নাইনে পড়াকালীন পাড়াতুতো মামার সঙ্গে মাত্র ৭০০ টাকা পকেটে নিয়ে সান্দাকফু ট্রেক। সুযোগ পেলেই প্রিয় পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়া। বছরে বার কয়েক উত্তরবঙ্গের অল্পচেনা ডেস্টিনেশনে যাওয়া চাই। কুয়াশামাখা খরস্রোতা নদী কিংবা চলমান জীবনছবিতে ক্লিক, ক্লিক। চলতি পথে মেঠো গানের সুর শুনলেই ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়া। লাদাখে গর্তে সেঁধিয়ে যাওয়া মারমটের ছবি তুলতে ভিজে মাটিতে সটান শুয়ে অপেক্ষায় থাকা— এই নিয়েই ক্যামেরা আর কলম সঙ্গী করে ২২টা বছর। প্রকৃতির টানে ছুটে বেড়ানোটা থামেনি।)

ছবি: লেখক