Advertisement
E-Paper

কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, ছোট্ট ছুটিতে ঘুরে নিন ৩ পড়শি রাজ্যের অরণ্য-পাহাড়ি স্থানে

শীতের ছুটিতে কোথায় যাবেন তা নিয়ে ভাবনা? শিমলা, কাশ্মীর, দেরাদুন-মুসৌরি যেতে না পারার আক্ষেপ মিটিয়ে দিতে পারে বঙ্গের আশপাশের তিন স্থান। কোনওটি চেনা, কোনওটি অচেনা। জেনে নিন ঠিকানা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
ইতিহাস, পাহাড়, ঝর্না, অরণ্যের টানে কলকাতা থেকে ২-৩ দিনের সফরে কোথায় কোথায় যেতে পারেন? এটি সাসারামে শের শাহ সুরির স্মৃতিসৌধ।

ইতিহাস, পাহাড়, ঝর্না, অরণ্যের টানে কলকাতা থেকে ২-৩ দিনের সফরে কোথায় কোথায় যেতে পারেন? এটি সাসারামে শের শাহ সুরির স্মৃতিসৌধ।

একঘেয়ে অফিস! সংসারের ঝক্কি! মাথায় হাজারটা ঝামেলা! কিন্তু সকালে উঠে ঝকঝকে রোদ আর হিমেল হাওয়ার পরশ গায়ে লাগলেই মনে হচ্ছে, এই তো সময় বেরিয়ে পড়ার। এমন যদি হয় তা হলে আর বেশি না ভেবে ছোট্ট ছুটি ম্যানেজ করে বোঁচকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

অরণ্য থেকে পাহাড়, ঝর্না— অপেক্ষা করছে আপনারই জন্য। শুধু তাদের কাছে ছুটে যাওয়ার অপেক্ষা। বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের তিন ঠিকানা জেনে নিন।

সারান্ডা

মেঘাতুবুরু,  কিরিবুরু থেকে সাক্ষী থাকা যায় এমন সূর্যাস্তের।

মেঘাতুবুরু, কিরিবুরু থেকে সাক্ষী থাকা যায় এমন সূর্যাস্তের। —নিজস্ব চিত্র।

অরণ্য, ঝর্না নিয়ে সেজে রয়েছে সাতশো পাহাড়ের দেশ। ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় ‘সারান্ডা’ এমন নামেই পরিচিত। কাকভোরে কলকাতা থেকে রওনা দিলে, বিকেলে সাক্ষী থাকবেন পাহাড়ি সূর্যাস্তের। সন্ধে উপভোগ করা যায় আদিবাসী হাটে, মহুয়া-গুলগুলার স্বাদে।

মেঘাতুবুরু, কিরিবুরু, কারো নদী, ঝিকিরার ঝর্না, বোলানি খনি, থলকোবাদের ঘন অরণ্য, ভালু পাহাড়, জটেশ্বর শিব— এই সব কিছু নিয়েই সারান্ডা।

যাত্রা শুরু হয় বড়বিল স্টেশন থেকে। ভৌগোলিক ভাবে এর অবস্থান ওড়িশায়। তবে বড়বিল হয়ে সারান্ডার দিকে গেলে কোনও দ্রুষ্টব্য যেমন পড়বে ওড়িশায়, কোনওটি ঝাড়খণ্ডে।

সাইটসিইং-এ একে একে দেখে নিন ঝিকিরা, ঘাঘীরথী। পথেই পড়বে লৌহখনি। পাহাড়ের মাথা থেকে নেমে আসছে ঝিকিরার জলধারা। সূর্যের আলো তাতে বিচ্ছুরিত হয়ে সাত রঙ মেলে ধরে। ঘাঘীরথী রয়েছে ঘন বনে। মেঘাতুবুরু, কিরিবুরুর সৌন্দর্য কম সুন্দর নয়। আজীবন মনে রয়ে যাবে এখান থেকে দেখা সূর্যাস্ত।

সারান্ডা সফরে ঘুরে নিতে পারেন ঠাকুরানি পাহাড়ের পায়ের নীচে জটেশ্বরের মন্দির, বৈতরণী নদী, মুর্গমহেশ্বরের মন্দির এবং সেখানকার তিন ঝর্না। দুই রাত তিন দিন হাতে থাকলেই সুন্দর ভাবে সারান্ডা ঘুরে ফেলা সম্ভব।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে বড়বিলের ট্রেন ধরুন। হাওড়া-বড়বিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৬:২০ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়ে এবং দুপুর ১:১৫ মিনিটের মধ্যে বড়বিল পৌঁছায়। সারান্ডার অরণ্য থলকোবাদ হয়ে পৌঁছনো যায়। এ ক্ষেত্রে হাওড়া থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটের সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরে মনোহরপুর পৌঁছতে পারেন। পৌঁছে যাবেন পর দিন ভোর ৪টেয়। কলকাতা বা যে কোনও শহর থেকে টানা গাড়িতেও যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

বড়বিলে থাকার একাধিক হোটেল আছে। থলকোবাদের অরণ্যের ভিতরেও বন দফতরের অতিথি নিবাস আছে। আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া ভাল।

সাসারাম

 তুতলাভবানীর মন্দির যেতে হয় এই ঝুলন্ত সেতু দিয়েই।

তুতলাভবানীর মন্দির যেতে হয় এই ঝুলন্ত সেতু দিয়েই। ছবি:সংগৃহীত।

পড়শি রাজ্য বিহারেও ঘোরার জায়গা নিছক কম নয়। পাহাড়, ঝর্না, জলাধার, অরণ্য, ইতিহাস—সব কিছুই মিলবে একটি সফরে।

সাসারামে রয়েছে সুলতান শের শাহ সুরির সমাধি। কৃত্রিম জলাশয়ের উপর অষ্টভূজাকৃতি সৌধ তৈরি হয়েছে বেলেপাথর দিয়ে। জলের উপর দিয়ে মাঝ বরাবর পর্যন্ত চলে গিয়েছে পথ। তার পর ত্রিস্তরীয় সৌধ। জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যতটা মনোরম, স্থাপত্যও নজরকাড়া।

সাসারাম থেকে সড়কপথে চলুন কৈমুর। এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মুন্ডেশ্বরী মন্দির। অরণ্যে ঢাকা পনওয়াড়া পাহাড়ের উপর খুব পুরনো মন্দির মুন্ডেশরী মাতার। সাসারাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাহাড়ের মাথায় রয়েছে মনঝর কুণ্ড এবং ধুঁয়াকুণ্ড জলপ্রপাত।

ঘুরে নিন তুতলাভবানীর মন্দির। যাওয়ার জন্য রয়েছে ঝুলন্ত সেতু। বর্ষায় এখান থেকে প্রত্যক্ষ করা যায় ঝর্নার বর্ষার রূপ। শীতে জল না থাকলেও জায়গাটির সৌন্দর্য মন ভরাবে।

সাসারাম থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রোহতাসে রয়েছে পাহাড় ঘেরা করমচাট জলাধার। দুর্গাবতী নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে জলাধারটি। দেখলে মনে হবে যেন কোনও শুটিং স্পট।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া স্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন রয়েছে সাসারাম যাওয়ার। হাওড়া থেকে দুন এক্সপ্রেস, পূর্বা, নেতাজি এক্সপ্রেস, মুম্বই মেল-সহ একাধিক ট্রেন রয়েছে রাতে। সকালেই সেগুলি সাসারাম পৌঁছোয়। কলকাতা-জন্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেস সাসারামের উপর দিয়ে যায়।

কোথায় থাকবেন?

সাসারাম, রোহতাসে একাধিক হোটেল রয়েছে। বিশেষত সাসারামে থাকার জায়গা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।

রাবণধারা

ঘুরে আসুন ওড়িশার রাবণধারা থেকে।

ঘুরে আসুন ওড়িশার রাবণধারা থেকে। ছবি:সংগৃহীত।

ওড়িশার বারণধারা হতে পারে শীতের ছোট্ট ছুটির গন্তব্য।রাবণধারা কালাহান্ডির জনপ্রিয় জলপ্রপাত। জলপ্রপাতের নামেই তৈরি হয়েছে ওড়িশা সরকারের নেচার ক্যাম্প।

জায়গাটি পাহাড়ি। রয়েছে জলাধারও। সরকারি আবাসটি যেখানে, সেটি যেন পটে আঁকা ছবি। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় রাবণধারা। যদিও এটি কোনও একটি জলপ্রপাত নয়। অরণ্যের গহিনে রয়েছে একাধিক ছোট-বড় ঝর্না। বড় রাবণধারা, সানা রাবণধারা নামে দু’টি জলপ্রপাত রয়েছে। যদি ট্রেকিং করার মানসিকতা থাকে তা হলে পৌঁছোনো যায় ‘উপর রাবণধারা’তেও। নেচার ক্যাম্পের জায়গাটি এত সুন্দর, সেখানে বসে, আলসেমি করেই কাটিয়ে দেওয়া যায় দু’টি দিন। কালাহান্ডিতে ঘুরে নেওয়া যায় ডোখরিচঞ্চরা জলপ্রপাত, সাসপাদর জলপ্রপাত। রয়েছে কারলাপাত অভয়ারণ্যও।

কী ভাবে যাবেন?

রাবণধারার কাছে বড় শহর হল ভবানীপাটনা। ভবানীপাটনা রেল স্টেশনও আছে। হাওড়া থেকে রাত ১০টা ১০-এ সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরলে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পৌঁছোবেন নরলা রোড স্টেশনে। সেখান থেকে গাড়িতে রাবণধারা ৩৮ কিলোমিটারের মতো। ট্রেনে বা বাসে ভুবনেশ্বর এসে সেখান থেকে ট্রেন ধরে ভবানীপাটনা পৌঁছে কালাহান্ডি ঘোরা যায়। ভুবনেশ্বর-জুনাগড় রোড এক্সপ্রেস ধরে ভবানীপাটনা পৌঁছতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

ভবানীপাটনায় একাধিক হোটেল আছে। তবে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে গেলে ওড়িশা ইকো ট্যুরিজ়মের কটেজই সবচেয়ে ভাল।

Sasaram Rabandhara Offbeat Odisha Travel Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy