Advertisement
E-Paper

সূর্যোদয়ের ছবি মনে গেঁথে যাবে, নতুন বছরে প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে বেছে নিতে পারেন ভারতের ৩ স্থান

সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য এক এক জায়গায় এক এক রকম। পাহাড়ে যেমন থাকে রঙের খেলা, তেমনটা দেখা যায় সাগরের বুকেও।

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৯

ছবি: সংগৃহীত।

গোটা চরাচর ঘুমিয়ে আছে, সে এক রূপ। আবার সূর্যের স্পর্শে আলস্য কাটিয়ে জেগে উঠছে প্রকৃতি, রবির ছটায় উদ্ভাসিত হচ্ছে চারপাশ— সেই রূপের মাধুর্য আলাদা। অস্তমিত সূর্যের যেমন চিত্তাকর্ষক সৌন্দর্য রয়েছে, তেমনই আছে সূর্যোদয়েরও।

দার্জিলিঙের টাইগার হিল সূর্যোদয়ের অপূর্ব রূপ প্রত্যক্ষ করার জন্য জনপ্রিয়। তবে সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য এক এক জায়গায় এক এক রকম। পাহাড়ে যেমন থাকে রঙের খেলা, তেমনটা দেখা যায় সাগরের বুকেও। মরুভূমিতেও প্রভাতের রবি কিরণ জন্ম দিতে পারে এক অন্য রকম মুগ্ধতার। নতুন বছরে এমনই সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকতে হলে কোথায় যাবেন?

মুন্সিয়ারি: উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় মুন্সিয়ারি একটি সাজানো-গোছানো শৈল শহর। এখান থেকেই দৃশ্যমান পঞ্চচুল্লি। পঞ্চচুল্লি হল পর্বতের পাঁচটি শৃঙ্গ। চুল্লি-র অর্থ উনুন!কথিত আছে, মহাভারতে পাণ্ডবেরা মুন্সিয়ারি হয়েই স্বর্গযাত্রা করেন। এখানেই নাকি পাণ্ডবদের পাঁচ ভাইয়ের জন্য পঞ্চচুল্লিতে রান্না করেছিলেন তাঁদের স্ত্রী দ্রৌপদী।

পঞ্চচুল্লির রূপ ধরা পড়ে সূর্যোদয়ের সময়। মেঘমুক্ত দিনে তা দৃশ্যমান হয়। রবিকিরণ এক এক করে এসে পড়ে বরফাবৃত শৃঙ্গে। এক লহমায় দেখলে মনে হয়, পাঁচ শৃঙ্গে যেন আগুন জ্বলছে! নৈনিতাল ভ্রমণের সঙ্গেই জুড়ে নিতে পারেন আলমোড়া, কৌশানি, মুন্সিয়ারি। মুন্সিয়ারি জায়গাটি এমনিতেই সুন্দর। খালিয়া টপ, নন্দাদেবীর মন্দির-সহ এখানে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া স্টেশন থেকে বাঘ এক্সপ্রেস ধরে কাঠগোদাম। কাঠগোদাম থেকে মুন্সিয়ারির দূরত্ব প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার। একদিনে মুন্সিয়ারি যাওয়া বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে (১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগে)। তাই আলমোড়া বা চৌকোরি-তে এক রাত কাটিয়ে বা সেই স্থান ঘুরে নিয়ে পরের দিন মুন্সিয়ারি যান। লখনউ পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে বাসে কাঠগোদাম যাওয়া যায়।

কন্যাকুমারী: কন্যাকুমারীর নাম শুনেছেন, কিন্তু যাওয়া হয়নি? এই শীতে তবে বেরিয়ে পড়তেই পারেন। ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দুতে রয়েছে কন্যাকুমারী জেলা।

বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত আছেই। রয়েছে বহু প্রাচীন কন্যাকুমারী মায়ের মন্দির। তবে এর অন্যতম আকর্ষণ বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল। কাচের সেতু জুড়েছে স্বামী বিবেকানন্দ এবং তামিল কবি তিরুভাল্লুভারের নামাঙ্কিত সাগরের উপরের থাকা দুই স্থানকে।

নৌকা চেপে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ পার করে পৌঁছোনো যায় বিবেকানন্দ রকে। সেখানেই রয়েছে ধ্যান মণ্ডপ, মন্দির। এই স্থানে দাঁড়িয়ে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরের মিলনস্থল দেখার অনুভূতি ভাষাতীত। কন্যাকুমারী থেকে সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্ধকারের বুকে চিরে প্রথমে হালকা আলো ফুটে ওঠে আকাশে। সূর্য ওঠার আগের মুহূর্তে সে এক আলাদা রূপ। আকাশে রং ছড়িয়ে উদিত হয় সূর্য।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে ট্রেনে সরাসরি কন্যাকুমারী পৌঁছনো যায়। বিমানে যেতে চাইলে দিল্লি বা চেন্নাই হয়ে চলুন তিরুঅনন্তপুরম। সেখান থেকে সড়কপথে কন্যাকুমারী।

নুব্রা ভ্যালি: লাদাখের নুব্রা ভ্যালির নানা প্রান্ত থেকে সূর্যোদয়ের অপূর্ব রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। তারই মধ্যে একটি জায়গা হল হুন্ডার বালিয়াড়ি। এটি শীতল মরুভূমি। সূর্য ওঠার প্রাক মুহূর্তেই আকাশে হালকা রঙের ছটা এসে লাগে। সেই রং বদলে যায় কিছু সময় অন্তর। সূর্যের নরম আলো এসে লাগে আকাশচুম্বী ধূসর পাহাড়চূড়ায়। সোনালি রোদে বালির ঢিবিগুলিও হলদেটে হয়ে ওঠে। চারপাশে এক প্রশান্তি বিরাজ করে।

হুন্ডার বালিয়াড়ি।

হুন্ডার বালিয়াড়ি। ছবি: সংগৃহীত।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে লেহ পৌঁছনো যায় বিমানে। হিমাচল প্রদেশের মানালি, অটল টানেল হয়েও লেহ যাওয়া যায়। লেহ গিয়ে প্রথমেই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এক বা দুই দিন থাকা দরকার। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে নুব্রা ভ্যালি। নুব্রা ভ্যালিতে ২-৩ দিন থেকে হুন্ডার বালিয়াড়ি-সহ আশপাশের জায়গাগুলি ঘুরে নিন।

kanyakumari tourism Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy