সন্তানের ঘাড় থেকে ভূত নামাতে গিয়ে মেরেই ফেললেন মা! আদালতের নির্দেশে তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করবেন হত্যায় অপরাধী সাব্যস্ত তরুণী। তরুণী এবং তাঁর দুই মেয়ে টেলিপ্যাথি এবং তুকতাক-সহ বিভিন্ন কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। মেয়ের উপর ভূত ভর করেছে এই বিশ্বাসে একটি আচার পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত তরুণীর এক মেয়ে মারা যায়। তার পর তাঁকে সাজা শোনায় আদালত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী চিনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনের একটি আদালত লি নামের ওই তরুণীকে তাঁর ছোট মেয়েকে হত্যার অপরাধে দোষী বলে ঘোষণা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে লি ও তাঁর দুই মেয়ে বিশ্বাস করতেন যে ভূত তাঁদের পিছু নিয়েছে। তাঁদের আত্মা বিপদের মধ্যে রয়েছে। ডিসেম্বরে লিয়ের ছোট মেয়ে দাবি করে যে তার উপর একটি আত্মা ভর করেছে। তাই তার মা এবং বড় বোনকে সাহায্য করতে বলেছিল। জোর করে আত্মাটি সরানোর চেষ্টায় লি ও তাঁর বড় মেয়ে ছোট মেয়েটির বুকে জোরে চাপ দেয়। এর পর তার গলায় জল ঢেলে দেয়, যাতে সে বমি করে শরীর থেকে আত্মাটিকে বাইরে বার করে দিতে পারে।
লিয়ের ছোট মেয়ে শি এই পদ্ধতিটি তার মা এবং বোনকে চালিয়ে যেতে বলে। তাঁরা সারা রাত এই প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান। পরের দিন সকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যেরা শি-কে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। চিকিৎসকেরা এসে পৌঁছোলে শিয়ের মুখের চারপাশে রক্ত দেখতে পান। চিকিৎসকেরা জানান মেয়েটি মারা গিয়েছে। মামলাটি পর্যালোচনা করার পর, আদালত ঘোষণা করে যে মৃত্যুটি অবহেলার কারণে হয়েছে। তার জন্য আদালতের বিচারক লি-কেই দায়ী করেছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।