হোটেলে ১৫ দিন ধরে একা ঘরবন্দি ৬ বছরের নাবালক। সঙ্গী বলতে হোটেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মী। অসহায় নাবালককে হোটেলের ঘরে রেখে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন মা। মায়ের অভাবে মাঝেমাঝেই সে হোটেলের কর্মীদের দিকে এগিয়ে যেত। তাঁদের আলিঙ্গন করার চেষ্টা করত। প্রায়ই জানালার পাশে বসে দূরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। একাকী বিষণ্ণ নাবালকের এই অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন হোটেলের কর্মীরাই। পরিবারের মতো আগলে রাখেন তাঁরা।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে চিনে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হেনান টিভির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, চেংচেং নামের এক নাবালক ফেব্রুয়ারি মাসে হেনান প্রদেশের ঝেংঝৌতে ২৫ বছর বয়সি মায়ের সঙ্গে একটি হোটেলে ওঠে। শুরুতে নাবালকের মা ইউ এক বার করে রাতে বার হতেন এবং দিনে ফিরতেন। কিন্তু মার্চ মাস নাগাদ তিনি হোটেলে আসা পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং যোগাযোগের কোনও তথ্যও রেখে যাননি।
আরও পড়ুন:
পনেরো দিনেরও বেশি সময় ধরে চেংচেং হোটেলের ঘরে একাই ছিল। মাঝেমাঝে ঘরে থাকা স্মার্ট স্পিকারটিকে জিজ্ঞাসা করত যে তারও বাবা-মা আছে কি না। আর জানাত সে শুধু তার মাকে ফিরে পেতে চায়। চেংচেংয়ের আচরণে উদ্বিগ্ন হয়ে হোটেলের কর্মচারীরা পালা করে তার দেখাশোনা করতেন এবং তাকে খাবার ও ফল এনে দিতেন।
একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যিনি ছেলেটির প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন, তিনি প্রতি দিন চেংচেংয়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন, কথা বলতেন এবং খেলাধুলা করতেন। কর্মীরা নাবালকের মা ইউ-কে ফিরে আসার জন্য জনসমক্ষে আবেদন জানান। পরে স্থানীয় প্রশাসন তরুণীর অনুসন্ধান চালাতে শুরু করেন। ২৪ মার্চ, ইউ হোটেলে ফিরে আসেন এবং তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা করতেই চেংচেং ছুটে এসে তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ইউ এই ঘটনার পর বার বার ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে ছেলের সংক্রমমের আশঙ্কা এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ তাঁকে এমন চরম ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ করতে বাধ্য করেছিল।