Advertisement
E-Paper

তালাবন্ধ ঘরে তিন শিশু, এক জন অন্য জনকে কামড়াল ২৫ বার! ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে মিটমাটের প্রস্তাব দিল ডে কেয়ার

ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে একটি ঘরে চার শিশুর সঙ্গে বসে আছেন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক। শিশুদের খেলতে দেখা যায়। চার জনের মধ্যে এক শিশুর হাত ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে যান মহিলা কর্মী। বদ্ধ ঘরে তিন শিশুকে ফেলে তিনি বেরিয়ে যান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:৫০

ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।

একটি তালাবন্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল তিন শিশুকে। আতঙ্কে এক শিশু ২০ থেকে ২৫ বার কামড় বসাল আর এক শিশুকে। ওই ডে কেয়ারের কর্মীরা শিশুদের একটি ঘরে বন্ধ করে রেখে চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে গত ২৩ জুন মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের একটি ডে কেয়ার বা শিশুযত্ন কেন্দ্রে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি। ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়ার পর সেটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২৯ বছর বয়সি এক আইনজীবী সকাল প্রায় সাড়ে ১০টায় তাঁর সন্তানকে ওই শিশুযত্ন কেন্দ্রে রেখে আসেন। ‘ঘর কা কলেশ’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে সেখানে একটি ঘরে চার শিশুর সঙ্গে বসে আছেন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক। শিশুদের খেলতে দেখা যায়। চার জনের মধ্যে এক শিশুর হাত ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে যান মহিলা কর্মী। বদ্ধ ঘরে তিন শিশুকে ফেলে তিনি বেরিয়ে যান। তার পরেই ঘটে ভয়াবহ ঘটনাটি। ঘরে কোনও শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক উপস্থিত না থাকায় শিশুরা ভয়ে কাঁদতে শুরু করে এবং দরজা খোলার চেষ্টা করে। এই সময়, তিন জনের মধ্যে সাদা জামা পরা এক শিশু কালো টিশার্ট পরা আর এক শিশুকে মারতে ও কামড়াতে শুরু করে। সেই কাণ্ড দেখে তৃতীয় জন ভয়ে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এক শিশু একনাগাড়ে চড়-থাপ্পড় মেরে আঁচড়ে-কামড়ে দিয়েছে অন্য শিশুকে। এই পুরো সময়টি সেখানে কোনও কর্মী বা তত্ত্বাবধায়কের দেখা মেলেনি। মার খেয়ে উচ্চস্বরে কাঁদতে থাকে কালো টিশার্ট পরা শিশু।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ দুপুর ২টো পর্যন্ত ওই শিশুর বাবা-মাকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানাননি। শিশুর অভিভাবক যখন তাঁকে নিতে আসেন, তখন ডে-কেয়ারের অধ্যক্ষ তাদের জানান যে এক শিশু তাঁদের সন্তানকে আঁচড়ে দিয়েছে মাত্র। আহত শিশুর অভিভাবক পোশাক খোলার পর তার সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখে আঁতকে ওঠেন।

তড়িঘড়ি শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে শিশুর অভিভাবকেরা নিকটবর্তী একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তী কালে ডে কেয়ারের সিইও শুভম মহেশ্বরী, ম্যানেজার মঙ্গেশ মুসালে ও বৈভব সাওয়াড়ে, অধ্যক্ষ কাঞ্চন ইয়েওয়ালে এবং মহিলা তত্ত্বাবধায়ক-সহ ছয় জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

শিশুর মা-বাবার অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ মামলা না করার বিনিময়ে তাঁদের ১০ লক্ষ টাকা এবং তাঁদের সন্তানের জন্য তিন বছরের বিনামূল্যে শিক্ষার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন যে, কর্তৃপক্ষ তাঁদের এ-ও হুমকি দিয়েছিলেন যে ডে-কেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হবে না। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর শিক্ষা বিভাগও স্কুলটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে স্কুলটির প্রয়োজনীয় পুরসভার অনুমতিপত্র নেই।

Maharashtra Day Care worker

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy