Advertisement
E-Paper

অসুস্থতায় ছুটি নেই, খাওয়ার জন্য বরাদ্দ ১৫ মিনিট! বিরক্ত হয়ে ১৭ লক্ষের চাকরি ছাড়লেন আইআইটির স্নাতক, ভাইরাল ভিডিয়ো

ওই তরুণের নাম চিরাগ মদন। যেখানে অনেকেই কর্পোরেট ব্যাঙ্কে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেখানে ২৪ বছর বয়সি চিরাগ সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৮
IIT graduate claims he left 17 lakhs per annum job for mental peace, video goes viral

চাকরির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন তরুণ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

অসুস্থতার জন্য ছুটি নেই। দুপুরের খাওয়ার জন্য ১৫ মিনিটের বেশি এক মিনিটও সময় দেওয়া হত না। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির দাবি তুলে বার্ষিক ১৭ লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়ে দিলেন আইআইটি দিল্লি থেকে পড়াশোনা করা এক তরুণ। তরুণ জানিয়েছেন, বেতনের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য তাঁর কাছে বেশি প্রিয়। চাকরির অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে নিজেই জানিয়েছেন তরুণ। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণের নাম চিরাগ মদন। যেখানে অনেকেই কর্পোরেট ব্যাঙ্কে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেখানে ২৪ বছর বয়সি চিরাগ সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তরুণের দাবি, মোটা বেতনের আড়ালে এক ‘বিষাক্ত’ একঘেয়ে পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। আইআইটি দিল্লির এই স্নাতক সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন। জানিয়েছেন কেন তিনি বার্ষিক ১৭ লক্ষ টাকা বেতনের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এর ফলে কর্পোরেট সাফল্যের মানবিক মূল্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।

চিরাগ জানিয়েছেন, তাঁর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত আকস্মিক ছিল না। চাকরি আর জীবনের ভারসাম্য ক্রমশ নষ্ট হতে থাকার কারণেই মুক্তির উপায় হিসাবে ওই পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন। তরুণের দাবি, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ জেনে যে চাকরিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন, তা শীঘ্রই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক ক্লান্তিকর ‘ম্যারাথনে’ রূপান্তরিত হয়। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ ‘উধাও’ হয়ে যায় ধীরে ধীরে। ছ’দিন কাজ করতে হচ্ছিল তাঁকে। চিরাগের দাবি, ওই চাকরি করতে গিয়ে তাঁর মৌলিক অধিকারও খর্ব হচ্ছিল। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, তাঁর কর্মক্ষেত্রে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কর্মীদের ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যাহ্নভোজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হত। এ ছাড়াও বাধা দেওয়া হত স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে। চিরাগের মতে, অসুস্থতাজনিত ছুটি যদি তিনি নিতেনও, তার জন্যও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হত। ফলে বিশ্রাম নেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।

Advertisement

চাপটা শুধু কাজের সময় নিয়ে ছিল না, গ্রাহক জোগাড়ের চাপও ছিল। তেমনটাই দাবি চিরাগের। তরুণ জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের উপর ‘আগ্রাসী বিক্রয় প্রত্যাশা’ রাখা হচ্ছিল। প্রত্যেক কর্মীকে নাকি ১০ কোটি টাকার চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে চাপ বাড়ত এবং অবিরাম কর্মমূল্যায়নের নামে হেনস্থা করা হত বলেও দাবি করেছেন চিরাগ। এর পরেই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে একটি ভিডিয়োয় চিরাগ জানিয়েছেন, ‘‘চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হঠকারী ছিল না, বরং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপের কারণেই তা নিয়েছি।’’ সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। চিরাগের কাহিনি তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, “আমি পুরোপুরি একমত। আমিও ২৩ বছর বয়সে একই কারণে ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন আমি অন্য একটি ব্যাঙ্কে ব্যাকএন্ডে চাকরি করি। তবে সেখানেও পরিবেশ বিষাক্ত।”

Viral Video IIT Delhi resignation Banking Sector
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy