বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে ট্রানজ়িটের সময় ১০ ঘণ্টা মুম্বই বিমানবন্দরে কাটাতে হল এক পাকিস্তানি তরুণীকে। কী অভিজ্ঞতা তাঁর? সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে সেই কথা ভাগ করে নিলেন তিনি। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নেটপাড়ার। যদিও সেই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
যাত্রার বিবরণের পাশাপাশি ভ্রমণের আগে এবং পরের ভাবনাগুলি নিয়েও সমাজমাধ্যমে কথা বলেছেন পাক তরুণী। ওই ভিডিয়োয় তরুণী বলেন, “আমি ভারতে। পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছি। অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় বিমান মুম্বই বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েছিল। এই ট্রানজ়িটের কারণেই কয়েক ঘণ্টা ভারতে ছিলাম আমি।” তরুণী জানান, লন্ডন থেকে মুম্বই হয়ে নেপাল যাচ্ছিলেন তিনি। ভ্রমণের আগে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি লন্ডন থেকে মুম্বই হয়ে নেপাল যাচ্ছি এবং যে কোনও সাধারণ মানুষের মতোই বিমানে ওঠার সময় উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ, ভারত এবং পাকিস্তান খুব ভাল বন্ধুদেশ নয়।” ভিডিয়োয় তিনি ১১ ঘণ্টার ইন্ডিগো বিমানের কথাও উল্লেখ করেন। তরুণীর দাবি, মুম্বই অবতরণের পর সব কিছু কতটা সহজ ছিল তা দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি অবশেষে মুম্বইয়ে নামি। নিরাপত্তা তল্লাশি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এবং আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে এখানে সবাই কত স্বাভাবিক এবং ভাল আচরণ করছেন।” তরুণী জানিয়েছেন, ট্রানজ়িটে থাকার কারণে তাঁকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টা মুম্বই আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ভিতরেই ছিলেন তিনি। কারণ, ভিসা ছাড়া বিমানবন্দর ত্যাগ করার অনুমতি নেই। তরুণী এ-ও জানান, তিনি যখন মুম্বইয়ে অবতরণ করেন তখন অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। ক্লান্তও ছিলেন। তাই বিশ্রাম এবং খাওয়ার জন্য তিনি একটি লাউঞ্জে যান।
আরও পড়ুন:
তরুণী ভিডিয়োয় জানিয়েছেন, এত ক্ষণ সব ঠিকই ছিল। কিন্তু এর পরেই ভারতীয় একটি নম্বর থেকে তাঁর ফোনে একটি মেসেজ আসার কারণে তিনি ঘাবড়ে যান। তরুণী বলেছেন, “সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, যত ক্ষণ না আমি একটি ভারতীয় নম্বর থেকে হোয়াট্সঅ্যাপে একটি টেক্সট পাই যে আমার ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু আছে।” পরে তিনি জানতে পারেন যে তার ব্যাগে একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক থাকার কারণেই ওই মেসেজ পান তিনি। তরুণীর কথায়, ‘‘স্বস্তির বিষয় হল, আমাকে শুধু চেক-ইন করা লাগেজ থেকে আমার পাওয়ার ব্যাঙ্কটি বার করতে বলা হয়েছিল। কর্মীরা পুরোটা সময় খুবই অমায়িক ছিলেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এক জন পাকিস্তানি নাগরিক হিসাবে ভারতের মধ্য দিয়ে ট্রানজ়িট করা খুবই সম্ভব। মুম্বইয়ের সঙ্গে আমার আবার দেখা হবে।’’ এর পর তিনি প্রাতঃরাশ সেরে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের তরুণী। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
পাক তরুণীর ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ওয়ানজ়িপা’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানি ভাল নাগরিকদের নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ভারতীয়দের ওরা সহ্য করতে পারে না। আমিও কারাকোরাম এবং স্কার্দু উপত্যকা ঘুরে দেখতে চাই।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, “আমরা আমাদের অতিথিদের ঈশ্বরের মতো শ্রদ্ধা করি। চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু ভাল হত যদি আপনারাও আমাদের নিয়ে একই রকম ভাবতেন।”