বিতর্কের মুখে ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজ়ন! অভিযোগ, সংস্থাটির ওরেগনের গুদামে এক কর্মীর মৃত্যুর পরে মৃতদেহের সামনেই বাকি কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের তরফে। তেমনটাই উঠে এসেছে একটি তদন্তমূলক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে আমেরিকার ওরেগনের ট্রাউটডেলে অ্যামাজ়নের একটি গুদামে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় এক কর্মীর। ওই কর্মী নাকি অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তার পরেও কাজে আসছিলেন তিনি।
প্রযুক্তি সংক্রান্ত খবরের সংবাদমাধ্যম ‘টেক ক্রাঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পিডিএক্স৯ নামে অ্যামাজ়নের ওই গুদামে কর্মরত অবস্থায় মেঝেয় অসুস্থ হয়ে পড়ে যান ওই কর্মী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। সংস্থার তরফে বিবৃতিতে ওই কর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ কর্মীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কর্মীর পরিবারকে সমস্তরকম সাহায্য করা হবে। অ্যামাজ়নের মুখপাত্র স্যাম স্টিফেনসনও বলেছিলেন, “আমাদের দলের এক জন সদস্যের মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে আমরা তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” সংস্থার দাবি, কর্মীর মৃত্যুর পর বাকি কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের
আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের পুরো কর্মঘণ্টার জন্যই বেতন দেওয়া হয়। বাতিল করা হয় রাতের শিফ্টও।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়েস্টার্ন এজ’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি, মৃত্যুর পর ওই কর্মীর দেহ নাকি বেশ কিছু ক্ষণ গুদামের মেঝেতেই পড়ে ছিল। আর দেহের চারপাশেই চলছিল সংস্থার কার্যক্রম। সহকর্মীর মৃতদেহের পাশেই কাজ করছিলেন কর্মীরা। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যামাজ়ন। অন্য দিকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে দাবি করে সমাজমাধ্যমে অনেকে জানিয়েছেন, গুদামের ভিতরে অস্বাভাবিক রকমের গরম ছিল। তাঁদের দাবি, শব্দরোধী পর্দা লাগানোর জন্য বায়ুপ্রবাহ কমে ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গরমের কারণেই ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। তবে অ্যামাজ়ন স্পষ্ট করেছে, ওরেগনের পেশাগত সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য প্রশাসন ঘটনাটি পর্যালোচনা করেছে। কর্মীর মৃত্যু কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও নাকি রিপোর্ট জমা দিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, পিডিএক্স৯ গুদামটি এর আগেও কর্মপরিবেশ নিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে অ্যামাজ়ন আগেও একাধিক তদন্তের সম্মুখীন হয়েছে। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস বর্তমানে অ্যামাজ়নের গুদামগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি তদন্ত পরিচালনা করছে। যদিও অ্যামাজ়নের দাবি, কর্মী নিরাপত্তার দিকে নজর রয়েছে তাদের এবং আগের থেকে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশেই কমেছে।