Advertisement
E-Paper

মায়ের কোল থেকে দুধের শিশুকে ছিনিয়ে কুয়োয় ফেলে দিল বাঁদর, ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরল ২০ দিনের কন্যা

২০ দিনের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে উঠোনে বসেছিলেন সুনীতা। তখনই বাঁদরের উৎপাত শুরু হয় এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে সুনীতার কোল থেকে সদ্যোজাতকে ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ির ছাদে লাফিয়ে উঠে পড়ে একটি বাঁদর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭

—প্রতীকী ছবি।

সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে রোদ পোহাতে বাড়ির উঠোনে বসেছিলেন তরুণী। তখনই শুরু হয় বাঁদরের উৎপাত। এক বাড়ির ছাদ থেকে অন্য বাড়ির ছাদে লাফাতে শুরু করে দেয় বাঁদরের দলবল। মুহূর্তের মধ্যে মায়ের কোল থেকে সদ্যোজাতকে ছিনিয়ে নিয়ে লাফিয়ে ছাদের উপর উঠে যায় একটি বাঁদর। শিশুটিকে উদ্ধার করতে গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে বাঁদরদের তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। পালানোর সময় শিশুটিকে বাড়ির লাগোয়া কুয়োয় ফেলে চলে যায় বাঁদরটি। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় ভাগ্যের জোরে রক্ষা পায় সেই সদ্যোজাত কন্যা।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই ঘটনাটি বুধবার ছত্তীসগঢ়ের জঞ্জগীর-চম্পা জেলার সেভনি গ্রামে ঘটেছে। তরুণীর নাম সুনীতা রাঠৌর। তাঁর স্বামীর নাম অরবিন্দ রাঠৌর। কারখানায় চাকরি করেন অরবিন্দ। সকালে উঠে কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন অরবিন্দ। তার পর ২০ দিনের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে উঠোনে বসেছিলেন সুনীতা। তখনই বাঁদরের উৎপাত শুরু হয় এলাকায়।

মুহূর্তের মধ্যে সুনীতার কোল থেকে সদ্যোজাতকে ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ির ছাদে লাফিয়ে উঠে পড়ে একটি বাঁদর। সুনীতার কান্না শুনে গ্রামবাসীরা সেখানে জড়ো হন। সদ্যোজাতকে উদ্ধার করার জন্য বাঁদরের দলকে সেখান থেকে তাড়াতে শুরু করেন তাঁরা। এমনকি, শব্দবাজিও ফাটাতে শুরু করেন অনেকে। সেই আওয়াজে ভয় পেয়ে সদ্যোজাতকে একটি কুয়োয় ছুড়ে ফেলে দেয় বাঁদরটি।

তার পর সেখান থেকে দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কুয়ো থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজেশ্বরী রাঠৌর নামে এক তরুণী। এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেই গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। পেশায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্স রাজেশ্বরী। বিপদ বুঝে সঙ্গে সঙ্গে রাজেশ্বরী সদ্যোজাতকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। শিশুটির জ্ঞান ফিরলে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করানো হয় কোলের শিশুকে। সেখানকার চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে জানান যে, সদ্যোজাত সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। অরবিন্দের দাবি, তাঁর ছোট্ট শিশুটি ভাগ্যের জোরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ডায়পার পরে থাকার কারণে কুয়োর জলে সে ভেসে ছিল। গ্রামবাসীরাও তাকে কুয়ো থেকে তুলতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি। কাকতালীয় ভাবে, ঘটনাস্থলে এক জন নার্সও উপস্থিত ছিলেন। শিশুর প্রাণ বাঁচানোর জন্য রাজেশ্বরীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সদ্যোজাতের বাবা-মা।

Chhattisgarh Monkey attack
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy