ইরান যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তেল সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই আমেরিকা জানাল, তারা একটি তৈল শোধনাগার তৈরি করতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৈল শোধনাগার তৈরির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গত ৫০ বছরে আমেরিকা কোনও তৈল শোধনাগার তৈরি করেনি। ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম এই তৈল শোধনাগার তৈরি করা হচ্ছে। আর তাতে বিনিয়োগ করছে মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেড।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে আমেরিকা একটা তৈল শোধনাগার তৈরি করছে। আমেরিকার গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এটা প্রথম।’’ এর জন্য রিলায়্যান্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, এই তৈল শোধনাগারের জন্য রিলায়েন্সের সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) চুক্তি হয়েছে। একে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, টেক্সাসের ব্রাউনসভিল বন্দরে তৈরি হচ্ছে নতুন তৈল শোধনাগারটি। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘এটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে। বৃদ্ধি করবে আমেরিকা জ্বালানি উৎপাদনও। এটা বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার শোধনাগার হবে।’’ তাঁর মতে, এই শোধনাগার থেকে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের পথ আরও মসৃণ হবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও। তবে এ ক্ষেত্রে ‘আমেরিকান ফার্স্ট’ নীতি অবলম্বন করা হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম সুযোগ পাবেন আমেরিকানেরাই।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্য প্রান্তে তেল সরবরাহ হয় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই পরিবহণে হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এর এক দিকে ওমান, অন্য দিকে ইরান। সামরিক সংঘাত শুরু হতেই এই প্রণালীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। হরমুজ় প্রণালীতে চারপাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পণ্যবোঝাই জাহাজ, যার অধিকাংশতেই তেল রয়েছে। বিশ্বের নানা দেশে তা রফতানির কথা থাকলেও ইরানের ‘অবরোধের’ কারণে আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে জ্বালানি বা তেল না-পৌঁছোনোয় সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যেই নিজেদের দেশে তৈল শোধনাগার তৈরির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। তা-ও আবার ভারতীয় ব্যবসায়ীর সংস্থার বিনিয়োগে! উল্লেখ্য, গুজরাতের জামনগরে যে তৈল শোধনাগারটি আছে, তা-ও রিলায়্যান্সের অধীনে।