হরমুজ় প্রণালীতে কি মাইন পুঁতছে ইরান? এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই তেহরানকে আরও এক বার সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের কাছে হরমুজ় প্রণালীতে সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পথে মাইন পোঁতার কোনও খবর নেই। যদি ইরান এমন কোনও পদক্ষেপ করে, তবে ‘ভয়ঙ্কর’ পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পোঁতার বিষয় নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, যদি ইরান এ জাতীয় কোনও পদক্ষেপ করে থাকে তবে তাদেরকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি! ট্রাম্পের কথায়, ‘হরমুজ় প্রণালীতে ইরান যদি কোনও মাইন পুঁতে থাকে, অবিলম্বে তা সরিয়ে নিক! যদি কোনও কারণে মাইন পুঁতে রাখা হয়, তবে ইরানের সামরিক পরিণতি এমন পর্যায়ে যাবে, যা তারা কল্পনাও করেনি।’ মাইন সরিয়ে নেওয়াই ইরানের ‘সঠিক পদক্ষেপ’ হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প জানান, মাদক পাচারকারীদের জাহাজ ধ্বংস করতে হরমুজ় প্রণালীতে একই ধরনের প্রযুক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘সাধবান! তাদের (মাদক পাচারকারী) বডসড় সামরিক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে।’’
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পোঁতার বিষয়টি জানানো হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ় প্রণালীতে কয়েক ডজন মাইন ইতিমধ্যেই পুঁতে রাখা হয়েছে। যদিও ওই প্রতিবেদনে মাইন পোঁতার নেপথ্যে ইরানের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। মাইন পুঁতে রাখার বিষয় নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সরাসরি ইরানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প। যদিও এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত তেহরানের তরফে কোনও প্রক্রিয়া জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে কয়েকটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োগুলি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ় প্রণালীতে পোঁতা মাইন সরানোর কাজ করছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড।
বিশ্বের অন্য প্রান্তে তেল সরবরাহ হয় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই পরিবহণে হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এর এক দিকে ওমান, অন্য দিকে ইরান। সামরিক সংঘাত শুরু হতেই এই প্রণালীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমেরিকা বার বারই হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, এখনই যদি হরমুজ় প্রণালীকে স্বাভাবিক না করা হয়, তা হলে ইরানকে ফল ভুগতে হবে। যদিও ইরান দাবি করছে, তারা হরমুজ় প্রণালীর ‘পুরো দখল’ নিয়েছে। মঙ্গলবার ইরানি বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যদি হামলা জারি থাকে, এই অঞ্চল থেকে তেল বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তার পরেই প্রকাশ্যে আসে মাইন পুঁতে রাখার বিষয়টি।