E-Paper

এসআইআরের আতঙ্কে দু’টি মৃত্যুর নালিশ

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার পথে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত সেরিনা বিবির (৩২) ক্ষেত্রেও এসআইআর-আতঙ্কের প্রসঙ্গ উঠেছে। এ দিন ব্লক অফিসে শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভ্যানে অসুস্থ হন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭

— প্রতীকী চিত্র।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আতঙ্কে মৃত্যু, শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থতা, হয়রানি, জীবিতকে তালিকায় ‘মৃত’ বলে দেখানোর মতো নানা কারণে সোমবারেও আঙুল উঠেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দিকে। একাধিক জেলায় এ দিন হয়রানির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি!

বীরভূমের সিউড়ির অঞ্জলি মণ্ডলের (৬৫) নামে শুনানির নোটিস এসেছিল ৮ জানুয়ারি। ছেলে নিমাই মণ্ডলের দাবি, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় বাড়িতে এসে শুনানির আর্জি জানিয়ে চিঠি দেন সিউড়ি ২ ব্লক কার্যালয়ে৷ কিন্তু তিন সপ্তাহের বেশি পেরোলেও কেউ বাড়িতে এসে শুনানি করেননি। নিমাইয়ের কথায়, ‘‘শুনানির চিন্তায় অসুস্থ বোধ করতেন মা৷ রবিবার সকালে বাড়িতেই মারা যান৷’’ প্রশাসনের দাবি, সমস্ত শুনানির শেষে অসুস্থদের বাড়ি-বাড়ি শুনানির কথা রয়েছে। হয়তো কিছু দিনের মধ্যেই শুনানি হত অঞ্জলির।

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার পথে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত সেরিনা বিবির (৩২) ক্ষেত্রেও এসআইআর-আতঙ্কের প্রসঙ্গ উঠেছে। এ দিন ব্লক অফিসে শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভ্যানে অসুস্থ হন তিনি। তাঁর স্বামী সিদ্দিক আলির দাবি, “শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকে আতঙ্কে ছিল স্ত্রী। বলত, ‘ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কী হবে’!’’ সে জেলারই হাড়োয়ায় শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হন দুই অন্তঃসত্ত্বা। আর এক মহিলা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। মালদহ জেলা স্কুলের শুনানির লাইনে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন আর এক মহিলা। শুনানিতে হয়রানির অভিযোগে মালদহের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন-সহ জেলা তৃণমূলের নেতারা। পরে বিজেপির প্রতিনিধি দল হাজির হলে জেলাশাসক দেখা করেননি বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়িতে বিজেপি জেলাশাসকের দফতরে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ করে, তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার নির্দেশে হিন্দুদের নানা কারণে হয়রান করা হচ্ছে, তাঁদের নথি নিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে হিন্দুদের নাম বাদ গেলে, জেলাশাসকের দফতরে তালা লাগানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ায় ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হচ্ছে না বলে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর মনোহরপুর গ্রামে ন’জন জীবিতকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তাঁদের নামে ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি খুঁজে না পেয়ে বিজেপি দেশের সংখ্যালঘু স্থায়ী বাসিন্দাদের নিশানা করছে।” বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, “এসআইআর করছে কমিশন, বিজেপি নয়।” প্রশাসনের বক্তব্য, অভিযোগ উঠলেই কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, এমন নয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision SIR hearing West Bengal SIR Death Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy