দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারের সঙ্গে বরযাত্রী-বোঝাই অটোর ধাক্কায় মৃত্যু হল অটোর চালক-সহ চার জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন চার জন। তাঁদের কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ফলতার ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নারকেলডাঙা মোড়ের কাছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতেরা হলেন বিষ্ণুপুর থানার কন্যানগর গভর্নমেন্ট কলোনির বাসিন্দা মুরারিমোহন পাল (৩৫), ডায়মন্ড হারবারের মাঝেরহাট পূর্বপাড়ার সত্য নস্কর (৪২), বিষ্ণপুরের কাশীবাটির বাপি ভৌমিক (৩২) ও নোদাখালির চকমানিক গ্রামের বরুণ মাইতি (৩৫)। পুলিশ জানিয়েছে, অটো এবং ট্রেলারটি আটক করা হয়েছে।
বিষ্ণুপুর থানার আমতলা এলাকার এক যুবক বৃহস্পতিবার রাতে ডায়মন্ড হারবারের পাড়ুলিয়া কোস্টাল থানার আব্দালপুর গ্রামে বিয়ে করতে এসেছিলেন। সেই বিয়ে বাড়ি থেকেই ৭ জন বরযাত্রী অটো করে ফিরছিলেন।
রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ অটোটি স্থানীয় নারকেলডাঙা মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারে ধাক্কা মেরে রাস্তার ডান দিকের খালে উল্টে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অটোর অতিরিক্ত গতি ও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আখতার আলি মোল্লা, রহমান মোল্লারা বলেন, ‘‘চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে অটোটি টেনে তোলার চেষ্টা করি। ঘটনাস্থলে টহলদারি পুলিশ ভ্যান আসে। আনা হয় ক্রেন।’’ উদ্ধার কাজের জন্য লাগানো হয়েছিল বাড়তি আলো। ঘণ্টাখানেক পরে অটোটি তোলা হয়। চালক-সহ ৮ জনকে নিয়ে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর থানার আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ৪ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সত্য নস্করের বাড়ি পাড়ুলিয়া কোস্টালের মাঝেরহাট পূর্বপাড়ায়। তিনি কর্মসূত্রে আমতলায় থাকেন। বৃহস্পতিবার রাতে যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, সেখান থেকে তাঁর বাড়ি কাছে হলেও তিনি সেখানে না ফিরে আমতলায় যাচ্ছিলেন। তাঁর এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলের বয়স তিন।
বৃহস্পতিবার রাতে সত্যবাবুর দাদা গোবর্ধনবাবু পুলিশের থেকে খবর পান। এ দিন তাঁর বাড়ির সামনে সকাল থেকেই ছিল পাড়া-পড়শিদের ভিড়। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য দেবব্রত কয়াল বলেন, ‘‘সত্যবাবুই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আমরা ওই পরিবারের পাশে রয়েছি।’’