Advertisement
E-Paper

বল ভেবে বোমা কুড়িয়ে বাড়ি এনে বিপত্তি, বাগদায় জখম ৫

বোমা ফেটে জখম হলেন পাঁচ গ্রামবাসী। যার মধ্যে রয়েছে চোদ্দো বছরের এক কিশোরী ও বছর দশেকের এক কিশোর। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানার মামাভাগিনা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, জখম গ্রামবাসীদের নাম দুর্গা মণ্ডল, পূর্ণিমা মণ্ডল, ভীম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আন্না পাড়ুই। এঁদের মধ্যে ভীমকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০১৫ ০৩:০৭
চিকিৎসা চলছে জখম কিশোরীদের। বৃহস্পতিবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

চিকিৎসা চলছে জখম কিশোরীদের। বৃহস্পতিবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

বোমা ফেটে জখম হলেন পাঁচ গ্রামবাসী। যার মধ্যে রয়েছে চোদ্দো বছরের এক কিশোরী ও বছর দশেকের এক কিশোর। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানার মামাভাগিনা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, জখম গ্রামবাসীদের নাম দুর্গা মণ্ডল, পূর্ণিমা মণ্ডল, ভীম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আন্না পাড়ুই। এঁদের মধ্যে ভীমকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণিমার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসডিপিও (বনগাঁ) বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, ‘‘একটি পেটো ফেটে এই ঘটনা। একটি সকেট বোমা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। বোমাগুলি কোথা থেকে এল, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’’ কারও জখমই গুরুতর নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ মামাভাগিনা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডল তাঁর মেয়ে পূর্ণিমা, প্রতিবেশী অর্পিতা ও আন্না মিলে বাড়ির কাছেও নওদা পাড়ায় খেতে শাক তুলতে গিয়েছিলেন। সেখানে বছর বারোর অর্পিতা দেখতে পায়, খবরের কাগজে ঢাকা দেওয়া অবস্থায় কী যেন পড়ে রয়েছে। সে কাগজ সরিয়ে দেখতে পায় দুটি ‘বল’ পড়ে রয়েছে।

অর্পিতা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সঙ্গে থাকা তার মাসির মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আন্নাকে সে ‘বল’ দুটো দেখিয়ে বলে বাড়ি গিয়ে খেলা যাবে। এ দিন বিকেলে বাগদা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে শুয়ে অর্পিতা বলে, ‘‘ধর্মঘট থাকায় স্কুলে যাইনি। তাই আন্নাকে সঙ্গে নিয়ে ওদের সঙ্গে খেতে গিয়েছিলাম শাক তুলতে। বুঝতে পারিনি, ওই দু’টি আসলে বোমা। শাক তুলে ঝুড়ির মধ্যে বল দু’টি রেখে মাথায় করে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম।’’

পূর্ণিমা বলেন, ‘‘বাড়িতে এসে ওরা আমাকে ওই দু’টি জিনিস দেয়। দেখি একটায় সুতো জড়ানো। আমি কৌতুহলবশত সুতো খুলতে থাকি। সে সময় মাটিতে ওটা ফেটে যায়। জ্ঞান হারাই।’’ আশপাশে থাকা বাকিরাও বোমায় জখম হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রানি মিত্রের কথায়, ‘‘বিকট শব্দ শুনে মনে হয়েছিল গাড়ির টায়ার ফেটেছে। ছুটে গিয়ে দেখি, ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সকলে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে। রক্ত বের হচ্ছিল।’’ তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। রাস্তা দিয়ে যাওয়া অটো থামিয়ে সকলকে বাগদা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্গাদেবী বলেন, ‘‘আমরা কোনও দিন বোমা দেখিনি। ফলে বুঝতে পারিনি।’’

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এলাকাটি শান্তিপূর্ণ। বোমাবাজি বা দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নেই। বোমা কোথা থেকে এল, তা নিয়ে সকলে বিভ্রান্ত। বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধক্ষ্য পরিতোষ সাহা বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ এলাকা মামাভাগিনা। কারা বোমা রাখল মাঠে, তা নিয়ে আমরাও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।’’ ঘটনার পরে সিআই গাইঘাটা পার্থ সান্যাল ঘটনাস্থলে যান। তিনি কৌটা বোমাটি উদ্ধার করে আনেন। সেটি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাইরে এসে ওই এলাকার কেউ অপরাধমূলক কাজ করার জন্যই বোমা দু’টি রেখে গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত কাছেই। ফলে ও দেশের দুষ্কৃতীরা বোমা রেখে গেল কিনা, পুলিশ তা-ও খতিয়ে দেখছে।

Bagda hospital bomb blast injured Purnima Mandal Ananda Mandal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy