E-Paper

হাবড়ায় স্থানীয় মুখের দাবি বিজেপিতে

দলের অন্দরে গুঞ্জন, বিজেপির এক বিধায়ক এ বার হাবড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে হাবড়া বিধানসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতেই আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এ বার স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন দলের কর্মী-নেতাদের একাংশ। ইতিমধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সে দাবি পৌঁছেছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

হাবড়ার বিজেপি নেতা বিপ্লব হালদার নিজেও প্রার্থিপদের দাবিদার। তাঁর কথায়, ‘‘দলীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।’’ বিজেপির হাবড়া মণ্ডল-১ সভাপতি বলরাম ঘোষ জানান, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হলে এলাকার মানুষ সহজে তাঁদের বিধায়ককে কাছে পাবেন। বিজেপির হাবড়া মণ্ডল-৩ সভাপতি তারক সাহা বলেন, ‘‘বিজেপির হয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা অভিজ্ঞ মানুষেরা এখানে আছেন। তাঁরা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য।’’

সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত স্থানীয় ও বহিরাগত মিলিয়ে ৩৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থী আবেদন করেছেন। দলের অন্দরে গুঞ্জন, বিজেপির এক বিধায়ক এ বার হাবড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

ঐতিহাসিক ভাবে হাবড়ায় বিজেপির একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। উদ্বাস্তু ও মতুয়া সমাজের মানুষের সংখ্যা এখানে ভালই। উল্লেখযোগ্য ভাবে, রাজ্যে বিজেপির প্রথম পুরপ্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন এই হাবড়া থেকেই।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, হাবড়ায় বিজেপির অন্দরে কিছু কোন্দল রয়েছে। অতীতে একাধিক ঘটনায় তা প্রকাশ্যে এসেছে। বহু স্থানীয় নেতা প্রার্থী হওয়ার দাবিদার হওয়ায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে বহিরাগত প্রার্থী করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গত লোকসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্রে থেকে বিজেপি হাবড়ায় ১৯,৬৮৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বিজেপির একটি সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতির নামও শোনা যাচ্ছে, যিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

গত বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া থেকে তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জয়ী হয়েছিলেন মাত্র ৩,৮০০ ভোটে। বিজেপির প্রার্থী ছিলেনদলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ।

২০১৬ সালে গোবিন্দ দাস এবং ২০১১ সালে উৎপল পাল বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে সাফল্য আসেনি। উৎপল পেয়েছিলেন, ৩.৫৪ শতাংশ ভোট। গোবিন্দ পেয়েছিলেন ১২.২৮ শতাংশ ভোট।

বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, গোবিন্দের পৈতৃক বাড়ি হাবড়ায় হলেও তিনি মূলত ভোপালে থাকতেন। উৎপল হাবড়ায় ভাড়া থাকতেন। আদি বাড়ি গাইঘাটা থানা এলাকায়।

হাবড়ার পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ‘‘বিজেপির সংগঠন এখানে দুর্বল, ফলে প্রার্থী যিনিই হন, বড় ব্যবধানে পরাজিত হবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 Habra

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy