ঘরবাড়ি সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলেই ভালবাসেন। এমনকি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য আমরা সন্ধ্যাবেলায় সংসারের অনেক কাজ করে থাকি। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র মতে, সূর্যাস্তের পর নির্দিষ্ট কিছু কাজ করলে তার কুপ্রভাব পড়তে পারে সংসারে। মা লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হতে পারেন। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সন্ধ্যায় কী কী কাজ করলে তার ফল হিতে বিপরীত হতে পারে তা আলোচনা করা যাক—
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সারা দিনে চার বার ঘরে ঝাড়ু দেওয়া যায়। সকালের দিকে যতটা সম্ভব ঘরদোর পরিষ্কার করে নিতে চেষ্টা করুন। যদি সন্ধ্যায় ঝাড়ু দিতে চান তবে, সূর্য ডোবার আগেই সেই কাজ সেরে ফেলতে হবে। সূর্য ডোবার পর কখনওই ঝাঁটা ব্যবহার করা যাবে না। একান্তই প্রয়োজন হলে ময়লা এক কোণে জমিয়ে রাখুন, কিন্তু সন্ধ্যার পর বাইরে ফেলবেন না। তাতে মা লক্ষ্মীর ক্রোধ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন:
ঝাড়ু রাখার ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম। বাস্তুমতে, ঝাড়ু কখনও সকলের চোখের সামনে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা উচিত নয়। ঝাঁটা সব সময় কোনও গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখতে হয়। ঘরের যত্রতত্র ঝাঁটা ফেলে রাখলে তা আর্থিক স্থিতি বিঘ্নিত করে এবং পারিবারিক বিবাদ উস্কে দেয়।
সূর্যাস্তের সময়টি দিন ও রাত্রির সন্ধিক্ষণ হওয়ায় এই ক্ষণকে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এই সময় নির্দিষ্ট কিছু কাজ করলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। সন্ধ্যার পর কাউকে দুধ অথবা দই দান করা অশুভ। এর ফলে ঘরের সুখ-শান্তি বিঘ্নিত হয়। সূর্যাস্তের পর কাউকে নুন এবং হলুদ দান করবেন না। বাস্তুমতে, এর ফলে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন:
সূর্যাস্তের পর কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা লেনদেন করা অশুভ বলে মনে করা হয়। সন্ধ্যার পর বা রাতে নখ কাটা, চুল কাটানো বা দাড়ি কামানো বাস্তু অনুযায়ী অশুভ বলে বিবেচিত হয়। এটি দুর্ভাগ্য এবং স্বাস্থ্যহানি ডেকে আনে বলে বিশ্বাস। সূর্যাস্তের সময় এবং সন্ধ্যাবেলা ঘুমোনো উচিত নয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, তা আয়ু এবং সম্পদ কমিয়ে দেয়। তা ছাড়া এর ফলে নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ বেড়ে যায়।
বাস্তু অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর তুলসীগাছ স্পর্শ করা বা গাছের পাতা ছেঁড়া একেবারেই উচিত নয়। তবে সন্ধ্যায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। সন্ধ্যার পর খোলা আকাশে কাপড় শুকোতে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বাস করা হয়, রাতের অন্ধকারে নেতিবাচক শক্তি কাপড়ে প্রবেশ করতে পারে যা পরে মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।