বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির শক্তিপ্রবাহ যদি ঠিক না থাকে, তবে তার ফলে পরিবারের সদস্যেরা আর্থিক টানাপড়েনের সম্মুখীন হতে পারেন। এমনকি, ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে যেতে পারে তাঁদের জীবন। নীচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুদোষের উল্লেখ করা হল যা আপনাকে আর্থিক সমস্যার মুখে ফেলতে পারে—
উত্তর-পূর্ব কোণ
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব দিককে কুবের বা ধনের দিক মানা হয়। এই কোণে যদি কোনও রকম ভারী বস্তু রাখা হয় অথবা এই দিকটি যদি নোংরা থাকে, তা হলে আর্থিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। উত্তর-পূর্ব দিকে শৌচালয় বা রান্নাঘর থাকলে ঋণের বোঝা বাড়ে। এই কোণে আবর্জনার পাত্র বা অপ্রয়োজনীয় ভারী আসবাবপত্র রাখবেন না। তার ফলে হিতে বিপরীত হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ
এই কোণটি স্থায়িত্বের প্রতীক। যদি বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক তার উত্তর-পূর্ব দিকের চেয়ে নিচু হয়, তবে সঞ্চয় কমে যায়। এমনকি, পরিবারের সদস্যেরা ঋণের ফাঁদেও পড়তে পারেন। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বাড়ির সদর দরজা থাকা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
জলের অপচয়
জলের অপচয়কে বাস্তুশাস্ত্রে সরাসরি অর্থের অপচয় হিসাবে মনে করা হয়। কল থেকে অনবরত জল চুঁইয়ে পড়লে তা ঋণের পথ প্রশস্ত করে। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে জলের ট্যাঙ্ক বা কল থাকা বাস্তু অনুযায়ী অশুভ।
ভুল দিকে আয়না লাগানো
আয়না শক্তিকে প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ বা পশ্চিম দেওয়ালে আয়না লাগানো থাকলে তা ধনের বহির্গমন নির্দেশ করে। সব সময় উত্তর বা পূর্ব দিকের দেওয়ালে আয়না লাগানো শুভ।
আরও পড়ুন:
বাড়ির প্রবেশদ্বার
সদর দরজার সামনে যদি কোনও অন্ধকার গলি, বিদ্যুতের খুঁটি বা বড় গাছের ছায়া পড়ে তা হলে পরিবারের সদস্যদের আর্থিক উন্নতিতে বাধা দেয়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঋণ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হল—
- আপনার টাকা রাখার আলমারি বাড়ির উত্তর দিকে রাখুন এবং লকারটির মুখ যেন উত্তর দিকেই খোলে সে বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে।
- বাড়িতে কোনও ভাঙা কাচ, বন্ধ ঘড়ি বা অকেজো বৈদ্যুতিন সামগ্রী থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। এই জিনিসগুলি বাড়িতে উপস্থিত থাকলে তা নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে।
- ঘরে নেতিবাচক শক্তি কাটাতে নুন মেশানো জল দিয়ে ঘর মুছতে পারেন।