Advertisement
E-Paper

নোয়াপাড়ায় ফিরলেন ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীরা

বিজেপির পাল্টা দাবি, ওই কর্মীরা তৃণমূলে যোগ দেবেন, এই শর্তেই তাঁদের বাড়ি ফেরানো হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২১ ০৭:০১
পাশে: পলতায় বিজেপি কর্মীদের ফিরিয়ে আনলেন তৃণমূল কর্মীরা। বৃহস্পতিবার।

পাশে: পলতায় বিজেপি কর্মীদের ফিরিয়ে আনলেন তৃণমূল কর্মীরা। বৃহস্পতিবার। ছবি: মাসুম আখতার

কলকাতার মানিকতলার পরে এ বার ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া। রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশে ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ফেরাল তৃণমূল। নোয়াপাড়ায় বৃহস্পতিবার ১০ জন বিজেপি কর্মী বাড়ি ফিরেছেন। তাঁদের অনেকের অবশ্য দাবি, তাঁরা বুথে বসার জন্য বিজেপির থেকে টাকা পেয়েছিলেন। আর বিজেপির পাল্টা দাবি, ওই কর্মীরা তৃণমূলে যোগ দেবেন, এই শর্তেই তাঁদের বাড়ি ফেরানো হয়েছে।

নোয়াপাড়া শহর যুব তৃণমূলের তরফে এ দিন সেখানকার পলতা উত্তর কোয়ার্টার্স এলাকার বাসিন্দা বিজেপির ওই কর্মীদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। বিজেপির কর্মীদের প্রত্যাবর্তনের অর্থ যে এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে, তা বোঝাতে এ দিন যুব তৃণমূলের তরফে সাদা পায়রা ওড়ানো হয়। ফিরে আসা বিজেপি কর্মীদের মিষ্টিমুখও করানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন বুথে বিজেপির এজেন্ট ছিলেন। তাঁদের বাড়ি ফেরানোর পিছনে স্থানীয় নোয়াপাড়া বিধায়ক মঞ্জু বসুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে যুব তৃণমূল। মঞ্জুদেবী এ বার ওই কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের আত্মীয় তথা বিজেপি প্রার্থী সুনীল সিংহকে হারিয়েছেন।

নোয়াপাড়া শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রসূন সরকার বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জেতার পরে তৃণমূলের কর্মীদের উপরে প্রচুর অত্যাচার হয়েছিল। ২ মে আমরা জয়ী হওয়ায় এই বিজেপি কর্মীরা ভয়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বুঝি, পরিবার ছেড়ে সুখে থাকা যায় না।”

ঘরে ফেরা বিজেপির পোলিং এজেন্ট সোমনাথ সেনাপতি বলেন, “বিজেপি আমাদের টাকা দিয়েছিল। তাই ‛১৬৪’ নম্বর বুথে ওদের পোলিং এজেন্ট হয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল দেখে আমরা ভয়ে পালাই। বিজেপি আমাদের পাশে থাকেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগেই ফিরলাম।” আনন্দ ভট্টাচার্য নামে আরও এক কর্মী জানান, তিনিও একটি বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন। অত্যাচারের ভয়ে তাঁরা পালিয়েছিলেন। তৃণমূলের তরফে বিনা শর্তে তাঁদের ফেরানো হয়েছে বলে দাবি।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অনেক জায়গায় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোট গণনার দিনেই জগদ্দল থানা এলাকায় দুষ্কৃতীদের মারে আহত হওয়ার পরে মৃত্যু হয় শোভারানি মণ্ডল নামে এক বৃদ্ধার। তাঁর ছেলে বিজেপি কর্মী। মঙ্গলবার রাতেও নৈহাটিতে সন্তু মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা মারধর করায় সন্তুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির।

বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এ দিন ওই বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগকে নাটক বলে দাবি করে করেছেন। তাঁর দাবি, “এটা নাটক ছাড়া কিছু নয়। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ৮০০ থেকে ১০০ কর্মী ঘরছাড়া। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আমরাও যোগাযোগ করতে পারছি না। তৃণমূলের অত্যাচারেই তাঁরা বাড়িছাড়া। নোয়াপাড়ার আমাদের ওই কর্মীদের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হয়েছে। সেই শর্তে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে।”

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy