Advertisement
E-Paper

শব্দ-তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ডায়মন্ড হারবারবাসী

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকের তাণ্ডব। বিরক্ত এলাকাবাসী। অথচ, রাজনৈতিক সভার মাইক বন্ধের আর্জি নিয়ে কে আর সাহস সঞ্চয় করে পুলিশে কাছে যাবে!

দিলীপ নস্কর

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ ০৩:৫২

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকের তাণ্ডব। বিরক্ত এলাকাবাসী। অথচ, রাজনৈতিক সভার মাইক বন্ধের আর্জি নিয়ে কে আর সাহস সঞ্চয় করে পুলিশে কাছে যাবে!

ডায়মন্ড হারবার শহরের প্রাণকেন্দ্র জনবহুল বাসট্যান্ডে প্রায় সারা বছর ধরেই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের সভা থাকে। সভায় মাইক ব্যবহার হয় ডায়মন্ড হারবার জেটিঘাট মোড় থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে কপাটহাট মোড় পর্যন্ত। ৬০টি চোঙা লাগানো হয় রাস্তার ধারে। সভাস্থলে চোঙা ছাড়াও থাকে বড় বড় সাউন্ডবক্স। শুধু বাসস্ট্যান্ডে নয় জেলা হাসপাতালের অদূরে রবীন্দ্রভবনে কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান থাকলে সেখানেও সারা রাস্তা জুড়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে চোঙের ব্যবহার হয়। রাজনৈতিক দল ছাড়াও মাইকের ব্যবহার হয় বিভিন্ন দোকানের বিজ্ঞাপনের কাজে। এ ছাড়া, শীতের মরসুমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার পুরনো কেল্লায়, বকখালি, নিউ বকখালি, সুন্দরবন এলাকায় ম্যাটাডরে বিকট শব্দে ডিজে বক্স লাগিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক বিয়েবাড়ি রয়েছে। বিয়ের মরসুমে ওই সব ভাড়া বাড়ি থেকেও বক্সের শব্দে তিতিবিরক্ত প্রতিবেশীরা। সব মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবার শহরের মানুষের কাছে মাইকের শব্দ সারা বছরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। সবই পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে। মাইকের শব্দ যে তাঁদের কানে ঢোকে না, তা-ও নয়।

জেটিঘাট মোড় থেকে কপাটহাট পর্যন্ত ওই দু’কিলোমিটার রাস্তার পাশে পড়ে ডায়মন্ড হারবার থানা, মহকুমা পুলিশ অফিস, ডায়মন্ড হারবার এসডিও অফিস ছাড়াও জেলা হাসপাতাল, একাধিক নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন অফিস কাছারি ও একাধিক স্কুল ছাড়াও কয়েকশো দোকান। মাইকের শব্দে কষ্ট সকলেরই। ডায়মন্ড হারবার স্টেশন মোড়ের এক দোকানির অভিযোগ, ‘‘বাড়ি সংলগ্ন দোকান। বাড়িতে বয়স্ক রোগী রয়েছে। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনই কোনও না কোনও কারণে গোটা দিন মাইক বাজছে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। কারণ, পুলিশকে জানালে এবং তা রাজনৈতিক নেতারা জানতে পারলে আর রক্ষে থাকবে না। ভয়ে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে চান না।’’ অনেকের আবার প্রশ্ন, এ নিয়ে আবার আলাদা করে অভিযোগ জানানোর কী আছে! কেউ তো কানে তুলো গুঁজে বসে নেই।

ডায়মন্ড হারবার সরিষা রামকৃষ্ণ মিশন সারদা মন্দিরের প্রধান শিক্ষিকা সর্বাণী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার স্কুলটি একেবারই জাতীয় সড়কের তিনমাথার মোড়ে। সপ্তাহের প্রায় সব দিনই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের সভা-মিছিল থাকেই। তাদের মাইকের ব্যবহারে আমার স্কুলের পঠনপাঠন ভীষণ ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার ধারে যে সমস্ত ক্লাসরুম রয়েছে, সেখানে মাইকের শব্দে পড়ানোই যায় না।’’ স্কুলের পাশের মাঠে মাইক বাজিয়ে নানা উৎসব, মেলা লেগেই থাকে। প্রধান শিক্ষিকার দাবি, ‘‘ক’দিন আগে চাকরি সংক্রান্ত পরীক্ষা ছিল স্কুলে। পাশের মাঠে ফুটবল প্রতিযোগিতায় মাইক ও বাজি ফাটানোর শব্দে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ি। তবে সব ক্ষেত্রে পুলিশকে বলা হয় না।’’

পুলিশ জানিয়েছে, জনবহুল এলাকায় মাইক ব্যবহারের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। যে কোনও রাজনৈতিক দলকে মাইক ব্যবহারের অনুমতি নিতে হলে তাদের তিন দিন আগে পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। মাইকের শব্দ ৬৫ ডেসিবলের বেশি কখনওই হবে না। শব্দ বেশি হলে তা ‘সাউন্ড লিমিটার’ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হতে পারে। তা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী জেল জরিমানা হতে পারে। সাধারণত কোনও রাজনৈতিক দলকে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় না। মাইক বাজানোর ক্ষেত্রে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও চোঙের সংখ্যা পরিমাণের অনুমোদন লাগে।

এ বিষয়ে ডায়মন্ড হারবার ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি দয়াময় মণ্ডল বলেন, ‘‘মাইকের দাপাদাপির বিষয়ে একাধিকবার আমরা পুলিশে দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয় না। ফলে দিনে দিনে মাইকের উৎপাত বেড়েই চলেছে।’’

ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার রমাপ্রসাদ রায় বলেন, ‘‘রাস্তার মাইকের শব্দ আমাদের হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে তেমন ভাবে

প্রভাব পড়ে না। তবে শব্দদূষণের

ফলে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাতে রক্তচাপ বাড়তে পারে,

বিরক্তি ভাব আসে ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয়।’’

ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক দেবময় চট্টোপাধ্যায় জানান, পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মাইকের ব্যবহার হয়। সে ক্ষেত্রে কেউ অনুমতি না নিয়ে মাইক বাজালে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে শব্দবিধি লঙ্ঘন করে মাইকের ব্যবহার করায় একাধিক ক্ষেত্রে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। সাধারণত মাধ্যমিক পরীক্ষার দু’দিন আগে থেকে মাইক চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। এ বার সরস্বতী পুজো মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগে পড়লেও এই নিয়ম

বহাল থাকবে।

Diamond Harbour MIC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy