গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অটো-টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়ানো ও যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজ্য সড়কে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ইঞ্জিন ভ্যান, টোটো ও অটো-সহ সমস্ত ছোট যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, মেলায় ভিড় সামলাতে এবং সড়কে নির্বিঘ্ন যাতায়াত বজায় রাখতেই এই নির্দেশ। ইতিমধ্যেই মাইকে প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।
সড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজ্য সড়কের দু'পাশে কোনও ইমারতি বা নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে চিহ্নিত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে রাস্তার দু’পাশে বসানো হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। ইতিমধ্যেই বিহার, পঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরের উদ্দেশে রওনা দিতে শুরু করেছেন। তার জেরে সড়কপথে বাস চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, ভিড় সামলাতে মেলার সময়ে চলাচলকারী সমস্ত বাসে ‘স্পিড মেকার’ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে বাস চলাচল করে। প্রতিটি বাসে থাকবেন এক জন করে ‘সাগর বন্ধু’। পুণ্যার্থীদের দিশা দেখানো থেকে শুরু করে প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা দেওয়াই হবে তাঁদের দায়িত্ব।
জলপথে নজরদারিও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। মুড়িগঙ্গা নদীতে চলাচলকারী সমস্ত ভেসেলে ইসরোর প্রযুক্তি মেনে জিপিএস ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে। ঘন কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাতে কোনও ভেসেল নির্দিষ্ট রুট থেকে বিপথে না যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা।
সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায় বলেন, ‘‘এই বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই সড়ক ও জলপথ— দু'দিকে বাড়তি নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ছোট যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিরাপত্তার স্বার্থেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)