বিধানসভা ভোটের আগে ফের প্রকাশ্যে বনগাঁয় বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মনস্পতি দেবের একাধিক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব, সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল।
কয়েক বছর আগে বিজেপি নেতৃত্ব সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলাদা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা গঠন করে। জেলার প্রথম সভাপতি করা হয় মনস্পতিকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তিনিই জেলার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ওই নির্বাচনে স্বরূপনগর কেন্দ্র বাদ দিয়ে বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, বাগদা, কল্যাণী এবং হরিনঘাটা— এই ছ’টি আসনেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। তবে নির্বাচনের কিছু দিন পরেই মনস্পতিকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মনস্পতি। একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘‘আমি বনগাঁ জেলার প্রথম সভাপতি। ৬টি বিধানসভা আসন জেতানোর কারণেই আজ কোনও পদে নেই। সব সিট যদি তৃণমূলকে ছেড়ে দিতাম, তা হলে পার্টিতে অনেক বড় দায়িত্ব পেতাম!’’
এখানেই থামেননি মনস্পতি, আর একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘‘বনগাঁ জেলায় আমাদের আদি বিজেপিদের মাথায় উঠে নাচছে তৃণমূল খেদানো চিটিংবাজেরা।’’ বাগদা প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ‘বাগদায় আদি বিজেপি কর্মীদের গলা টিপে ধরে রেখেছে কিছু তৎকাল বিজেপি।’’
মনস্পতি পরে বলেন, “আমার এখন কোনও পদ নেই। তাই কোনও দায়ও নেই।”
বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বর্তমান সভাপতি বিকাশ ঘোষের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘উনি অনেক দিন ধরেই স্নায়ুর অসুখে ভুগছেন। শুনেছি বাড়িতেও অশান্তি আছে।’’
বিকাশ ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মনস্পতি। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি তো হাঁটতেই পারি না। ৫০ জন মানুষ আমাকে ধরে হাঁটায়!”
বিজেপির এই কোন্দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “বিজেপি এখানে গোষ্ঠীকোন্দলে জর্জরিত একটা দল। মানুষের উন্নয়ন করে না, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে থাকে না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)