E-Paper

ভোটের আগে কড়া নিরাপত্তায় মুড়েছে উত্তরের সীমান্ত

যাত্রী চলাচলেও জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। মঙ্গলবার থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ যাতায়াত কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৩১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং একাধিক বিধি-নিষেধে পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্তে স্বাভাবিক জনজীবন অনেকটাই থমকে গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বনগাঁ মহকুমা সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে স্বাভাবিক পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছে। কেবলমাত্র পচনশীল পণ্য সীমিত আকারে দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করছে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “বুধবার রাত ১২টার পর থেকে পণ্য বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে।”

অন্য দিকে, যাত্রী চলাচলেও জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। মঙ্গলবার থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ যাতায়াত কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয়রা দেশে ফিরতে পেরেছেন এবং ভারতে থাকা বহু বাংলাদেশি নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন। তবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মঙ্গলবার পেট্রাপোল বন্দরে গিয়ে দেখা গেল, মানুষের ভিড়, ট্রাকের সারি ও পণ্য পরিবহণের ব্যস্ততা— সবই উধাও।সব নিস্তব্ধ। বন্ধ মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, হোটেল ও দোকানপাট। রাস্তায় দেখা নেই যানবাহনের।

বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।”

শুধু পেট্রাপোল নয়, বসিরহাট মহকুমার ঘোজাডাঙা-সহ বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকাতেও একই রকম কড়াকড়ি। স্বরূপনগরের তারালি, হাকিমপুর, বিথারি এবং সংলগ্ন গ্রামগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। উপকূলবর্তী হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালির নদীপথেও বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা। রায়মঙ্গল থেকে বিদ্যাধরী নদীপথ— সব জায়গাতেই চলছে বিশেষ নজরদারি।

ঘোজাডাঙা ও টাকি সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী চেকপোস্ট তৈরি করে সন্দেহভাজনদের উপরে নজর রাখা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তির সুর শোনা গিয়েছে। স্বরূপনগরের বিথারি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় দাস বলেন, “আগেও বহু ভোট দেখেছি, কিন্তু এ রকম নিরাপত্তা কোনও দিন দেখিনি।” টাকি ও ঘোজাডাঙা সংলগ্ন এলাকাতেও একই প্রতিক্রিয়া মিলেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

বসিরহাট মহকুমার পুলিশ সুপার অলোকনন্দা ভাওয়াল বলেন, “সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো নজর রাখছি। স্থল সীমান্তের পাশাপাশি জলপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

অতীতে ভোটের সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকলেও এবার সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangaon Basirhat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy