ছেলের বয়স বেশি মায়ের থেকে!
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এমন তথ্য তুলে ধরেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর দাবি, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার রামনগর পঞ্চায়েতের ২৬৪ নম্বর বুথের ৭৬ বছর বয়সি ভোটার আব্দুল মজিদ শেখের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তির বয়স বর্তমান ভোটার তালিকা (সিরিয়াল নম্বর ৩১৪) অনুযায়ী ৭৬ বছর, তা হলে ২০০২ সালের এসআইআর-এর সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও ভোটার হিসেবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তা নেই বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘আশ্চর্যের বিষয় হল (যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আর কোনও কিছুতেই আশ্চর্য লাগে না), উনি যাঁকে মা বলে চিহ্নিত করছেন, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা বিধানসভার ৫৫ নম্বর বুথের ৪০১ সিরিয়াল নম্বরের যছিমন শেখ। তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী বয়স, ৪২ বছর। ২০২৫ সালে মায়ের বর্তমান বয়স ৬৫ বছর আর ছেলের বয়স ৭৬ বছর! মা ছেলের থেকে ১১ বছরের ছোট! শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘‘আব্দুল মজিদ শেখ তাঁর তিন ছেলের ঠাকুমা হিসাবে যশিমনকে দেখিয়ে এসআইআর-এর ফর্ম জমা দিয়েছেন।’’
রামনগর পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের দখলে। উপপ্রধান বাসুদেব ঘোষ বলেন, "আব্দুল মজিদ শেখ আদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা হলেও রামনগরের বেড়ি এলাকায় প্রায় ৪৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। এখানে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই থাকেন। উনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। উনি বাংলাদেশি নন। যত দূর জানি, ওঁর নথিপত্র সব ঠিকঠাক আছে।’’
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মজিদের বাবার দুই বিয়ে। মজিদের নিজের মা মারা গেলে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। মজিদ সৎমাকে নিজের মা বলে দাবি করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। সে কারণে বয়সের গোলমাল হয়েছে। যদিও মজিদ তাঁরই ছেলে বলে দাবি করেছেন যছিমন।
গোসাবার বিডিও বিশ্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। আমাদের কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। এলে খতিয়ে দেখা হবে।”
শনিবার মজিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁর ছেলে সাবির হোসেন শেখ বলেন, ‘‘আমার বাবা -ঠাকুরদার জন্ম দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হলেও আমরা রামনগরে ৪৫ বছর ধরে মামার বাড়িতে থাকি। বাবা চিকিৎসার কারণে বাইরে আছেন। বাবার নাগরিক হিসেবে নথিপত্র সব ঠিক আছে। মায়ের বয়স ভুল হয়ে থাকতে পারে, আমাদের জানা নেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)