আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৬। যদিও সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। পাশাপাশি, ২৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া দেহাংশ কাদের, সেই পরিচয় নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার ডিএনএ ম্যাপিং শুরু হতে পারে। অন্য দিকে, গোটা এলাকায় জমায়েত রুখতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের দেহ মিলেছে। নিহতদের চিহ্নিত করার জন্য শুরু হতে পারে ডিএনএ ম্যাপিং। নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বুধবার মধ্যরাত থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (ভারতীয় দণ্ডবিধিতে যা ছিল ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় জমায়েত ও যাতায়াতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে ভস্মীভূত প্লাস্টিক ফুলের গুদামের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টিনের শেড উপড়ে ফেলে নিখোঁজদের দেহাংশ খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।
গত রবিবার রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, আগুন প্রথমে লাগে একটি ডেকরেটার্সের গুদামে। ওই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। রবিবার রাতে গঙ্গাধরের ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করেন, কেউ আবার সাজানোর কাজে যুক্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা কাজে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আগুন লাগার পর কয়েক জন বার হতে পারলেও অনেকেই আটকে পড়েন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে।
- দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
- রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন।
-
‘ছেলেকে পেলাম, ভাইকে পাব?’ প্রশ্ন আত্মীয়ের, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত ১৮টি দেহাংশ
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিন পর চিহ্নিত ১৬টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে, শনাক্তের অপেক্ষায় ৯ পরিবার!
-
হাতে হাতে ১০ লাখের চেক! এখনও প্রিয়জনের দেহাংশটুকু পেল না আনন্দপুরের আগুনে মৃতদের পরিবার
-
আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই জলাভূমিতে গুদামঘর? নাজিরাবাদ বিপর্যয়ের দায় কার
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের ৫০ হাজার