Advertisement
E-Paper

৬০ ঘণ্টা পর মুখ খুলল ওয়াও মোমো! আঙুল পাশের গুদামে অনিয়মের দিকে, মৃত ৩ কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

ঘটনার পর থেকেই ওয়াও মোমোর ভূমিকা, গুদামে তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে সংস্থাকে বয়কটের ডাকও দিয়েছেন। ৬০ ঘণ্টা পর সংস্থা এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২১
আনন্দপুরের দগ্ধ গুদাম নিয়ে ওয়াও মোমোর বিবৃতি।

আনন্দপুরের দগ্ধ গুদাম নিয়ে ওয়াও মোমোর বিবৃতি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওয়াও মোমো-র গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ৬০ ঘণ্টা পরে মুখ খুলল সংস্থা। ওয়াও মোমো-র তরফে বিবৃতি দিয়ে দায় চাপানো হল পাশের গুদামের দিকেই। অভিযোগ, রাতে সেখানে অননুমোদিত ভাবে রান্না করা হচ্ছিল। তা থেকেই আগুন লাগে, যা ওয়াও মোমো-র গুদামকে গ্রাস করে ফেলে। এই ঘটনায় সংস্থার তিন জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে ওয়াও মোমো। আজীবন দেওয়া হবে মাসিক বেতনও। কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

গত রবিবার মধ্যরাতে নাজিরাবাদের দু’টি গুদামে পর পর আগুন লেগে যায়। ভিতরে আটকে পড়েছিলেন রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় দীর্ঘ ক্ষণ পরে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১ জন। এ ছাড়াও তিনটি দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে ওয়াও মোমো-র গুদামের পিছন দিক থেকে। সেগুলি এক জনের না একাধিক ব্যক্তির, তা নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও মৃতের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। ঘটনার পর থেকেই ওয়াও মোমো-র ভূমিকা, গুদামে তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজমাধ্যমে অনেকে সংস্থাকে বয়কটের ডাকও দিয়েছেন। ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুরে ওয়াও মোমো এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পাশের গুদাম থেকে ২৬ জানুয়ারি ভোর ৩টে নাগাদ আগুন আমাদের গুদামে ছড়িয়ে পড়েছিল। আনন্দপুরে আমাদের একটি গুদাম এর ফলে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আমাদের দু’জন কর্মীর মৃত্যু এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। পাশের গুদামে অননুমোদিত ভাবে রান্নাবান্না চলছিল। সেখান থেকেই আগুন ছড়়িয়েছে। এই আগুন শুধু আমাদের কর্মীদেরই নয়, আমাদের সত্তাকেই গ্রাস করে নিয়েছে।’’

মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ। পরিবারগুলির আর্থিক নিশ্চয়তার দিকেও নজর রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা তিন জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। ওদের আশ্বাস দিয়েছি, প্রতি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সারাজীবনের জন্য প্রতি মাসে শোকাহত পরিবারকে বেতন দেওয়া হবে। প্রতি পরিবারের সন্তানের শিক্ষার খরচ আমরা বহন করব।’’ এই সংক্রান্ত তদন্তে প্রশাসনের সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

নাজিরাবাদের ধ্বংসস্তূপে এখনও কলকাতা পুরসভা এবং দমকল কাজ করছে। আগুন পুরোপুরি নিবে গিয়েছে। তবে সব জায়গায় পৌঁছোনো যায়নি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

Anandapur Wow Momo compensation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy