Advertisement
E-Paper

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিন পর চিহ্নিত ১৮টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে, শনাক্তের অপেক্ষায় ৯ পরিবার!

গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানার আনন্দপুরে পাশাপাশি দু’টি গুদামে আগুন লাগে। গুদামের ভিতরে ছিলেন বিভিন্ন জেলার শ্রমিক। কয়েক জন শেষ মুহূর্তে বেরোতে পারলেও, অনেকের পুড়ে মৃত্যু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৩
Anandapur Fire Incident

কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে উপস্থিত স্বজনহারারা। ছবি: সারমিন বেগম।

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পর ২৬ দিন কেটে গিয়েছে। শনিবার ২৭তম দিনে নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে মৃতদের পরিবারের হাতে। দেহাংশ নিতে কাঁটাপুকুর মর্গে উপস্থিত হন আত্মীয়-পরিজনেরা। এখনও ন’টি দেহাংশ চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়নি।

২৬ দিন আগে আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মোট ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, যে ১৮টি দেহাংশ শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এ ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। ওই ১৮টি পরিবারের হাতে দ্রুত মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে দেহাংশও দেওয়া হবে। সে জন্য শনিবার মর্গে উপস্থিত হয়েছেন মৃতদের পরিজনেরা।

অগ্নিকাণ্ডে পুত্র এবং ভাইকে হারিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা নিরঞ্জন মণ্ডল। ভাই গোবিন্দ মণ্ডলের বয়স ৩৯ বছর। পুত্র রামকৃষ্ণ মণ্ডল মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। কাকা-ভাইপো কাজ করতেন আনন্দপুরের গুদামে। শনিবার কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে নিরঞ্জন বলেন, ‘‘ছেলের ডিএনএ-র সঙ্গে নমুনা ‘ম্যাচ’ করেছে। কিন্তু ভাইয়ের সঙ্গে ‘ম্যাচ’ হয়নি।’’ যদিও ভাইয়ের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন প্রৌঢ়। আগামী ১৪ মার্চ ছেলে এবং ভাইয়ের শ্রাদ্ধশান্তির দিন ঠিক করে ফেলেছেন তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজ ৯টি দেহাংশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের পরিবারকে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, দেহাংশ শনাক্তের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানার আনন্দপুরে পাশাপাশি দু’টি গুদামে আগুন লাগে। গুদামের ভিতরে ছিলেন বিভিন্ন জেলার শ্রমিক। কয়েক জন শেষ মুহূর্তে বেরোতে পারলেও, অনেকের পুড়ে মৃত্যু হয়। প্রায় ৭২ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেগুলি দেখে পরিচয় চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল না। তাই ফরেনসিক বিভাগের সহযোগিতায় ডিএনএ ম্যাচ করার পথে হাঁটে পুলিশ। নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেহাংশের ময়নাতদন্তের পরে তা থেকেও নেওয়া হয় ডিএনএ নমুনা। ফরেনসিক বিভাগ দুই নমুনা মেলানোর কাজ করে।

আনন্দপুরের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। ভস্মীভূত গুদামের মধ্যে একটি ছিল ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার। তারা পৃথক ভাবে তাদের তিন কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। সম্প্রতি সেই সমস্ত পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক পৌঁছে গিয়েছে। কোথাও চেক দিয়েছেন জেলাশাসক, কোথাও স্থানীয় কোনও নেতা। তবে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ এল কেন, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Anandapur Fire Incident Narendrapur Police station
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy