পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও জানা যায়নি। কোনও রাজনৈতিক দল প্রার্থিতালিকা দেয়নি। আগেভাগে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়ে দিলেন, তিনি এ বার কোন কেন্দ্রে লড়বেন এবং কেন গত বারের কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যা দেখে এবং শুনে বিজেপির খোঁচা, ‘‘ভয় পেয়েছেন গৌতম।’’
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় দিন দুয়েক আগেই পোস্টার বিতর্কে বিজেপির অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছিল। শুক্রবার সেখানেই একটি সভা থেকে গত নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম জানালেন, এ বার আর চেনাজানা আসন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে নয়, তিনি লড়বেন জন্মভূমি শিলিগুড়ি থেকে। ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধানতলায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে গৌতমের ঘোষণা, ‘‘আমি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে দাঁড়াচ্ছি না (ভোটে)। প্রকাশ্যে বলে গেলাম। আমি আমার জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি।’’ মেয়র আরও বলেন, ‘‘ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে আমি যা কাজ করেছি, আমাদের সরকার যা কাজ করেছে, তা আগে হয়নি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে আমরা এখানে পরাজিত হয়েছি।’’ প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘আমার কিছু হয়নি। আমি পরে শিলিগুড়ির মেয়র হয়েছি। এতে আমার কিছু যায় আসেনি। তবে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির মানুষ বুঝতে পেরেছেন।’’
এখানেই শেষ নয়, গত বিধানসভা ভোটে ৩৫ হাজার ভোটে হেরে যাওয়া গৌতমের অভিমানী মন্তব্য, ‘‘এখানে কাজ করবে রাজ্য সরকার আর ভোটে জয় পাবে বিজেপি! এটা হতে পারে না।’’ পাশাপাশি ভোটারদের উপর ক্ষোভ উগরে বলেন, ‘‘এমন এক জন সাংসদ আর বিধায়ককে জয়ী করেছেন এখানকার মানুষ, যাঁরা কোনও কাজ করেননি।’’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ির মেয়র কোন আসনে লড়বেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে জেলা তৃণমূলের অন্দরে আলোচনা চলছে। মেয়রের জন্য কোন ‘পিচ’ ভাল হবে, সে জন্য কাজ করছিল সংগঠন। শেষমেশ রাখঢাক না-করে গৌতম ঘোষণা করে দিলেন, আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে নয়, শিলিগুড়ি বিধানসভা থেকেই লড়বেন।
গৌতমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘‘ইয়ে ডর মুঝে অচ্ছা লগা। গৌতম দেব বুঝে গিয়েছেন যে তিনি এ বারও দাঁড়ালে জয়ী হবেন না। তাই আগে থেকেই সরে যাচ্ছেন। মানুষ তাঁকে বর্জন করেছেন, সেটা উনি বুঝতে পেরেছেন।’’ শিখা আরও বলেন, ‘‘উনি মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া কিছু করেননি। ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিচ্ছিলেন এত দিন। এখন খেলার আগেই সরে দাঁড়ালেন কেন?’’
আরও পড়ুন:
বিধানসভা নির্বাচনের হারের পর শিলিগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৌতম পুর নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লড়াই করেছিলেন। জয়ী হয়ে শিলিগুড়ির মেয়র হন। এ বার শিলিগুড়ি বিধানসভা থেকে তিনি ভোটে দাঁড়ানোর কথা জানানোর পর সেখানকার বর্তমান বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘মানুষ বলছেন, এর আগে দিদির (শিখা) কাছে হেরেছেন, এ বার দাদার কাছে হারবেন৷’’
দুই বিধায়কের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আবার গৌতম বলেছেন, ‘‘তাঁদের চৈতন্যের উদয় হোক, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক৷’’