আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন তিনি? কার্শিয়াঙের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার তৃণমূলে যোগদান করার পরেই উঠেছে সেই প্রশ্ন। যে আসনে বিজেপির টিকিটে লড়ে তিনি গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, সেই আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হবে না বলে দাবি অনিতের দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম) নেতাদের একাংশ। তাঁদের কথায়, পাহাড়ে তৃণমূল সরাসরি লড়ে না। তাঁদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। কার্শিয়াঙের আসন বিজিপিএম ছাড়ছে না। তা হলে বিষ্ণু লড়বেন কোথায়? এ দিকে বিজেপি জানিয়েছে, বিষ্ণু দল ছাড়ায় আসন্ন নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।
বিজেপির টিকিটে লড়ে ভোটে জয়ী হলেও বিষ্ণুর মন্তব্যের জন্য একাধিক বার বিজেপি-কে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কখনওই কোনও পদক্ষেপ করেনি বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ রাজু বিস্তার বিরোধিতা করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন তিনি। বিজেপি বিধায়ক হয়েও বিভিন্ন সময়ে তাঁর মুখে শোনা যেত বিজেপি বা দলের সাংসদের বিরোধী কথা।
সেই বিষ্ণুই বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এ বার প্রশ্ন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কোন আসনে প্রার্থী হবেন? অনিতের দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বার পাহাড়ে তারা প্রার্থী দিতে চলেছে। দার্জিলিঙের পাশাপাশি কার্শিয়াঙেও। কালিম্পঙে প্রার্থী দেবে তারা এমনটাই দলীয় সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে বিষ্ণু কোথায় প্রার্থী হবেন?
আরও পড়ুন:
বিষ্ণুর এই দল বদলকে কেন্দ্র করে তেমন কোন মাথাব্যাথা নেই বিজেপির। দার্জিলিং জেলার (পাহাড়ের) বিজেপির সভাপতি কল্যান দেওয়ানকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘বিধায়ক হিসাবেও তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। পাহাড়ের রাজনীতিতে কোনও প্রভাবই পড়বে না।’’ তবে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিষ্ণুর ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘দলের বিধায়ক হয়েও তিনি তৃণমূলের মুখপাত্রের কাজ করছিলেন। যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নোটার থেকেও কম ভোট পেয়েছিলেন, তিনি তৃণমূলে যাওয়ার কোনও প্রভাবই পড়বে না। প্রভাবের প্রশ্নই উঠে না৷’’
ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নেতাদের একাংশ বলছেন, বিষ্ণুর যোগদান তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়! দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘‘আগে ও বিজেপির মাথাব্যথার কারণ ছিল। এখন তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। তবে তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা রয়েছে। কাজেই কার্শিয়াঙের প্রার্থী তাঁকে কোনও প্রকারেই করা হবে না। হয়তো সমতলে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু খুব একটা প্রভাব পড়বে বলে আমাদের মনে হয় না।’’