চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন বলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার অব্যবহিত পরে নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে ফোন করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার মধ্যেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নিয়ে বৈঠকে কড়া বার্তা সিইও দফতরের। সূত্রের খবর, বৈঠকে বেশ কয়েক জন ডিইও ‘স্ক্রুটিনি’-র জন্য সময় চেয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বার্তা দেন মনোজ।
শুক্রবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সিইও দফতর জানায়, আর ‘ছেলেখেলা’ বরদাস্ত করা হবে না। বকেয়া কাজ শেষ করতে হবে জলদি। ডিইও-দের সিইও-র নির্দেশ, ‘‘যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ শেষ করুন।’’ সঠিক সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করার দায়িত্ব যে তাঁদের উপর বর্তায়, সেটা ডিইও-দের পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।
যদিও তার পরেও অনেক জেলার ডিইও জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণ ভোটারের তথ্য ‘স্ক্রুটিনি’ করতে হচ্ছে। আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে তাঁদের। কমিশন সূত্রে খবর, নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় কোনও ত্রুটি না-রাখার লক্ষ্যে স্ক্রুটিনির জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে বৈঠকে ইঙ্গিত মিলেছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। পরে ‘অমীমাংসিত’ ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার নির্দেশ দিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কর্মরত জেলা বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের প্রত্যেক জেলায় নিয়োগ করে লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি (তথ্যগত অসঙ্গতি) সংক্রান্ত সব দাবি বা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজ়ার্ভার এবং রাজ্যের নিযুক্ত আধিকারিকেরা এই বিচারকদের সাহায্য করবেন। এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি-ই পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে।