পেট ফুলে উঠছিল। শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছিল। শরীরের অস্বস্তি নিয়ে কয়েক মাস আগে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তালতলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি এক মহিলা। অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে বার করা হয় প্রায় ১৪ ইঞ্চির (৩৬ সেন্টিমিটারের) টিউমার। পরে পরীক্ষা করে চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচার করে এত বড় মাপের টিউমার বার করা বেশ জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রাথমিক ভাবে বায়োপসির সময়ে এটিকে একটি সাধারণ টিউমার হিসাবেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটি একটি ‘মিক্সয়েড লাইপোসারকোমা’ (যা এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসার)।
কয়েক মাস আগেই মহিলা এমআরআই করিয়ে দেখেন, টিউমারটি আকারে প্রায় ৩৬.৫ সেন্টিমিটার বড় হয়ে গিয়েছে। যার জেরে তাঁর কিডনি এবং অগ্নাশয়ের উপর চাপ তৈরি হচ্ছিল। ওই সমস্যা নিয়ে তিনি এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর।
এনআরএসের অধ্যাপক দেবাশিস রায় এবং চিকিৎসক অনির্বাণ দাসের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি হয়। এ ছাড়াও চিকিৎসক দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায় এবং চিকিৎসক এনাক্ষী সাহা ছিলেন অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে। দলের এক চিকিৎসকের কথায়, বিশাল আকারের কারণে এই টিউমারটির অস্ত্রোপচার ছিল বেশ জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এটি অনেকটা ‘মাইনফিল্ডের’ মতো ছিল। অল্প ভুলে শরীরের রক্তনালি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খুব সূক্ষ্ম ভাবে কাজ করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অস্ত্রোপচারের পরেই মহিলাকে ৪৮ ঘণ্টা ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বেশ কিছু জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। সেলাই নিজে থেকেই কেটে যাচ্ছিল। ফলে আবার সেলাই করা হয়। প্রায় দু’সপ্তাহ হাসপাতালের সিসিইউ-তে ছিলেন মহিলা। অবশেষে শনিবার হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।