হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হচ্ছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ— এমন কোনও তথ্য সরকারের কাছে নেই। এমনটাই দাবি রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। যদিও বিরোধী বিধায়ক কুণালের দাবি, তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত ‘হার্ড কপি’ রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে বলে দাবি বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের।
শুক্রবারই জানা যায়, রাজ্য সরকারের তরফে বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য করা হয়েছে কুণালকে। বিধায়কও জানান, তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিরোধী দলের কোনও বিধায়ক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হচ্ছেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেও বেশি সময় লাগেনি। তবে এ বার অগ্নিমিত্রা দাবি করলেন, এমন কোনও তথ্য সরকারের কাছে নেই। মন্ত্রী বলেন, “বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, শিশু হাসপাতালে (রোগী কল্যাণ সমিতিতে) নাকি তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা যে মনোনীত কোনও নাম পাঠিয়েছি— বিষয়টি এমন নয়। আমরা দেখছি। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, সরকারের দিক থেকে কুণালবাবুর নাম আমরা পাঠাইনি।” উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে যাঁরা সরব হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কুণাল। দলের অন্দরে যাতে সকলে মন খুলে কথা বলতে পারেন, সেই দাবি তুলেছিলেন বিধায়ক। তৃণমূলের ‘আত্মবিশ্লেষণ নিয়ে সরব’ হওয়া এ হেন একজন বিধায়ককে সরকার পক্ষ রোগী কল্যাণ সমিতিতে জায়গা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অগ্নিমিত্রা এ বার দাবি করলেন, সরকারের তরফে কুণালের নাম মনোনীতই করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
যদিও অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যের পরে পাল্টা মুখ খুলেছেন কুণালও। মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমায় প্রথমে নিয়োগের কথা ফোন করে জানানো হয়। তার পর হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত নথি পাঠানো হয়। তার পরে আমার বাড়িতে এসে সেই সংক্রান্ত নথির ‘হার্ড কপি’ পৌঁছে দেওয়া হয়।” কুণাল আরও বলেন, “আমার মনে হয়েছিল বিরোধী বিধায়ককে রোগী কল্যাণ সমিতিতে যুক্ত করা সরকারের সদর্থক পদক্ষেপ। তাই আমি তা গ্রহণ করার কথা বলেছি। ওঁদের ক্ষমতা আছে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তার জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। তবে আমাকে যুক্ত করা হয়নি, এটা বলবেন না।”