আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হল। ওয়াও মোমোর সেই গুদামের ম্যানেজার এবং ডেপুটি ম্যানেজারকে বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শুক্রবারই বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মনোরঞ্জন শিট আনন্দপুরের গুদামে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। ডেপুটি ম্যানেজার ছিলেন রাজা চক্রবর্তী। দু’জনেই ওয়াও মোমোর কর্মী। গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে গুদামে যখন আগুন লাগল, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই গুদাম থেকে আগুন ছড়ায় ওয়াও মোমোর গুদামেও। রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। জোড়া গুদামের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬ জনের। যদিও সংবাদসংস্থা পিটিআই ২১টি দেহাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। সেগুলি শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ ম্যাপিং শুরু হয়েছে। পুলিশের খাতায় এখনও নিখোঁজ ২৮ জন। এই পরিস্থিতিতে ওয়াও মোমোর তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল, তাদের সংস্থার দু’জন কর্মী এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। ওই তিন জনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং সারাজীবন মাসিক বেতন দিয়ে যাবে সংস্থা। কিন্তু কেন তাদের গুদামের দায়িত্বে থাকা কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না, প্রশ্ন উঠেছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ওই গুদামের ম্যানেজার এবং ডেপুটি ম্যানেজার ধরা পড়লেন। কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, গুদামে অগ্নিনির্বাপণ বন্দোবস্ত কেমন ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়াও মোমো অবশ্য দাবি করেছে, পাশের গুদামে অননুমোদিত ভাবে রান্না করা হচ্ছিল। অসাবধানতায় সেখান থেকে আগুন ছড়িয়েছে। তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ।
আনন্দপুরের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া নিন্দা করেছেন। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ঢালাই ব্রিজে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ সেখানে শুভেন্দুর পৌঁছোনোর কথা। ঢালাই ব্রিজ থেকে মিছিল করে তাঁরা কামালগাজি মোড় পর্যন্ত যাবেন এবং থানায় ডেপুটেশন জমা দেবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে।
- দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
- রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন।
-
‘ছেলেকে পেলাম, ভাইকে পাব?’ প্রশ্ন আত্মীয়ের, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত ১৮টি দেহাংশ
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিন পর চিহ্নিত ১৬টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে, শনাক্তের অপেক্ষায় ৯ পরিবার!
-
হাতে হাতে ১০ লাখের চেক! এখনও প্রিয়জনের দেহাংশটুকু পেল না আনন্দপুরের আগুনে মৃতদের পরিবার
-
আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই জলাভূমিতে গুদামঘর? নাজিরাবাদ বিপর্যয়ের দায় কার
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের ৫০ হাজার