E-Paper

ইমারতি দ্রব্য মহার্ঘ্য, আবাসের ঘর তৈরিতে সমস্যা

হাজার প্রতি যে ইটের দাম ছিল ন’হাজার টাকা, তা বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে দশ হাজার টাকা।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাংলা আবাস যোজনায় প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে নতুন করে। ইতিমধ্যেই উপভোক্তারা নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কিন্তু ঘর করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন অনেকে। কারণ, আবাস যোজনার ঘরের টাকা পাওয়ায় রাতারাতি ইমারতি দ্রব্যের দাম বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। এই পরিস্থিতিতে ঘর তৈরি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক মানুষ।

সূত্রের খবর, হাজার প্রতি যে ইটের দাম ছিল ন’হাজার টাকা, তা বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে দশ হাজার টাকা। বালি ও স্টোনচিপ যেখানে ১০০ বর্গফুটের দাম ছিল ন’হাজার টাকা, তা বেড়ে হয়েছে দশ হাজার টাকা। অন্য দিকে, সিমেন্টেও বস্তা পিছু দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ টাকা। কিন্তু বাড়তি দাম দিতে চাইলেও বাসন্তী ব্লকে ইটের অভাব দেখা দিয়েছে। ভাটায় মাটির অভাবে ইট তৈরি হচ্ছে না বলে দাবি করছেন মালিকেরা। এমন পরিস্থিতিতে আবাস যোজনার ঘর তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় মানুষ।

বাসন্তীর এক ভাটা মালিক জয়দেব মণ্ডল বলেন, “আমরা মাটি পাচ্ছি না। সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আমরা ভাটার জন্য মাটি কাটি। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে এ বার ভাটার জন্য মাটি কাটতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ইট তৈরির কাজ থমকে রয়েছে। ইটের চাহিদা বেশি হলেও তা পূরণ করা যাচ্ছে না।”

স্থানীয় সূত্রের খবর, আশপাশের এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে মাটির গাড়ি চলাচল করলেও বাসন্তী থানা এলাকায় কোনও মাটির গাড়ি যেতে-আসতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশ-প্রশাসনের কড়াকড়িতে। ফলে মাটি কাটার অনুমতি থাকলেও সেই মাটি রাস্তা দিয়ে বহন করে ভাটা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসন্তী ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “সরকারি নির্দেশ মেনে মাটি কাটলে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে সেই মাটি গাড়ি করে রাস্তা দিয়ে ভাটায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে ভাটা মালিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য থানা এলাকায় মাটির গাড়ি তা হলে কী ভাবে চলছে?

প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ইটের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ। বাসন্তীর বাসিন্দা সূর্য সর্দার, নিবাস মণ্ডলেরা বলেন, “ঘর তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছি। কিন্তু জিনিসের যা দাম, তাতে জানি না কী ভাবে ঘর তৈরি হবে! আবার প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে সন্তোষজনক ভাবে ঘর তৈরি না করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও মিলবে না। আবাস যোজনার টাকার পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়ালে ঘর তৈরি অসমাপ্তই রয়ে যাবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসন্তী ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘এটা ঠিকই, গত কয়েক দিনে ইমারতি দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। আচমকাই চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে কালোবাজারি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Awas Yojana

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy