টেবিলে থরে থরে রাখা টাকার বান্ডিল। তার সামনে বসে তৃণমূল নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মহম্মদ গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল। পাশে কয়েক জন। রবিবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক বাধল। ঘটনার তদন্ত চেয়েছে বিজেপি।
গিয়াসউদ্দিন ভিডিয়োটির সত্যতা মেনে দাবি করেছেন, ‘‘পুরনো ভিডিয়ো। ২০২২ সালের। তখন জমির ব্যবসা করতাম। কাজীপাড়ার একটি ঘরে অন্যেরা ব্যবসায়িক লেনদেন করছিলেন। আমি শুধু পাশে বসে ছিলাম। তাতে আমার কোনও ভূমিকা ছিল না।’’
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, টেবিলে থরে থরে সাজানো টাকার সামনে বসে রয়েছেন গিয়াসউদ্দিন। তাঁর পাশে ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম। টাকার বান্ডিলে মুখ ঢেকে গিয়েছে রাকিবুলের। রাকিবুলকে ফোনে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘অনেকগুলো মডেল আছে, নগদ দেবে না ফাইনান্সে’? এর কিছুক্ষণ পরেই এক ব্যক্তি একটি বড় ব্যাগ নিয়ে হাজির হন এবং ওই ব্যাগে ভরা হয় টাকা।
গিয়াসউদ্দিনদের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, ভিডিয়োটি কে ক্যামেরাবন্দি করেছেন এবং কোন উদ্দেশ্যে ছড়িয়েছেন, তা খোঁজ করা হচ্ছে। রাকিবুল দাবি করেছেন, ‘‘জমি কেনাবেচার টাকা গোনা হচ্ছিল। ৩০ লক্ষের কিছু বেশি টাকা ছিল।’’ তবে, এই দাবির সত্যতা কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বারাসত ১ ব্লক তৃণমূল আহ্বায়ক ইশা হক সর্দার বলেন, ‘‘ভিডিয়োর সত্যতা ও দোষ প্রমাণিত হলে দলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথা থেকে এত টাকা এল, তা জানাতে হবে।’’
তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘‘গিয়াসউদ্দিন একজন জমি-মাফিয়া। ওর কাছ থেকে এই ধরনের টাকা পাওয়া স্বাভাবিক। আমরা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখেছি। আমরা চাই অবিলম্বে ইডি এর তদন্ত করুক, কেন্দ্রীয় সরকার এটা দেখুক।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)