Advertisement
E-Paper

চর্মশিল্প সঙ্কটে, কপালে ভাঁজ ব্যাগ-শ্রমিকদের

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত। বন্ধ আমদানি- রফতানি।

সামসুল হুদা 

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২০ ০২:১৪
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বন্ধ ব্যাগ তৈরির কারখানা। কাজ না থাকায় পকেটে টান পড়েছে ব্যাগের কারিগরদের। লকডাউন উঠে কবে চালু হবে ব্যাগ তৈরির কারখানা, সেই চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে ভাঙড়ে ব্যাগ-শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত। বন্ধ আমদানি- রফতানি। লকডাউনের জেরে তাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বানতলা চর্মনগরী। এই চর্মনগরীকে ঘিরে ভাঙড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় অধিকাংশ বাড়িতে চামড়ার মানিব্যাগ তৈরির কাজ হয়। কারখানায় কাজ করেন গ্রামের বেশির ভাগ যুবকই। লকডাউনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই সব কারখানা। বসে গিয়েছেন কয়েক হাজার যুবক। দু’বেলা-দু’মুঠো খাবারও জুটছে না অনেকের। অধিকাংশ বাড়িতে উনুন জ্বলছে না।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙ্গড় ১, ২ ও ক্যানিং ২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দশ হাজার বাড়িতে চামড়ার কাজ হয়। এক একটি ব্যাগ তৈরির কারখানায় প্রায় ৩০-৪০ জন করে যুবক দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। কেউ কেউ আবার ফুরনে ব্যাগ সেলাইয়ের কাজও করেন। কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়তে চলেছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

বাম আমলে বাসন্তী হাইওয়ে লাগোয়া বানতলায় তৈরি হয়েছিল এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই চর্মনগরী। এই মুহূর্তে এখানে ৬০০-র বেশি ছোট বড় চামড়ার কারখানা রয়েছে। তৈরি হয় ব্যাগ, বেল্ট, জুতো-সহ বিভিন্ন ধরনের চর্মনির্মিত জিনিস। চর্মনগরী থেকে ওই সব চামড়ার জিনিসপত্র বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানিতে রফতানি হয়। এর ফলে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাও ভারতে আসে। এই এলাকা তো বটেই, এমনকী আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষজনও এই কাজে যুক্ত। তাঁরা চামড়া, রেক্সিন, স্পঞ্জ, সুতো, চেন, বোতাম, বোর্ড-সহ চামড়ার ব্যাগ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ বাড়িতে কিনে এনে ব্যাগ তৈরি করে তা কারখানার মালিকদের কাছে পৌঁছে দেন। ভাঙড়ের এক ব্যাগ কারখানার মালিক সরিফুল মোল্লা বলেন, ‘‘চর্মনগরী থেকে ব্যাগ তৈরির উপকরণ নিয়ে এসে বাড়িতে ৩০-৪০ কারিগরকে দিয়ে ব্যাগ তৈরি করতাম। সব খরচ বাদ দিয়েও মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা থাকত। এখন সব কোম্পানি বন্ধ। কোনও উপকরণের সরবরাহ নেই। ফলে বাড়িতে কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তা ছাড়া কোম্পানির কাছেও বেশ কিছু টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। এ ভাবে চলতে থাকলে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।’’

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করেছে। ভাঙড়ে চর্মশিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা অবশ্য সরকারি কোনও আর্থিক সাহায্য পাননি। এ জন্য তাঁরা দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন।ব্যাগ-শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর বাপি শেখ বলেন, ‘‘দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে ব্যাগ তৈরির কাজ করতাম। গ্রামে সব কারখানা বন্ধ। জমানো টাকা শেষ। সংসার চালানো দায়। এখন কোনও দোকানদার ধারে মাল দিতে চাইছেন না। যা পরিস্থিতি, তাতে না খেয়ে মরতে হবে।’’ ভাঙড় ২-এর বিডিও কৌশিককুমার মাইতি বলেন, ‘‘আমার ব্লক এলাকায় বেশ কিছু চামড়ার ব্যাগ তৈরির কারখানা রয়েছে। ওই সব কারখানার কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন বলে শুনেছি। তবে খাওয়ার অসুবিধা হবে না। আমরা সরকারি ভাবে বিভিন্ন এলাকায় খাবার সরবরাহ করছি।’’

বারুইপুরের মহকুমা শাসক দেবারতি সরকার বলেন, ‘‘অসংগঠিত শ্রমিকদের আর্থিক অনুদানের জন্য সরকারি কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে ইতিমধ্যে আমরা ওই শ্রমিকদের কথা ভেবে শ্রম দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সরকারি নির্দেশিকা পেলে পরে সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’’

Coronavirus Health, Coronavirus Lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy