Advertisement
E-Paper

স্ত্রী নোটিস পেয়েছেন বলে গলায় দড়ি! পুত্রকে ডাকায় হৃদ্‌রোগ, তিন জেলায় মৃত তিন, পরিবার দুষছে এসআইআর-কে

আব্দুর কর্মসূত্রে ভিন্‌রাজ্যে থাকেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এসআইআরের শুনানিতে আসতে পারবেন না জেনে ছোয়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আতঙ্কে অসুস্থ হয়েছে পড়েন ৬২ বছরের বৃদ্ধ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১২

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

রাজ্যের তিন জেলা উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদে তিন জনের মৃত্যু হল। দু’জন আত্মহত্যা করেছেন। এক জন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। পরিবারের দাবি, এসআইআর ‘আতঙ্ক’-ই তাঁদের মৃত্যুর কারণ।

উত্তর ২৪ পরগনা

পুত্র আবদুর রহমান এবং কন্যা আনজুরা বিবিকে এসআইআরের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে ছোয়েদ শেখের। হিঙ্গলগঞ্জের মামুদপুরের ১০৩ নম্বর বুথের ঘটনা। আব্দুর কর্মসূত্রে ভিন্‌রাজ্যে থাকেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এসআইআরের শুনানিতে আসতে পারবেন না জেনে ছোয়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আতঙ্কে অসুস্থ হয়েছে পড়েন ৬২ বছরের বৃদ্ধ। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের কন্যা আনজুরা বলেন, ‘‘আমার ও আমার ভাইয়ের শুনানির নোটিস এসেছে। আমার ভাই ভিন্‌রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সোমবার আমাদের শুনানির তারিখ ছিল। ভাই না আসতে পারায় বাবা বেশ কয়েক দিন ধরে খুবই চিন্তা করছিলেন। আমরা বাবাকে বুঝিয়েছিলাম। এসআইআরের আতঙ্কে বাবার মৃত্যু হল।’’

মুর্শিদাবাদ

নামের গরমিল থাকায় দু’দিন আগেই নোটিস এসেছে স্ত্রীর নামে। পরিবারের দাবি, তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্বামী। আতঙ্কের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানা এলাকার ফিজুর খান। তড়িঘড়ি ৫৪ বছরের প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত দু’দিন আগে। ফিজুরের স্ত্রী পারভিনা বিবির নামে এসআইআরের শুনানির নোটিস আসে। নথিতে নামের বানানে বা তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, ফিজুরের মনে হয়, তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রবিবার গভীর রাতে নিজের শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দেন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও হয়নি শেষরক্ষা।

স্থানীয় বিডিও দেবব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি মেটানো একটি সাধারণ প্রক্রিয়া মাত্র। এর সঙ্গে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার যোগ নেই। তবে সচেতনতার অভাব এবং পুরনো আতঙ্কই এই মর্মান্তিক পরিণতির অনুঘটক হয়ে কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে।’’

বীরভূম

বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আত্মঘাতী জনি শেখ। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই চরম পদক্ষেপ করেছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনে জল বিক্রি করতেন জনি। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তিনি মাঝেমাঝে মদ্যপান করতেন। রেলের জমিতে তাঁরা বসবাস করতেন। তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। মা কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকেন। রামপুরহাটে মামার মেয়ের বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করতেন জনি। রবিবার দুপুরে তিনি ভাত খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। রাতেও দরজা না খোলায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বন্ধ দরজা ভেঙে জনিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এলাকার বাসিন্দারা। পরিবারের দাবি, ওই ওয়ার্ড ১৭১ জনকে শুনানির নোটিস দিয়েছে কমিশন। তিনিও শুনানি নোটিস পেতে পারেন বলে আতঙ্কে ছিলেন। সেই কারণে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy