হাজার ছুঁই ছুঁই রান্নার গ্যাস। দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন না প্রান্তিক মানুষজন। দুই জেলার নিম্নবিত্ত বহু গৃহস্থের হেঁসেলেই গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফিরে এসেছে কাঠ বা কয়লার উনুন।
মগরাহাটের বাসিন্দা আব্দুল সুকুর ফকির দিনমজুর। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ৮ জনের সংসার। ক’দিন হল বাধ্য হয়েছেন গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে দিতে। কাঠ-খড়কুটো জোগাড় করেই রান্নাবান্না হচ্ছে। সুকুর বলেন, “লকডাউনের জন্য কাজ কমে গিয়েছে। তার উপরে জিনিসপত্রের চড়া দাম। গ্যাসের দাম ন’শো টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এত দামে গ্যাস কেনার ক্ষমতা নেই।” গত এক বছরে কেরোসিনের দামও খোলা বাজারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানা েগল। এক বছর আগে যেখানে দাম ছিল ৫০-৬০ টাকা, এখন তা হয়েছে প্রায় ৭০ টাকা।
একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন ক্যানিংয়ের বাসিন্দা সুবল মণ্ডল। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন তিনিও। সুবল বলেন, “করোনার জন্য বেতন কমেছে। এ দিকে, গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। বাধ্য হয়ে আর গ্যাস নিচ্ছি না। গুল, ঘুঁটে, কাঠ-পাতা দিয়েই কোনও রকমে চলছে। গ্যাসে রান্না যে আমাদের জন্য নয়, সেটা বুঝতে পারছি। গ্যাস সিলিন্ডার এখন আমাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে গিয়েছে।”
পুরোপুরি বন্ধ না করলেও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। কেউ গ্যাস-কাঠ মিলিয়ে রান্না করছেন। হিঙ্গলগঞ্জের বেলতলার বাসিন্দা হালিমা খাতুন জানান, আগে একটা সিলিন্ডারে দেড় মাস চলত। এখন দাম বাড়ায় সেটাই টেনেটুনে দু’আড়াই মাস চালাতে হচ্ছে। হালিমা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। বাড়ি থেকে কাজের জায়গায় দূরত্ব অনেকটাই। তাঁর কথায়, “কাজ সামলে কাঠে রান্না করা সম্ভব নয়। গ্যাসেই করছি। কিন্তু যে ভাবে দাম বেড়েছে, অনেক মেপে গ্যাস খরচ করতে হচ্ছে। আগে দু’টো তরকারি রান্না হলে এখন একটা রাঁধছি। আগে রাতে ফিরে খাবার গরম করে খেতাম। এখন আর গরম করি না।”
বনগাঁর জয়পুর এলাকার বাসিন্দা গাড়ি চালক নয়নকৃষ্ণ হাজরার পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। বাড়িতে রোজগেরে বলতে নয়ন একাই। জানালেন, এক মাসে দু’টি গ্যাস সিলিন্ডার লাগত। দাম বাড়ায় আপাতত মাসে একটির বেশি সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য নেই। কাঠের উনুনে রান্না শুরু হয়েছে।
গ্যাসের চাহিদা যে কমেছে, তা মেনে নিচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটাররাও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ডিস্ট্রিবিউটার বলেন, “অনেকেই নতুন করে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরছেন না। অনেকে আবার আগের তুলনায় কম গ্যাস নিচ্ছেন।”